শেফালির অকালে মৃত্যু অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট নিয়ে তুলে দিল একাধিক প্রশ্ন। আর সেই সঙ্গেই উঠে এল এর ভয়াবহ দিক।

শেফালি জারিওয়ালা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 30 June 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪২ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রী ও মডেল শেফালি জারিওয়ালার। ‘কাঁটা লাগা’ গানের রিমিক্সে যিনি এক সময় ঝড় তুলেছিলেন ইন্ডিয়ান পপসংগীতের দুনিয়ায়। তাঁর এমন অকাল প্রয়াণে স্তম্ভিত বিনোদন জগৎ। কিন্তু এখন তদন্তে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর দিক। সামনে আসছে অ্যান্টি-এজিং অর্থাৎ চেহারায় বয়সের ছাপ ঢাকতে ব্যবহৃত ইঞ্জেকশনের কথা। এই অ্যান্টি-এজিং ইঞ্জেকশনই কি শেষ পর্যন্ত ডেকে আনল তাঁর মৃত্যু?
সূত্রের খবর, মৃত্যুর দিন অর্থাৎ শুক্রবার শেফালি নাকি খালি পেটে গ্লুটাথায়ন এবং ভিটামিন সি-র একটি ইঞ্জেকশন নিয়েছিলেন। এর ফলে হঠাৎ রক্তচাপ কমে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে প্রাথমিক ধারণা চিকিৎসকদের। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি, চিকিৎসকদের মতে এই জাতীয় অ্যান্টি-এজিং থেরাপিতে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
পুণের রুবি হল ক্লিনিকের কার্ডিওলজিস্ট ডঃ অনেশ জৈনের কথায়, 'গ্লুটাথায়ন এবং ভিটামিন সি স্কিন ট্রিটমেন্টে ব্যবহার হলেও, খালি পেটে বা ডিহাইড্রেট অবস্থায় শরীরে প্রবেশ করলে তা হৃদযন্ত্রে চাপ ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্লাড প্রেসার বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।'
এছাড়া আমেরিকার FDA-র মতে, গ্লুটাথায়নের ইঞ্জেকশনে এন্ডোটক্সিনের ঝুঁকি রয়েছে। ত্বক ফর্সা করার ক্ষেত্রে এই ইঞ্জেকশন ব্যবহারের কোনও ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। বরং লিভার, কিডনি, স্নায়ুতন্ত্রে ক্ষতি এবং স্টিভেন জনসন সিনড্রোমের মতো জটিল রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
‘অ্যান্টি-এজিং’ ট্রিটমেন্ট মানেই বিপদ?
মুম্বইয়ে লীলাবতী হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডঃ শ্রীনিবাস কুদভার মতে, 'এই ধরণের হরমোন নির্ভর ওষুধ যেমন টেস্টোস্টেরন বা গ্রোথ হরমোন শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে, হৃদপিণ্ডের আর্থিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। NAD+ বুস্টার-র মতো নতুন ওষুধও বিপদের কারণ হতে পারে।'
মহিলাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কি বেশি থাকে?
আকাশ হেলথকেয়ারের ডঃ আশিস আগরওয়াল জানান, ভারতে ১৫-৪৯ বছর বয়সি প্রতি পাঁচ জন মহিলার মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন অথচ চিকিৎসা হয় না। এশিয়ান হাসপাতালের ডঃ সুব্রত আখৌরির মতে, মহিলাদের হৃদরোগের উপসর্গ আলাদা হয় এবং বহু সময় ভুল রোগ নির্ণয় হয়।
নিম্ন রক্তচাপ আদতে চুপিসারে ক্ষতি করে
শেফালির ক্ষেত্রে যে হঠাৎ রক্তচাপ কমে গিয়েছিল, তা-ই হয়তো মৃত্যু ডেকে এনেছে বলে সন্দেহ। ডঃ অভিজিৎ খাদতরে জানান, হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছয় না, শরীর শকে চলে যায়। মাথা ঘোরা, জ্ঞান হারানো, দুর্বল লাগা, এসব উপসর্গে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার প্রয়োজন।
চিকিৎসকবিহীন অ্যান্টি-এজিং ওষুধ?
অ্যামবোলি থানার পুলিশ সূত্রে খবর, শেফালি গত আট বছর ধরে নানা ধরনের স্কিন হোয়াইটেনিং এবং অ্যান্টি-এজিং ওষুধ নিচ্ছিলেন, তার বেশির ভাগই কোনও চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ছাড়া। ঘরে ছিল গ্লুটাথায়ন-সহ বহু ওষুধ।
মারেঙ্গো এশিয়ার নিউরো বিশেষজ্ঞ ডঃ প্রবীণ গুপ্তা বলেন, 'লোকে ভাবে প্রাকৃতিক মানেই নিরাপদ, এটা ভুল। এই ওষুধগুলি অনেক সময় অনলাইনে পাওয়া যায়, কোনও কোয়ালিটি চেক ছাড়াই।' তাঁর পরামর্শ, 'অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসা মানেই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।'
শেফালির অকালে মৃত্যু অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট নিয়ে তুলে দিল একাধিক প্রশ্ন। আর সেই সঙ্গেই উঠে এল এর ভয়াবহ দিক।