মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ক্যানসার সেন্টারের গবেষকরা তাঁদের পরিচালিত ‘INCIPIENT’ নামে একটি ফেজ-১ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই সাফল্যের কথা জানিয়েছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ।

ব্রেন টিউমার নির্মূলে নতুন থেরাপি
শেষ আপডেট: 31 March 2026 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার শুনলেই আতঙ্ক। তার উপরে যদি হয় ব্রেন টিউমার (Brain Tumor) হয় তবে তো চিন্তা দ্বিগুণ। তবে সম্প্রতি চিকিৎসায় নতুন আশা দেখাচ্ছে এক ওষুধ। যদিও এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মারণ ব্রেন টিউমার গ্লিওব্লাস্টোমা-র (Glioblastoma) ক্ষেত্রে এই নতুন থেরাপি প্রয়োগ করে মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই প্রায় সম্পূর্ণ টিউমার সঙ্কুচিত হওয়ার নজির মিলেছে। যদিও এখনও গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এই চিকিৎসা, তবু প্রাথমিক ফলাফল ইতিমধ্যেই চিকিৎসক বেশ আশা জাগিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ক্যানসার সেন্টারের গবেষকরা তাঁদের পরিচালিত ‘INCIPIENT’ নামে একটি ফেজ-১ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই সাফল্যের কথা জানিয়েছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ।
গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে এক বিশেষ ধরনের CAR-T সেল থেরাপি—‘CARv3-TEAM-E’। এই থেরাপি মূলত পুনরায় ফিরে আসা (রিকারেন্ট) গ্লিওব্লাস্টোমা রোগীদের জন্য তৈরি। একবার মাত্র ইনফিউশন দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীদের টিউমারে উল্লেখযোগ্য সঙ্কোচন দেখা যায়। এমনকি এক রোগীর ক্ষেত্রে প্রায় পুরো টিউমারই মিলিয়ে যেতে দেখা গেছে।
CAR-T থেরাপি কী?
CAR-T থেরাপি হল এমন একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে রোগীর নিজের ইমিউন কোষ (টি-সেল) পরিবর্তন করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার উপযোগী করে তোলা হয়। রক্তের ক্যানসারে এই পদ্ধতি ইতিমধ্যেই সফল হলেও, ব্রেন টিউমারের মতো কঠিন ক্যানসারে এতদিন তা তেমন কার্যকর হয়নি।
নতুন থেরাপির বিশেষত্ব কোথায়?
এই নতুন পদ্ধতিতে CAR-T থেরাপির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ‘TEAMs’ নামে বিশেষ ধরনের বিস্পেসিফিক অ্যান্টিবডি। এর ফলে টিউমারের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার কোষকে একসঙ্গে টার্গেট করা সম্ভব হচ্ছে। আরও বড় বিষয়, ওষুধটি সরাসরি মস্তিষ্কে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত এবং কার্যকর ফল পাওয়া যায়।
গবেষণার ফল কী বলছে?
এই ট্রায়ালে ৫৭ থেকে ৭৪ বছর বয়সী তিনজন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁরা আগে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি নিয়েছিলেন।
চিকিৎসার পর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন জ্বর বা মানসিক বিভ্রান্তি দেখা গেলেও, তা প্রত্যাশিত এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল। চিকিৎসার পরে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং পরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে প্রাথমিক সাফল্য সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত তিনজন রোগীরই টিউমার ফের বাড়তে শুরু করে। গবেষকদের মতে, এর একটি বড় কারণ হল শরীরে CAR-T কোষের দীর্ঘস্থায়িত্ব কম হওয়া।
এগোচ্ছে গবেষণা, বাড়ছে আশা
এই থেরাপির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করতে এখন গবেষকরা একাধিক ডোজ দেওয়া বা কেমোথেরাপির মাধ্যমে শরীরকে প্রস্তুত করার মতো নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে এই গবেষণা ল্যাবরেটরির আবিষ্কারকে বাস্তব চিকিৎসায় রূপ দেওয়ার এক বড় পদক্ষেপ।
যদিও এখনও এই থেরাপি সম্পূর্ণ নিরাময় এনে দিতে পারেনি, তবুও গ্লিওব্লাস্টোমার মতো জটিল ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি যে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তা নিয়ে আশাবাদী চিকিৎসকরা।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.