শীতের ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে মেঘ আর পাহাড়ের নির্জনতায় সময় কাটাতে চান? শান্ত-নির্জন পরিবেশ, অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর কম পর্যটকের ভিড়, এই পাহাড়ি গ্রাম আপনাকে দেবে অফবিট অভিজ্ঞতা।

তুরুকে সূর্যাস্ত
শেষ আপডেট: 9 December 2025 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় সব এলাকায় ভিড় বাড়তেই শান্ত, নির্জন প্রকৃতির ঠিকানার চাহিদা বেড়েছে পর্যটকদের মধ্যে। শীত পড়তেই পাহাড় ডাকছে। এনজেপি-র (NJP) টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে, কিন্তু গন্তব্য নিয়ে দ্বিধা? ভিড়ের বাইরে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা, মেঘ ও পাহাড়ের (Mountains) কোলে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে বেছে নেওয়া যেতে পারে কার্শিয়ং সাবডিভিশনের মিডল সিটংয়ের তুরুক। উত্তরবঙ্গের (North Bengal) এক অচেনা, অবিকৃত পাহাড়ি গ্রাম।
প্রায় ৪৮০০ ফুট উচ্চতায় (Altitude) অবস্থিত তুরুক ছবির মতো সাজানো। ধুপির জঙ্গলের (Forest) কোলে বসানো গ্রামটির চারপাশ জুড়ে শুধুই পাহাড়ি নৈঃশব্দ্য আর বাতাসের ঠাণ্ডা ঝাকুনি। পাহাড়ের ধাপে ধাপে সাজানো বাঁধাকপি, ফুলকপি, রাইশাক, মুলো, আলু এবং মরসুমি কমলালেবু চাষ যেকোনও পর্যটকের কাছে আকর্ষণের। পথে পথে নাম না জানা পাহাড়ি ফুলের থোকা ভ্রমণপিপাসুর মন জয়ের জন্য যথেষ্ট।
তুরুক গেলে কী কী দেখতে পাবেন?
তুরুক থেকে নীচের সিটং পর্যন্ত ঘুরে আসা যায় খুব সহজেই। কাছেই লেপচা ফল্স (Lepcha Falls), পুরোনো চার্চ এবং রিয়াং নদীর (Riyang River) ধারে বসে পাহাড়ের বাতাস গায়ে মাখার সুযোগও রয়েছে। এখান থেকে মংপুর রবীন্দ্র ভবনে (Rabindra Bhavan) ঢুঁ মেরে আসা সব বাঙালি ভ্রমণকারীরই প্রিয়। মংপু-র বাংলো, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষ জীবনের কিছু সময় কাটিয়েছিলেন, সেই ঠিকানা ঘিরে রয়েছে প্রবল নস্টালজিয়া (Nostalgia)। এখান থেকেই কবি তাঁর ৮০তম জন্মদিনে ‘জন্মদিন’ কবিতাটি লেখেন।
তুরুকের সকাল মানেই কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjungha) দর্শন। সবুজে মোড়া আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, পাখিদের কোলাহল আর দূরের মহানন্দা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির (Mahananda Wildlife Sanctuary) অরণ্য- এই মিলনমঞ্চে দিনের শুরুই অন্যরকম। লেপচা আদলে তৈরি এখানকার হোমস্টেগুলিতে (Homestay) থাকার অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট অনন্য।
ভ্রমণপিপাসু হলে তুরুক থেকে বাগোরা পর্যন্ত ১০ কিমির একটি সুন্দর ট্রেকরুট (Trek Route) রয়েছে, যেতে পারেন। ফার, পাইন, ওক-এই অরণ্যের মধ্যে দিয়ে এগোতেই ৭,১০০ ফুট উচ্চতায় বাগোরার চূড়ায় মিলবে কাঞ্চনজঙ্ঘার আরও একটি মনকাড়া রূপ, যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে। বাগোরার মাত্র ৩ কিমি দূরে চিমনি-৭,২০০ ফুট উচ্চতার আরেক সুন্দর গ্রাম। ব্রিটিশ আমলে সৈনিকদের জন্য জল গরম করতে তৈরি বিশাল চিমনির (Chimney) নামেই এলাকার নামকরণ। এখানকার ভিউপয়েন্ট থেকে কার্শিয়াং আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য মনে দাগ কাটে।

এই পথে ভাগ্য সহায় হলে কালেজ, জাঙ্গল ফাউল, এমনকি হরিণ বা হিমালয়ান স্লথ বিয়ারের (Himalayan Sloth Bear) দেখা মিলতেও পারে। অবশ্যই গাইড ছাড়া এমন অভিযান না করাই ভাল।
কীভাবে যাবেন
এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে মংপু হয়ে সিটং পেরিয়ে তুরুকের দূরত্ব ৬৮ কিমি। গাড়িতে সময় লাগবে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
তুরুক এবং আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি হোমস্টে। থাকা–খাওয়াসহ মাথাপিছু খরচ পড়বে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।
শীতের ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ি নির্জনতায় কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে তুরুকই হতে পারে পরের ট্রিপের সেরা ঠিকানা।