পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কৃতির অনন্য দৃষ্টান্ত ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার সাঁওতালি অধ্যুষিত বাবেজোডা গ্রাম। পর্যটকদের জন্য এক নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে এই শান্ত, শিল্পসমৃদ্ধ গ্রাম।

বাবেজোডা গ্রাম যেন ক্যানভাস!
শেষ আপডেট: 17 June 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিচ্ছন্নতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম বাবেজোডা। শতাধিক সাঁওতালি পরিবার নিয়ে গড়ে ওঠা এই গ্রামে যেন পরিচ্ছন্নতা কোনও নিয়ম নয়, বরং এক রকম জীবনদর্শন। প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই নিঃশব্দ শান্ত গ্রাম এখন হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ গন্তব্য। সৌন্দর্য, সংস্কৃতি আর স্বচ্ছতার অপূর্ব সংমিশ্রণে গ্রামটি যেন পটে আঁকা এক ছবি।
এই ছবি অবশ্য কেবলই মানসপটে সীমাবদ্ধ নয়। ছবি যেন এই গ্রামের অলঙ্কার। কারণ গ্রামের প্রতিটি মাটির বাড়িই যেন ক্যানভাস, তাদের গায়ে আঁকা আছে সাঁওতালি লোকজ শিল্পের নিদর্শন। সেই ছবিগুলো শুধু শৈল্পিক নয়, সাঁওতালি জীবনচর্চা ও ইতিহাসের নীরব ভাষ্যও বটে। রাস্তাগুলি ঝকঝকে, কোথাও নেই আবর্জনার স্তূপ বা প্লাস্টিকের টুকরো। প্রতিটি মোড়ে ডাস্টবিন রয়েছে। পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে স্থানীয়দের গভীর সচেতনতা স্পষ্ট।

গ্রামেরই বাসিন্দা ফুলো হাঁসদার কথায়, 'আমরা সকলে মিলে গ্রাম পরিষ্কার রাখি। দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন, আর আমাদের প্রশংসা করেন।'
জনজাতি সমাজের উৎসব, পার্বণ লেগেই থাকে এই গ্রামে। বিশেষ করে 'পাতা পার্ব' উৎসবের সময় গ্রাম একেবারে নতুন রঙে সেজে ওঠে। মাটির বাড়িগুলোতে প্রাকৃতিক রঙে আঁকা হয় নতুন নতুন নকশা। উঠোন থেকে রাস্তা, সব কিছু ঝকমক করে পরিচ্ছন্নতায়। এই উৎসব উপলক্ষে গ্রামের প্রতিটি কোণ ঝকঝকে থাকে, আর সেখানেই যেন ফুটে ওঠে 'পরিষ্কার গ্রাম, গর্বের গ্রাম' ভাবনার পূর্ণতা।
তবে এই গ্রাম রাতারাতি এমন হয়নি। প্রায় ১৫ বছর আগে, শিক্ষক মধুসূদন মারান্ডি প্রথম এই গ্রামে পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের সূচনা করেন। তখন থেকেই গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে এই সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন। আজও তাঁর ভাবনার উত্তরাধিকার বহন করছেন গ্রামের বাসিন্দারা।

আজ তিনি প্রয়াত। কিন্তু গ্রামের বাসিন্দা দুখি শ্যাম হাঁসদার কথায়, 'মারান্ডি স্যারের চিন্তাভাবনা আমরা আজও অনুসরণ করি। এটা শুধু একটা অভ্যাস নয়, আমাদের জীবনযাপন।'
বাবেজোডার মতো ছোট্ট এই গ্রাম আমাদের শেখায়, পরিপাটি পরিচ্ছন্নতা শুধু নগরের চর্চা নয়। গাঁ-গঞ্জের শিকড়েও গেঁথে থাকতে পারে এমন চেতনা, যেখানে পরিচ্ছন্নতা, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অপূর্ব মিলন ঘটে। আধুনিক ভারতের জন্য এই গ্রাম হতে পারে এক অনুপ্রেরণা। সামান্য খরচে, নিজেরা মিলেই গড়া যায় পরিচ্ছন্ন ও শৈল্পিক এক পরিবেশ।