শেষ আপডেট: 24 November 2020 15:55
অ্যান্ড্রুর জন্ম ১৯২০ সালে, লন্ডনে। সেখানেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যোগ দেন ব্রিটিশ বিমান বাহিনীতে। ছিলেন ওম্যান অক্সিলারি এয়ার ফোর্সে। 'দ্য বোম্বার কমান্ড'-এ দীর্ঘদিন যুক্তও ছিলেন।
তারপর একসময় ডুসেলডর্ফে বদলি হয় তাঁর। সেখানে যে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন, তাঁদের একমাত্র কন্যা ছিলেন নাৎসি। অ্যান্ড্রু যখন জার্মানিতে ছিলেন, তখন বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য তাঁর সঙ্গে থাকত একজন পার্সোনাল ড্রাইভার। তিনিও একজন নাৎসি সমর্থক। অ্যান্ড্রুর মেয়ে মিশেল বলেন, "একদিন মা এক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বেড়িয়েছিলেন। তাঁর ড্রাইভার ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তাঁকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু কোনোভাবে রক্ষা পান। বেঁচে যান মা।"।
কর্মক্ষেত্রেও তাঁর সামনে এসে পড়েছে বাধা। এরপর অ্যান্ড্রু ব্রিটিশ ওভারসিজ এয়ারওয়েজে কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন সেখানে প্রথম বিমানসেবিকা। একদিন যাত্রার সময় বিমানে জ্বালানি ফুরিয়ে আসে। লিবিয়াগামী এই বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যায়। একজন যাত্রী মারা যান সেই দুর্ঘটনায়। কোনওক্রমে বেঁচে যান অ্যান্ড্রু।
তারপর ১৯৭০ সালে অ্যান্ড্রুর স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেবারও উন্নত মানের চিকিৎসায় বেঁচে ওঠেন তিনি। তারপর এইবছর মার্চ মাসে করোনায় আক্রান্ত হন অ্যান্ড্রু। সংকটজনক পরিস্থিতিতে তাঁকে রাখতে হয় লাইফ সাপোর্টে। চিকিৎসকরা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে বাঁচিয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রত্যেককে চমকে দিলেন এবারেও। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে প্রিয়জনের কাছে ফিরে এলেন অ্যান্ড্রু। জন্মদিনে কেক কেটে উদযাপন করলেন। পেলেন রানির শুভেচ্ছা বার্তাও।