
শেষ আপডেট: 24 September 2022 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির ভ্রমণম্যাপে অনেক আগে থেকেই ঢুকে গেছে কেল্লা, মরুভূমি, উট আর ঊষর হলুদ পাহাড়ের দেশ রাজস্থানের নাম। পুজোর মরশুমে সেই চেনা পুরোনো রাজস্থানের বুকেও জেগে আছে অনেক অজানা সৌন্দর্য-খনি। পুজোর মরশুমে আপনার জন্য রইল রাজপুতানার তেমনই পাঁচটি অচেনা ট্যুরিস্ট স্পটের হদিশ।
নারলাই: রাজস্থানের আরাবল্লি পাহাড়ের উপর একটা ছোট্ট গ্রাম নারলাই। খাড়া উঁচু গ্রানাইট পাথরের 'এলিফেন্ট হিল' বা হাতি পাহাড়ের ঠিক পাদদেশে আপাত সাধারণ এই গ্রামই হয়ে উঠেছে আজকের অন্যতম ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন। গ্রামের লোকেরা সকলেই প্রায় ধর্মভীরু রাবারি সম্প্রদায়ের। ছোট্ট একটা গ্রাম, আর বুকেই রয়েছে ৩০০র বেশি মন্দির। এই গ্রামের আসল আকর্ষণ কিন্তু মন্দির নয়। এখানকার বন্য জীবজন্তুর টানে ছুটে আসেন দেশ বিদেশের পর্যটক। তার মধ্যে নারলাইয়ের বিখ্যাত লেপার্ড তো রয়েছেই, আছে নানা প্রজাতির পাখি, কুমির, ভাল্লুক, শেয়াল, সাপসহ একাধিক বন্যপ্রাণী। (Unknown Rajasthan)

মাণ্ডয়া: ঝুনঝুনু জেলার গ্রাম মাণ্ডয়া। রাজস্থানের 'ওপেন এয়ার গ্যালারি' বলা হয় এই গ্রামকে। যেদিকে তাকান চোখে পড়বে কারুকাজ করা একের পর এক হাভেলি, সুদৃশ্য মিনার আর প্রাসাদ। রাজস্থানি স্থাপত্যের ছড়াছড়ি চারদিকে। একসময় চিন আর মধ্যএশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক আদানপ্রদান হত এই পথ ধরেই। ইতিহাসে আগ্রহ থাকলে ঘুরে আসুন প্রাচীন সিল্ক রুটের প্রধান ফটক এই গ্রাম থেকে। (Unknown Rajasthan)

কুলধারা: এডভেঞ্চারের নেশা থাকলে ঘুরে আসুন রাজস্থানের ভূতুড়ে গ্রাম কুলধারা থেকে। জয়সলমীর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে এগোলেই এককালের বর্ধিষ্ণু গ্রাম কুলধারা। এককালে পালীবাল ব্রাহ্মণদের বসতি ছিল এই গ্রামে। যদিও আজ আর তাঁদের উত্তরসূরিদের দেখা পাওয়া যায় না। স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস, এই গ্রাম অভিশপ্ত। অতৃপ্ত আত্মাদের বাস এই গ্রামে। জীবিত মানুষের দেখা মেলাই ভার। প্রায় ৩০০ বছর ধরে জনমানবশূন্য এই গ্রামের বাতাসে আজও ঘুরে বেড়ায় অজস্র লোককথা, গল্প আর মিথ। (Unknown Rajasthan)

কুম্ভলগড়: ইতিহাস, স্থাপত্য আর প্রকৃতির আশ্চর্য সমন্বয় ঘটেছে রাজস্থানের কুম্ভলগড়ে। উদয়পুর থেকে ৮২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, মেবার ও মারোয়াড়ের সীমান্তে দুর্গটি তৈরি করেছিলেন রাণা কুম্ভ। দেখার মতো এই কালচে-হলুদ বেলেপাথরের এই কেল্লাতেই ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম হয় মহারাণা প্রতাপের। দুর্গের প্রবেশদ্বার রাম পোলের পাশেই নীলকণ্ঠের মন্দির। এখানকার প্রায় ছ’ফুট উঁচু শিবলিঙ্গটিকে নাকি নিয়মিত পুজো করতেন রাণা কুম্ভ। এই কেল্লার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীরটিই পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম প্রাচীর, চিনের প্রাচীরের পরেই যার অবস্থান। (Unknown Rajasthan)

জাওয়াই: যোধপুর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট গ্রাম সুমেরপুর। কাকচক্ষু জলের জাওয়াই ড্যামকে কেন্দ্র করেই নতুন ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন গড়ে উঠেছে এই গ্রামে।
লুনি নদীর উপনদী জাওয়াইয়ের জলে বাঁধ দিয়ে গড়ে উঠেছে এই অপূর্ব ড্যাম। শীতে পরিযায়ী পাখিদের মেলা বসে এই ড্যামের আশেপাশে। বার হেডেড গুজ, ব্রাহ্মণী হাঁসের দল, নানা জাতের পোচার্ড, ক্রেন প্রভৃতি পাখি উড়ে আসে এই বাঁধের আশেপাশে। দেখা মেলে রংবেরঙের জলমোরগ, সবজে মাথার কমন টিল, দেশিয় পানকৌড়িরও। ড্যামের পাড়ে রোদ পোহায় কুমিরের দল। ভাগ্যে থাকলে দেখা মিলতে পারে চিতাবাঘেরও।
