একেনবাবু কম দুষ্টু নন। পাহাড়ি রিসর্টে চায়ে চুমুক দিতে দিতে তিনি রসিয়ে রসিয়ে ফলোয়ারদের কৌতূহল উপভোগ করছেন। কিন্তু উত্তরের রহস্য ঝুলিয়েই রেখেছেন। তবে সেই সব ক্লু দেখে দ্য ওয়াল (The Wall) উত্তর সন্ধান করে ফেলেছে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 25 February 2026 16:16
মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে বেড়াতে যাওয়ার স্বাধীনতা অনেকটাই ছেলেমেয়ের স্কুলের হাতে চলে গেছে। কবে সেশন ব্রেক হবে, কতদিন গরমের ছুটি থাকবে, সেই হিসাব কষে তবেই বেড়াতে যাওয়া সম্ভব। এই যেমন মার্চ মাসে সেশন ব্রেক হবে, তার পর মে-র দ্বিতীয় সময় থেকে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সামার ভেকেশন। অনেকেই প্ল্যানিং সেরে টিকিট কেটে ফেলেছিলেন। আবার বহু পরিবার এখনও ডেস্টিনেশন সার্চ করে চলেছেন। আর ঠিকই এর মধ্যেই যেন হিংসার দাবানল লাগিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী (Anirban Chakrabarti)। তাঁর আউটডোর শ্যুটিং চলছে পাহাড়ে। আর সেখানে বসে এমন সব ছবি পোস্ট করছেন তিনি, যা দেখে কৌতূহল আর চেপে রাখতে পারছেন না ফ্যান বা ফলোয়াররা। কমেন্ট বক্স ভরে গেছে প্রশ্নে। দাদা, লোকেশনটা কী? হোটেলের নাম কী?
একেনবাবু কম দুষ্টু নন। পাহাড়ি রিসর্টে চায়ে চুমুক দিতে দিতে তিনি রসিয়ে রসিয়ে তা উপভোগ করছেন। কিন্তু উত্তরের রহস্য ঝুলিয়েই রেখেছেন। তবে সেই সব ক্লু দেখে দ্য ওয়াল (The Wall) উত্তর সন্ধান করে ফেলেছে।
একটা কথা এখানে জানিয়ে রাখা দরকার, বহু মধ্যবিত্ত স্বচ্ছল পরিবারের কাছে এখন বেড়াতে যাওয়া মানে শুধু ভাল বা আন-এক্সপ্লোরড কিংবা লেস-এক্সপ্লোরড ডেস্টিনেশনে যাওয়া নয়। ভাল বুটিক হোটেল বা রিসর্টেরও খোঁজ করেন তাঁরা। যে রিসর্ট বিলাসবহুল, ব্রেকফাস্ট স্প্রেডও ভাল, লোকেশন দুর্দান্ত ইত্যাদি। 'একেনবাবু'ও নির্ঘাত তা ঠাওর করতে পেরেছেন। কিংবা হতে পারে, একেনের কাছেও এখন ভাল লোকেশনের মতই হোটেল বা রিসর্টের পরিবেশ ম্যাটার করে। তাঁর সেই পোস্ট লুব্ধ করার মতই।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে অনির্বাণ প্রথমে যে ছবিটি পোস্ট করেন, তা থেকে লোকেশন ঠাওর করা সহজ নয়। দূরে পাহাড়ের কোলে সূর্য উঠছে সামনে বয়ে যাচ্ছে নদী। এমন দৃশ্যপট তো কতশত জায়গায় রয়েছে। তাই সঠিক জায়গাটা বোঝা ছিল সত্যিই দুষ্কর।

ছবি: অনির্বাণ চক্রবর্তীর সোশ্যাল মিডিয়া
একেনবাবু বুদ্ধিমান। তাই কিছুক্ষণ পরই নেক্সট ক্লু দিয়ে দেন তাঁর ফলোয়ারদের। সেটি ছিল, একটি হোটেল বা রিসর্টের ডাইনিং লাউঞ্জের ছবি। এবং সেটা ‘ওভারলুকিং দ্য রিভার’। অনির্বাণ পোস্ট কপিতে লেখেন, ‘কী ভেবেছিলেন, শুধু জায়গা? তা কখনও হয়?’
এর পর অনির্বাণ তাঁর অ্যাপিটাইজার ও মেনকোর্সের প্লেটের ছবি দেন। যা লোভনীয়। সেই সঙ্গে গোটা লাউঞ্জেরই একটা ছবি পোস্ট করেন।

