
শেষ আপডেট: 12 December 2023 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০০ দিনের কাজ তো শুনেছেন, কিন্তু ‘১০০ দিনের কাশি’?
হ্যাঁ, করোনার পরে নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে তো বটেই, গোটা বিশ্বেই নাকি এই ১০০ দিনের কাশি নামক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলেছে, এই ১০০ দিনের কাশিকে হেলাফেলা করলে চলবে না, কারণ এটি অতি সংক্রামক রোগের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।
কী এই ‘১০০ দিনের কাশি’?
ঋতু বদলের সময় সর্দি-কাশি হয়েই থাকে। অ্য়ালার্জি থাকলে সে সমস্য়াও বাড়ে। কিন্তু এখন শুরু হয়েছে এমন বেদম কাশি যা প্রায় তিন মাস থাকছে। কাশতে কাশতে গলা চিরে যাওয়ার জোগাড় হচ্ছে। আর ওষুধে যদি কাশি সেরে যায় তো ভাল, না হলে এই কাশির থেকেই নানা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে।
এই কাশি কিন্তু মারাত্মক ছোঁয়াচে। বাড়ির একজনের হওয়া মানেই তা বাকিদের মধ্যেও ছড়াবে। মুখ থেকে বেরনো থুতু-লালার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াবে। তাই বাড়ির বাচ্চা ও বয়স্কদের বেশি সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে।
ব্রিটেনে এই রোগ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, 'হান্ড্রেড ডে কাফ' বা ১০০ দিনের কাশি ঘরে ঘরে ছড়িয়েছে। এ অসুখ আসলে হুপিং কাশি। জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১৬ জন। ২০২২ সালেও এই হুপিং কাশির দাপাদাপি ছিল। কিন্তু এ বছর সংক্রমণ প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে।
হুপিং কাশি খুব সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যা প্রধানত শিশুদের বেশি হয়। এটি সাধারণ সর্দি-কাশির মতো শুরু হয়। তারপর ধীরে ধীরে চোখ থেকে জল পড়া, গলা ব্যথা এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার মত উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। বাড়তে থাকে কাশির দমক। ধীরে ধীরে এই রোগ ফুসফুসকে সংক্রমিত করে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, শ্লেষ্মা, কাশি, খিদে না পাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা— ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়।
জ্বর বা সর্দি কয়েকদিন পরে তাও কমে যায়, কিন্তু কাশি সহজে কমে না। কারও কারও কাশিতে প্রচণ্ড শ্লেষ্মা থাকে, আবার কারও শুকনো কাশি হয়। বাচ্চাদের কষ্ট হয় খুব বেশি। রাস্তাঘাটে বেরোলেই দমক দিয়ে কাশি আসে। বাসে-ট্রেনে লোকজনের ভিড়ে গলা শুকিয়ে কাশি শুরু হয়ে যায়। রাতে ঘুমোতে গেলে কষ্ট সবচেয়ে বেশি। সেই সময়েই কাশির তোড় শুরু হয়। হুপিং কাশিতে গলা চিরে যায়, যন্ত্রণা হয় বুকে। বর্ডেটেলা পার্টুসিস ব্যাকটেরিয়া থেকে এই সংক্রমণ ছড়ায়। ১৯৫০ সালে এই হুপিং কাশির ভ্য়াকসিন এসেছিল। কিন্তু এর পরেও দেখা যাচ্ছে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষত করোনা কালের পরে তা আরও বেড়েছে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন শিশু এবং বৃদ্ধরা, তাদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে এই হুপিং কাশি।