নতুন গবেষণায় জানা যাচ্ছে, চিনি ভেঙে মস্তিষ্কের টিউমার বাড়তে সাহায্য করতে পারে ইমিউন কোষ। কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

শেষ আপডেট: 19 March 2026 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমরা এখন প্রায় সকলেই জানি, বেশি চিনি খাওয়া শরীরের জন্য ভাল নয় (Sugar is Bad for Health)। ডায়াবেটিস (Diabetes) থেকে ওবেসিটি (Obesity)— এইসব ঝুঁকি তো আছেই। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিনি হয়তো আরও গভীর এক বিপদের সঙ্গে জড়িত। ব্রেন ক্যানসার (Brain Cancer)।
সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার তথ্য। মস্তিষ্কের এক ধরনের ভয়ঙ্কর টিউমার গ্লিওব্লাস্টোমা (Glioblastoma)—তার ভিতরেই থাকা কিছু ইমিউন কোষ নাকি চিনিকে ব্যবহার করে টিউমারকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Proceedings of the National Academy of Sciences-এ।
আমাদের শরীরে ইমিউন সিস্টেমের কাজ হল রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা। কিন্তু এই ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মস্তিষ্কের টিউমারের ভেতরে থাকা কিছু ইমিউন কোষই যেন ‘দল বদল’ করছে। এই কোষগুলির নাম মাইক্রোগ্লিয়া— যারা সাধারণত মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।
কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এই মাইক্রোগ্লিয়া বিশেষ একটি পথ ব্যবহার করে ফ্রুক্টোজ (চিনির একটি ধরন) ভেঙে ফেলে। আর সেই প্রক্রিয়াই ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়—ফলে টিউমার আরও সহজে বাড়তে পারে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিশেষ ‘ট্রান্সপোর্টার’—GLUT5 transporter। এই GLUT5-ই মাইক্রোগ্লিয়াকে ফ্রুক্টোজ গ্রহণ করতে ও ভাঙতে সাহায্য করে। গবেষকেরা দেখেছেন, টিউমারের আশেপাশে থাকা অন্যান্য ইমিউন কোষ এটা পারে না, শুধু মাইক্রোগ্লিয়াই পারে।
এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল শাখার এক অধ্যাপক, জেসন মিসকা। তাঁদের পরীক্ষায় ইঁদুরের শরীর থেকে এই GLUT5 ট্রান্সপোর্টার সরিয়ে দেওয়া হয়।
তার ফলাফল? টিউমার আর বাড়তেই পারেনি। এমনই দাবি করছেন জেসন।
অন্যদিকে, ইমিউন সিস্টেম আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যার ফলে ক্যানসার কোষকে ভালভাবে চিনতে পারে, CD8 টি-সেল (ক্যানসার ধ্বংসকারী কোষ) দ্রুত বাড়তে থাকে।
জেসনের টিমের আর এক গবেষক লিয়া বিলিংহাম এই বিষয়ে বলেন, “এটা শুধু এক ধরনের কোষের কাজ নয়। পুরো ইমিউন সিস্টেমের মধ্যে একটা জটিল সম্পর্ক তৈরি হয়, যা টিউমারের উপর প্রভাব ফেলে।”
Glioblastoma এমন একটি মস্তিষ্কের টিউমার, যা খুব দ্রুত বাড়ে এবং চিকিৎসা করা খুব কঠিন। এর একটা বড় কারণ হল—এর আশেপাশের ‘মাইক্রোএনভায়রনমেন্ট’, অর্থাৎ টিউমারের চারপাশের কোষগুলির জটিল গঠন, যা চিকিৎসাকে বাধা দেয়।
গবেষকদের মতে, যদি এই GLUT5 বা ফ্রুক্টোজ ভাঙার প্রক্রিয়াকে আটকে দেওয়া যায়,
তাহলে রোগীরা ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসায় আরও ভাল সাড়া দিতে পারেন।
মানে, ভবিষ্যতে ক্যানসারের চিকিৎসায় 'চিনি' বা তার ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণই হয়ে উঠতে পারে বড় অস্ত্র।
তবে এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, মূলত প্রাণীর উপরেই পরীক্ষা করা হয়েছে। তাই এখনই ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আবার অবহেলাও নয়।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, আমাদের শরীরের ভিতরে লড়াইটা শুধু রোগ আর ওষুধের নয়,
খাবার, কোষ আর রসায়নেরও। আর সেই লড়াইয়ে কখনও কখনও, এক চামচ চিনিও
অপ্রত্যাশিত ভূমিকা নিতে পারে।