তাঁদের দাবি, গরুর দুধ থেকে তৈরি (গরুর দুধে ল্যাক্টোফেরিন নামে এক ধরনের প্রোটিন থেকে)এই ওষুধটি আয়রন শোষণ করতে পারে। এই প্রোটিন চোখকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে। যা কেবল শুষ্ক চোখের সমস্যা নয়, রেটিনার যে কোনও রোগের নিরাময় করতেও কার্যকর।
.jpeg.webp)
ড্রাই আই হলে কী করবেন? প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো।
শেষ আপডেট: 10 April 2026 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ‘ড্রাই আই’ (Dry Eye) এখন সব বয়সের মানুষের কাছেই পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা বাড়ছে। ছোটরা সারাক্ষণ ভিডিও গেম, বড়রা সোস্যাল মিডিয়াতে সারাক্ষণ রিল দেখতে ব্যস্ত সঙ্গে সারাদিনের কাজের চাপ সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে ড্রাই আই- প্রায় সকলের সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন হলে চোখে ড্রপ লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসরাও সেটাই বলেন। আর বারবার চোখে জলের ঝাপটা। তবে দেখা যায়, সমস্যা কোনওভাবেই কাটিয়ে তোলা যায় না। বারবার চোখের এমন সমস্যা ফিরে আসে। বর্তমানে এই চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে দিল্লির AIIMS (All India Institute of Medical Sciences)-এর গবেষণা।
নতুন এই চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে গরুর দুধের একটি বিশেষ প্রোটিন ‘ল্যাক্টোফেরিন (Lactoferrin)’, যা গরুর কলোস্ট্রাম বা Colostrum (বাচ্চা জন্মের পর প্রথম যে দুধ তৈরি হয়) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষকরা এই প্রোটিন থেকে তৈরি ট্যাবলেটের মাধ্যমে ড্রাই আইয়ের চিকিৎসায় ইতিবাচক ফল পেয়েছেন এবং এখন সেটিকে বাজারে আনার উদ্যোগ চলছে।
তাঁদের দাবি, গরুর দুধ থেকে তৈরি (গরুর দুধে ল্যাক্টোফেরিন নামে এক ধরনের প্রোটিন থেকে)এই ওষুধটি আয়রন শোষণ করতে পারে। এই প্রোটিন চোখকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে। যা কেবল শুষ্ক চোখের সমস্যা নয়, রেটিনার যে কোনও রোগের নিরাময় করতেও কার্যকর।
এই গবেষণার গুরুত্ব সারাদেশের চোখের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কী এই নতুন চিকিৎসা?
ল্যাক্টোফেরিন নামের একটি আয়রন-বাইন্ডিং প্রোটিন ব্যবহার করে ট্যাবলেট তৈরি করা হয়েছে। এই প্রোটিন গরুর কলোস্ট্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান, যা শরীরের বিভিন্ন তরলেও স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়।
কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে?
AIIMS-এর RP Centre for Ophthalmic Sciences-এ প্রায় ২০০ জন রোগীর উপর ট্রায়াল চালানো হয়। যাঁদের চোখের অস্ত্রোপচারের (যেমন ক্যাটারাক্ট বা LASIK) পর ড্রাই আই হয়েছিল, তাঁদের উপর এই ট্যাবলেট প্রয়োগ করা হয়। প্রতিদিন ২৫০ মি.গ্রা. করে দিনে দু’বার, টানা তিন মাস এই ওষুধ দেওয়া হয়। এই ট্রায়ালের নেতৃত্বে ছিলেন হাসপাতালের সিনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নম্রতা শর্মা।
কী ফল মিলেছে?
চোখের শুষ্কতা দূর করতে ল্যাক্টোফেরিন ট্যাবলেটের থেরাপি শুরু হয়েছে এমসে। প্রায় ২০০ জন রোগীকে ২৫০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট দু’বেলা করে খাইয়ে দেখা গিয়েছে, তাঁদের চোখের যাবতীয় সমস্যার নিরাময় হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
গবেষণার সহ-নেতৃত্বে থাকা ডা. সুজাতা শর্মার মতে, এই চিকিৎসা নিরাপদ, সহজে গ্রহণযোগ্য এবং তুলনামূলক সস্তা হতে পারে। তাঁর কথায়, “এটি ড্রাই আইয়ের জন্য প্রাকৃতিক সমাধান, যার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই”। AIIMS ইতিমধ্যেই একটি জাপানি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই ট্যাবলেট তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে
ড্রাই আই কী ও কেন হয়?
চোখে পর্যাপ্ত জল (tear) তৈরি না হলে বা সেই জলের গুণমান খারাপ হলে ড্রাই আই হয়। এর ফলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালা, লালভাব ও অস্বস্তি দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার ৫০% পর্যন্ত কমে যায়, যা ড্রাই আইয়ের বড় কারণ। ক্যাটারাক্ট বা LASIK-এর মতো চোখের অস্ত্রোপচারের পরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বর্তমান চিকিৎসা বনাম নতুন পদ্ধতি
এখনকার চিকিৎসায় মূলত লুব্রিকেটিং আই ড্রপ দেওয়া হয়, যা সাময়িক আরাম দেয়। কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। নতুন ল্যাক্টোফেরিন ট্যাবলেট দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও নিরাপদ বলে প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।
ল্যাক্টোফেরিনের অন্যান্য গুণ
গরুর কলোস্ট্রাম (প্রসবের পর নিঃসৃত ঘন হলুদ দুধ) থেকে ল্যাক্টোফেরিন প্রোটিন আলাদা করে ট্যাবলেট তৈরি করা হয়েছে। এই কলোস্ট্রামে বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে, যা মুখগহ্বর, গলা, ফুসফুস ও অন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেনকে সুরক্ষিত রাখে। মিউকাস স্তর শক্তিশালী হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ সহজ হয়। এছাড়া কলোস্ট্রাম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং ই-কোলাই, রোটা ভাইরাস ও সিগেলার মতো জীবাণুর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।ক্ষত সারাতে সহায়ক, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।
মার্কিন FDA ল্যাক্টোফেরিনকে ‘Generally Recognised As Safe’ (GRAS) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রথমে মানবদেহের কলোস্ট্রাম থেকে এই প্রোটিন সংগ্রহের কথা ভাবা হলেও, তা বাস্তবসম্মত হয়নি
পরে গরুর কলোস্ট্রামই কার্যকর বিকল্প হিসেবে সামনে আসে। ভবিষ্যতে অ্যানিমিয়ার মতো রোগের চিকিৎসাতেও এই প্রোটিন ব্যবহার করা যেতে পারে, এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে। হয়তো তাড়াতাড়ি ইতিবাচক ফলও মিলবে।
কবে বাজারে আসবে?
ড্রাই আই-এর সমস্যা মেটাতে এই ল্যাক্টোফেরিনের ইতিবাচক ফলাফলের পর গবেষকরা আশাবাদী। প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে খুব শীঘ্রই এই ওষুধ বাজারে আসতে পারে। ড্রাই আইয়ের মতো সাধারণ অথচ বিরক্তিকর সমস্যার চিকিৎসায় এই নতুন ট্যাবলেট ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.