কোলন ক্যানসারে প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই কোনও পারিবারিক ইতিহাস থাকে না। অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষই আগে থেকে বুঝতে পারেন না যে তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার একাধিক কারণ এই ক্যানসার বৃদ্ধির পিছনে দায়ী

বাড়ছে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি
শেষ আপডেট: 25 March 2026 16:32
দ্য ওয়াল আরোগ্য ব্যুরো: মার্চ মাস জুড়েই চলে Colon Cancer Awareness Month। আর এই সময়েই সামনে এল এক উদ্বেগজনক তথ্য। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (Journal of the American Medical Association)-এ প্রকাশিত এক গবেষণা জানাচ্ছে, ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন কোলোরেক্টাল বা কোলন ক্যানসার (Colon Cancer)।
আমেরিকান ক্যানসার সোস্যাইটি (American Cancer Society)-র তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ হারে বাড়ছে এই ক্যানসারের প্রকোপ। পরিসংখ্যান বলছে, জীবদ্দশায় প্রতি ২৪ জনে একজনের কোলন ক্যানসার হতে পারে এবং বছরে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, এই রোগের প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই কোনও পারিবারিক ইতিহাস থাকে না। অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষই আগে থেকে বুঝতে পারেন না যে তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার একাধিক কারণ এই বৃদ্ধির পিছনে দায়ী— অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ধূমপান, অ্যালকোহল, কম শারীরিক পরিশ্রম, স্থূলতা এবং নানা ধরনের মেটাবলিক সমস্যা। গবেষণায় আরও জানা গেছে, ১৯৯০ সালের কাছাকাছি জন্ম নেওয়া প্রজন্মের মধ্যে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি দ্বিগুণ এবং রেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি চারগুণ বেশি, তুলনায় ১৯৫০-এর দশকের প্রজন্মের।
কোলোনোস্কোপি: কেন এত জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, কোলন ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল সময়মতো স্ক্রিনিং, আর তার মধ্যে কোলোনোস্কোপিকেই ধরা হয় ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’। কারণ এই পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু রোগ ধরা পড়ে না, প্রি-ক্যানসারাস পলিপ থাকলে তা একই সঙ্গে সরিয়েও দেওয়া যায়। সাধারণ ঝুঁকির ক্ষেত্রে ৪৫ বছর বয়স থেকেই এই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল, যাঁদের এই পরীক্ষা করানো উচিত, তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তা করান না। ফলে কোনও উপসর্গ ছাড়াই অনেক সময় রোগ নীরবে বাড়তে থাকে এবং পরে ধরা পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।
উপসর্গ থাকলে অবহেলা নয়—
তাই কিছু উপসর্গ কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, দীর্ঘদিন পেটব্যথা, রক্তাল্পতা বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া— এসবই সতর্কবার্তা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই রক্তপাতকে পাইলস ভেবে এড়িয়ে যান, যা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এছাড়াও, পরিবারের মধ্যে যদি আগে কোলন ক্যানসার, পলিপ, Ulcerative Colitis বা Crohn’s Disease-এর মতো রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে আরও আগে থেকেই স্ক্রিনিং শুরু করা প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেও এই ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, রেড মিট ও প্রসেসড খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়ানো— এসব অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জলপান ও ফাইবারযুক্ত খাবার হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের একটাই কথা— কোলন ক্যানসার ভয়ংকর হলেও এটি প্রতিরোধযোগ্য এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। সময়মতো ধরা পড়লে বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯০ শতাংশ। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে, বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করানোই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.