
শেষ আপডেট: 19 February 2024 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আপনার অজান্তেই আপনার শরীরে কী ক্ষতি ডেকে এনেছে জানেন? আপনার অগোচরেই ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষয় ধরিয়ে দিয়েছে করোনা। আমাদের অনেককেই অতিমারীতে আক্রান্ত হতে হয়েছে। তিন দফায় কোনও না কোনও একবার নিভৃতবাসের কাটাতে হয়নি, এমন মানুষ মেলা ভার। লক্ষ লক্ষ মৃত্যু, প্রিয়জনের অকালে চলে যাওয়া চোখের সামনে ঘটেছে। কিন্তু, তারপরেও কোভিড রেখে গিয়েছে ভয়ঙ্কর দাগ। আর তা হল, আমাদের ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে দিয়েছে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কোভিড-উত্তরকালে কমবেশি সকলেই ফুসফুসের নানান সমস্যায় জর্জরিত। তার থেকেও মারাত্মক, ভারতে এর পরিমাণ সর্বোচ্চ। আঁতকে উঠলেও সত্যি, ভারতীয়রাই কোভিড-পরবর্তী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সব থেকে বেশি।
ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো আরও তথ্য দিয়েছে সমীক্ষা। আর সেটা হল, কেউ কেউ বছরখানেক ধরে ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। টানা চিকিৎসাতেও ফল মিলছে না। ডাক্তারের কাছে গিয়ে দফায় দফায় অ্যান্টিবায়োটিক, কাফ সিরাপ গিলেও আরাম পাচ্ছেন না। আপনার জানা নেই, এটার রক্তবীজ রয়েছে করোনা ভাইরাসে।
এ তো গেল, সাময়িকভাবে যারা ভুগছেন তাঁদের কথা। সমীক্ষা দেখাচ্ছে, যাঁরা একটু বেশি মাত্রায় কোভিডে ভুগেছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে আরও খারাপ তথ্য। গবেষণা বলছে, এ ধরনের মানুষ আজীবনকালের জন্য ফুসফুসের নানান ব্যাধিতে বছরভর ভুগতে পারেন। এককথায় কোভিড তাঁদের ফুসফুসের চিরস্থায়ী ক্ষতি করে দিয়েছে। অতএব, কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই মুহূর্তে সাবধান হয়ে যান।
কোভিডের জন্ম চিনে হলেও চিনা কিংবা ইউরোপীয় এবং মার্কিনদের ফুসফুসে তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি বলে সমীক্ষা জানাচ্ছে। তুলনায় ভারতীয়দের মধ্যে এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি। কোভিড ১৯-এর প্রভাব নিয়ে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ সম্প্রতি এক গবেষণা করে। তাদের বিষয় ছিল, ভারতীয়দের জীবনযাত্রায় এবং ফুসফুসে করোনার ক্ষতিকর প্রভাব।
সমীক্ষায় প্রকাশ, ইউরোপীয় এবং চিনের আক্রান্তদের তুলনায় ভারতীয়দের মধ্যে কোভিডের ফলে ফুসফুস অনেক বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণ হিসেবে দেখা গিয়েছে, কোভিডে ক্ষতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগব্যাধিতে ভারতীয়রা ভুগতে থাকায় ফুসফুসের শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমছে।
গবেষণার জন্য কোভিড থেকে সেরে ওঠার ২ মাস পর রোগীদের ফুসফুসের ও রক্ত পরীক্ষা, ছয় মিনিট হাঁটা এবং জীবনপ্রণালির বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। যাঁরা মৃদু, মধ্যম এবং মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁদের গবেষণার কাজে নেওয়া হয়েছিল।
এই পরীক্ষায় সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গ্যাস ট্রান্সফার টেস্ট। অর্থাৎ প্রশ্বাসের বায়ু থেকে অক্সিজেন রক্তে সঞ্চালিত করার শতাংশের পরিমাণ। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তা ৪৪ শতাংশ, গবেষকদের মতে যা খুবই উদ্বেগজনক। আশঙ্কার বিষয় হল, প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষের সামান্য হলেও কিছু না কিছু ক্ষতি হয়েছে। ফুসফুসে বাতাস গ্রহণ ও নিঃসরণজনিত বাধা তৈরি হয়েছে ৮.৩ শতাংশের।