ওজন কমানোর পথে কার্ব মানেই যেন ‘মোটা হওয়ার এক বিপজ্জনক রাস্তা’। কিন্তু ব্যাপারটা এত সরল নয়।

শেষ আপডেট: 19 July 2025 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমাতে গেলে সবচেয়ে আগে নজরে পড়ে ডায়েট। আর সেই তালিকা থেকে প্রথমেই বাদ পড়ে কার্বোহাইড্রেট বা কার্বস। পাতে বেশি জায়গা পায় প্রোটিন, আর কার্ব মানেই যেন ‘মোটা হওয়ার এক বিপজ্জনক রাস্তা’। কিন্তু ব্যাপারটা এত সরল নয়।
কার্বোহাইড্রেটও শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট, যার মূল কাজই হল শরীরকে শক্তি জোগানো। কাজেই একেবারে কার্ব বন্ধ করে দেওয়া মানে নিজেকেই বিপদে ফেলা - এমনটাই বলছেন কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের স্পোর্টস নিউট্রিশনিস্ট পূজা উদেশি।
‘লো কার্ব’ ট্রেন্ডে কী কী ঝুঁকি লুকিয়ে আছে?
এক সাক্ষাৎকারে পূজা বলেন, ‘ওজন কমাতে অনেকেই এখন কার্ব পুরোপুরি বাদ দিচ্ছেন। প্রথমদিকে ওজন কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে শরীরের উপর। কার্ব নিজে খারাপ নয়, খারাপ হয় যখন আপনি ভুল ধরনের বা মাত্রাতিরিক্ত কার্ব খান।’
তিনি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, কার্ব বাদ দিলে শরীরের ওপর ৫ ধরনের বড় প্রভাব দেখা দিতে পারে:
১) ব্রেন ফগ, ক্লান্তি আর মেজাজ খারাপ
কার্ব হচ্ছে ব্রেনের প্রধান জ্বালানি। ডায়েট থেকে কার্ব বাদ দিলে গ্লুকোজের অভাবে ‘ব্রেন ফগ’ দেখা দেয়। ঝিমুনি, মনোযোগ কমে যাওয়া, বিরক্তি আর ক্লান্তি চলে আসে। কারও কারও শরীর সেটা মানিয়ে নিতে পারে, কিন্তু সেটা সবার জন্য টেকসই নয়।
২) হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য
ফাইবার আসে মূলত কার্ব-সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডাল, শস্য, ফলমূল ও সবজি থেকে। এগুলি আমাদের পেটে থাকা ভাল ব্যাকটেরিয়ার খেয়াল রাখে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কার্ব কম খেলে ফাইবারের ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, গাট হেলথ নষ্ট হয়।
৩) সঠিক পুষ্টির ঘাটতি
ডায়েট থেকে কার্বযুক্ত খাবার বাদ দিলে ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে মহিলা, বয়স্করা ও যাঁদের অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঘাটতি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হরমোন ব্যালেন্স নষ্ট করে দিতে পারে।
৪) আবার ফিরে আসে ওজন
শুরুর দিকে খুব কম কার্ব খেলে ওজন হঠাৎ কমে যায়, মূলত জল ও গ্লাইকোজেনের ঘাটতির কারণে। কিন্তু পরে শরীর এতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, খিদের অনুভূতি বাড়ে। তখন দেখা যায় আবার আগের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলছেন, এবং ওজন ফিরে আসছে।
৫) হৃদরোগ ও মানসিক অবসাদের আশঙ্কা
যখন স্বাস্থ্যকর কার্ব বাদ দিয়ে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা প্রোটিন-রিচ খাবার খাওয়া হয়, তখন কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। কার্ব কম খাওয়ায় কমে যায় সেরোটোনিন, যার সঙ্গে মুড সুইং বা অবসাদের যোগ রয়েছে।
তাহলে সমাধান কী?
পুষ্টিবিদ পূজার পরামর্শ, ‘কার্বকে শত্রু না ভেবে সঠিক পরিমাণে, সঠিক ধরনের কার্ব খান। যেমন—ওটস, ব্রাউন রাইস, প্রচুর পরিমানে শাকসবজি, ফল ইত্যাদি। এগুলি লিন প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঙ্গে খেলে রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় থাকে।”