
শেষ আপডেট: 25 November 2023 23:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক নিম্নচাপের জেরে নাভিশ্বাস উঠছে। কখও বৃষ্টি, আবার কখনও রোদ। আবহাওয়ার ভোলবদলে নানা অসুখবিসুখ বাড়ছে। নিকাশি নালার নোংরা জল, নদী-পুকুরের জলের সঙ্গে বর্ষার জমা জল মিশে রোগভোগের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভাইরাল জ্বর হানা দিয়েছে। শিশুদের অসুস্থতা বাড়ছে। জলবাহিত হয়ে পেটের নানা অসুখ হানা দিচ্ছে ইদানীংকালে।
পরিচ্ছন্নতার অভাবও অসুখের অন্যতম কারণ। এই সময় পোকা-মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে। খাবারের উপর বসে জীবাণু ছড়ায়। তার ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে খাদ্যনালীতে সংক্রমণ ছড়ায়।
গ্রামগঞ্জে পানীয় জলের এমনিতেও সমস্যা রয়েছে অনেক জায়গায়। নদী ও পুকুরের নোংরা জল ব্যবহার করা হয় এখনও। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলে অনেকসময়ই নিয়মমাফিক টিউবওয়েল বসানো হয় না। জনসাধারণের জন্য যে টিউবয়েলগুলি বসানো হয় সেগুলি আসলে খোঁড়া উচিত ভূগর্ভের অন্তত দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ প্রায় ২০০ ফুট গভীরতা অবধি। এই বিধি মানা হয় না অনেক জায়গাতেই, ফলে পরিষ্কার পানীয় জল মেলে না। অপরিশুদ্ধ জল পান করলে বা রান্নায় সেই জল ব্যবহার করলে নানা ধরনের সংক্রামক ব্যধি হয়ে থাকে, যাকে জলবাহিত রোগ বলে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবাহিত রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের আধিক্য বেশি। কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগ নোংরা, অপরিষ্কার জল থেকেই হয়। এখন শহরাঞ্চলেও জলবাহিত নানা রোগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় পেটের রোগ (waterborne diseases) একটি অন্যতম সমস্যা। এ সমস্যা হলেই আগেই চিকিৎসকের কাছে যান। তার পরামর্শ নিয়ে কাজ করুন। কারণ, অযথা রোগ ফেলে রাখলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। সাধারণত এই সময় ইঁদুর, ছুঁচো বা বেজি ইত্যাদি প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ থেকেও রোগ ছড়ায়।
সাধারণত এই সব প্রাণীরা মাটিতেই তাদের বর্জ্য ত্যাগ করে। বর্ষার সময় তা জলে মিশে যায়। ফলে জমে থাকা জল থেকেই এই রোগ বেশি ছড়ায়। পায়ের ফাটা অংশ বা কাটাছেঁড়ার জায়গা দিয়েই এই জল শরীরে প্রবেশ করে। ফলে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। তাই যদি জমা জলের ওপর দিয়ে কোথাও যেতে হয়, তা হলে খালি পায়ে নয়, জুতো পরেই জল পারাপার করুন। জমা জল যত এড়িয়ে চলা যায় ততই ভাল।
জল বাহিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে সাঙ্ঘাতিক হল কলেরা। আগে গ্রামের পর গ্রাম মহামারী লেগে যেত। এর কারণ হল অনেক জায়গাতেই যে পুকুরে স্নান করা হয়, কাপড় কাচা হয়, বাসন মাজা হয় সেই পুকুরের জলই পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বেসিলারি ও এমিবয়েড নামক দু’রকমের জীবাণুর সংক্রমণে হয় আমাশয়। রোগের সংক্রমণের জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, বাড়াবাড়ি হলে মলের সঙ্গে রক্তপাত হয়।
জলবাহিত রোগের মধ্যে পড়ে টাইফয়েডও। সালমানেলা টাইফি নামক এক প্রকার জীবাণু সংক্রমণে এই রোগ হয়। মানুষের মল মূত্র কফের মধ্যে এই রোগের জীবাণু থাকে। দূষিত জল থেকে জীবাণু ছড়ায়।
পেটের রোগ ঠেকাতে কী করবেন
বেশি জাঙ্ক ফুড বা ভাজাভুজি না খাওয়াই ভাল। আর্দ্র আবহাওয়ায় বিপাকের ক্ষমতা কমে যায়। এইসময় বেশি তেলমশলাদার খাবার খেলে বদহজম হতে পারে, তার থেকে পেটের রোগ দেখা দিতে পারে।
কাঁচা শাকসবজি খাবেন না, কারণ ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে। বাইরে থেকে ফল কিনে এনে খেলে ভাল করে ধুয়ে নিন। শাকসব্জি ভাল করে সিদ্ধ করে রান্না করুন।
বেশি করে জল খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সুষম খাবার বা ব্যালান্সড ডায়েট মেনে চলুন। খাওয়ার আগে ভাল করে হাত ধুয়ে নেবেন। করোনা কালে ঘন ঘন হাত দুতে, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলছেন ডাক্তাররা।
এখন নানারকম ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তাই সবদিক থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান, এতে শরীরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ঢুকবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। ভিটামিন সি খেলে রোগজীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে। লেবু জাতীয় ফল, পেয়ারা বেশি করে খান। খাবারে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকলে ভাল। রেড মিটের বদলে লিন মিট বেশি করে খান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত উষ্ণ গরম জল খেলে ফুসফুস ভাল থাকে। গলা ও ফুসফুসে জীবাণু বাসা বাঁধলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। নিয়মিত উষ্ণ গরম জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন গ্রিন-টি খান। গ্রিন-টি তে শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়ে, হজমের সমস্যা কমে, টক্সিন দূর হয়।