
প্রতীকী ছবি - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 20 March 2025 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেলফ কেয়ারের নতুন যে কোনও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসামাত্র সেটা ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগে না। কারণ একটাই ট্রেন্ডে ভেসে গিয়ে নিজেকে আরও একটু সুন্দর করে মেলে ধরা। ব্রণ (Acne) আজকের দিনে এমন এক বাড়তে থাকা নাছোড়বান্দা সমস্যা, যেখানে সমাধানের খোঁজ তাই সেখানেই ভিড়। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নতুন পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, কাঁচা আদা (Raw ginger) ব্রণর জায়গায় সরাসরি লাগালে তা নাকি এই সমস্যা এক্কেবারে কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায়, আদতে কি কাজ দেয় এই ট্রিক?
View this post on Instagram
অনলাইনে প্রায়শই দেখা যায় কেউ না কেউ বলছে, স্কিন কেয়ার মোটেও কোনও বিশাল আহামরি জিনিস নয়। খুব বেশি টাকা খরচ করতে না চাইলে ঘরোয়া উপায়েও খুব কম সময়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। কাঁচা আদা সরাসরি ত্বকে (Rubbing raw ginger on acne) লাগানো তেমনই একটা হ্যাক। কিন্তু এর বিজ্ঞানসম্মত কোনও ব্যাখা কি আছে?
বিশেষজ্ঞের কী মতামত এই ট্রেন্ড নিয়ে?
একটা কথা প্রথমেই মাথায় রাখা উচিত, প্রাকৃতিক মানেই যে কোনও উপাদান ত্বকের জন্য নিরাপদ নয়। যদি সেই উপাদান কাঁচা আর জলে মিশিয়ে পাতলা না করে নেওয়া হয় ব্যবহারের আগে, তাহলে বরং হিতে বিপরীত হতে পারে।
কায়া লিমিটেডের ডার্মাটোলজিস্ট ও মেডিক্যাল অ্যাডভাইজর ডক্টর সরণ্যা বি জানান, ‘কাঁচা আদা মুখে ঘষলে সেটা ব্রণর জন্য উপকারী হবে এমন তথ্যের কোনও বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ থাকলেও, সরাসরি ত্বকে লাগালে ইরিটেশন হতে পারে।
স্কিন স্মার্ট সলিউশনসের ফাউন্ডার ও চিফ ডার্মাটোলজিস্ট ডক্টর বিন্দু স্থালেকরও সহমত। তিনি আরও জানান, ‘ওষুধের সঙ্গে যদি আদা ব্যবহার করা হয়ও, তাহলেও আগে এটা দেখা উচিত ত্বকের তেমন সহ্যক্ষমতা আদৌ আছে কি না।’
কীভাবে আদা ব্যবহার করা যেতে পারে ব্রণভরা ত্বকের যত্নে?
আদা ব্রণ কমাতে কোনও সাহায্য করে না এমনটা বলা যায় না কিন্তু দেখার বিষয় এটা যে, আদা ত্বকের যত্নে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদা চা যেমন ভেতর থেকে ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে। খুব নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে আদার নির্যাসযুক্ত স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি না তার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়।
বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই ত্বকের যত্নে আদা ওরালি কনজিউম করা কথা সাজেস্ট করেন। ব্রণ হওয়ার নেপথ্যে একাধিক ফ্যাক্টর একসঙ্গে কাজ করে, তাই ত্বকের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করে। সেই জন্যই ফেলে না রেখে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রথমে মেডিক্যালি ট্রিটমেন্ট শুরু করা উচিত।