ছবি: অনির্বাণ চক্রবর্তীর সোশ্যাল মিডিয়া
এবার উত্তরটা বের করা কঠিন নয়। এই বুটিক হোটেলটি রয়েছে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে (Rishikesh)। নাম হল, 'গঙ্গা কিনারে' (Ganga Kinare Rishikesh)। যেখানে আধ্যাত্মিকতা আর প্রকৃতির মায়া একে অপরের সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপার্থিব পরিবেশ। এই বুটিক হোটেলের আরও একটি আকর্ষণের বিষয় হল, এর কাছেই রয়েছে রাজাজি জাতীয় উদ্যান (Rajaji National Park)। রিসর্টের ওয়াটারসাইড এসপ্লানেড ধরে হাঁটলে দেখা যাবে তার একদিকে ধীরে বয়ে যাচ্ছে গঙ্গা নদী, অন্যদিকে নিরিবিলি পাহাড়। চারপাশের সবুজে ডুবে যাবে মন।
মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ গঙ্গা কিনারে-তে এক রাত কাটাতে (স্বামী, স্ত্রী ও ছোট সন্তানের জন্য- ট্রিপল অকুপেন্সি) খরচ পড়বে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। আগে থেকে বুক করলে বা অফ পিক সিজনে খরচ অনেকটাই কম হতে পারে।

ছবি: অনির্বাণ চক্রবর্তীর সোশ্যাল মিডিয়া
অনির্বাণের সম্ভবত ঋষিকেশে শ্যুটিং শেষ হয়ে গেছে। এবার অন্য লোকেশনে চলে গেছেন তিনি। তার পর গতকাল যে ছবি তিনি পোস্ট করেছেন তাও কম মনোরম নয়। হোটেলের সামনে আঁকাবাঁকা রাস্তা, গজেবো আর পাইনগাছের ছবি। আর এবার যেন কৌতূহলের ঢেউ উঠেছে লোকেশন জানতে। যেমন কমেন্ট বক্সে অদিতি চৌধুরী নামে এক ফলোয়ার লিখেছেন, “আপনি দিন দিন অনির্বাণদা থেকে একেনবাবু হয়ে যাচ্ছেন। ধুর এত সাসপেন্স ভাল লাগে না। জায়গাটা কোথায়?”
আবার অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় নামে এক ফলোয়ার লিখেছেন, “অনির্বাণদা, গেছেন ঠিক আছে, ভাল জায়গা, আনন্দ করুন.. কিন্তু জায়গার নামটা জানাতে কী হয়েছে? ভয় নেই, আমরা গিয়ে আপনাকে বিরক্ত করব না।”
তবে অনির্বাণ খারাপ ক্লু কিন্তু দেয়নি। সেই ধাঁধার উত্তরও সন্ধান করে ফেলেছে দ্য ওয়াল। এই বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হোটেলটি সম্ভবত 'লা ভিলা বেথানি' (La Villa Bethany)। মুসৌরির (Mussoorie) কাছে ল্যানডৌরের (Landour) পুরনো ইংরেজ আমলের কটেজ। রাসকিন বন্ডসের বাড়ি তথা ল্যানডৌরের সানসেট পয়েন্ট থেকে হেঁটে বড়জোর ১ কিলোমিটার। ল্যানডৌর শান্ত নিরিবিলি ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

ছবি: অনির্বাণ চক্রবর্তীর সোশ্যাল মিডিয়া
এই হোটেলটিতে যেমন রয়েছে, ক্যাপ্টেন ইয়ং-এর ডাইনিং রুম বা ম্যাকিননের স্টাডি, পাহাড়ি উইলসনের কেবিন, রয়্যাল গার্ডেন - সবেতেই যেন ঔপনিবেশিক সময় বাঁধা পড়ে রয়েছে।
এই সামার ভেকেশনে 'লা ভিলা বেথানি'-তে বুকিং মেলা কঠিন। কারণ, প্রায় সব ডেটই আগাম বুক হয়ে গেছে। তবে ল্যানডৌরে বছরের যে কোনও সময়েই বেড়াতে যাওয়া যায়। প্রতিটি মরশুমেরই আলাদা বাহার ও আকর্ষণ রয়েছে। তা ছাড়া ল্যানডৌরে রয়েছে আরও অনেক কটেজ ও হোমস্টে।

ছবি: অনির্বাণ চক্রবর্তীর সোশ্যাল মিডিয়া
জানিয়ে রাখা ভাল, এই প্রতিবেদন লেখার আগে অনির্বাণ চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁর ফোন রিচেবল নয়। তিনি যে পোস্টগুলি করেছেন সেই সব দেখেই খোঁজ খবর নিয়ে লেখার চেষ্টা। সেই উত্তর সন্ধান সঠিক হল কিনা তার উত্তর অনির্বাণই দিতে পারবেন।