
শেষ আপডেট: 26 December 2023 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৩ সপ্তাহের গর্ভবতী। আলট্রাসোনোগ্রাফি করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠল ডাক্তারদের। সন্তান কোথায়? গর্ভ তো শূন্য!
৩৭ বছরের এক যুবতীর বিরল গর্ভাবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে নিউ ইংল্যান্ড মেডিক্যাল জার্নালে। মাদাগাস্কারের এক হাসপাতালে গর্ভাবস্থার নানা জটিলতা নিয়ে ভর্তি হন ওই মহিলা। তাঁকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা দেখেন, ওই মহিলার জরায়ুতে সন্তান নেই। অথচ আলট্রাসোনোগ্রাফিতে গর্ভস্থ সন্তানের হৃদয়ের ধুকপুক শোনা যাচ্ছে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, জরায়ুর বাইরে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল ভ্রূণ। সেখানেই বেড়ে উঠছে সন্তান।
সাধারণ গর্ভাবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বাণু ডিম্বনালির (ফ্যালোপিয়ান টিউব) মাধ্যমে জরায়ু গহ্বরে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ু গহ্বরের বাইরে স্থাপিত হয়েছে। ফলে সেখানেই ভ্রূণ বেড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে। চিকিৎসার পরিভাষায় এই ধরনের গর্ভাবস্থাকে বলে ‘এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি’।
কী এই এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি?
সন্তানধারণের প্রথম পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি হল এই এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি। এক্টোপিক গর্ভাবস্থায় ভ্রূণটি যত বাড়তে থাকে, তত বেশি রক্তপাত হয় এবং ডিম্বনালির ক্ষতি হয়। সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে বা চিকিৎসা না হলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ হয়ে প্রসূতির মৃত্যু হতে পারে। বিশ্বে মাত্র ২ শতাংশ ক্ষেত্রে এই বিরল গর্ভাবস্থা হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, নানা কারণে এক্টোপিক গর্ভাবস্থা হতে পারে। হবু মা যদি পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ বা যৌন সংক্রমণজনিত রোগ (এসটিডি)-তে ভোগেন বা আগের সন্তান জন্মের সময়ে কোনও জটিলতা থাকে, তাহলে ফের গর্ভবতী হলে এমন অবস্থা তৈরি হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা দেয়
সন্তানধারণের প্রথম ছয় সপ্তাহের মধ্যে তেমন কিছু বোঝা যায় না। ৬ সপ্তাহ পর থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
আচমকা তলপেটে ব্যথা হয়। ব্যথা একদিক থেকে বাড়তে শুরু করে।
এক্টোপিক প্রেগন্যান্সিতে (Ectopic Pregnancy) ফ্যালোপিয়ান টিউব ছিঁড়ে যেতে পারে।
ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং হতে পারে।
ফ্যালোপিয়ান টিউব ছিঁড়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তপাত হয়, সেই সঙ্গে মাথা ঘোরা, বমিভাব, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত ব্যথা হতে পারে, বেশি রক্তপাতের ফলে রোগী জ্ঞান হারাতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু না হলে বিপদ আরও বাড়বে।