
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 December 2024 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে ঘুরতে ভালবাসেন। ট্রেক করারও ভীষণ ইচ্ছে। কিন্তু কোনও দিন করেননি বলে ভয় পাচ্ছেন? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ দার্জিলিং আপনার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করে রেখেছে। আপনি প্রফেশনাল ট্রেকার হন কিংবা সবে শুরু করছেন, দার্জিলিংয়ে এমন এমন জায়গা রয়েছে যা আপনার সব ইচ্ছা পূরণ করবে।
বর্ষশেষ-বর্ষবরণের এই সময়টা পাহাড় এমনই পর্যটকে ঠাসা থাকে। প্রচুর মানুষ ট্রেক করতে পাহাড়ে যান এই সময়ে। কিন্তু অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, ঠিক কোথায় ট্রেকিংয়ে যাবেন, সেই জায়গা কতটা সুরক্ষিত হবে। তার জন্য দার্জিলিংয়ে এই ৫টি ট্রেকিং পয়েন্ট সম্পর্কে জেনে নিলে ভাল।
কোথায় ট্রেক করতে যাওয়ার আগে সবার আগে জেনে নেওয়া উচিত আবহাওয়া সম্পর্কে। বছরের এই সময়টা দার্জিলিংয়ের আবহাওয়া যথেষ্ট মনোরম থাকে। তাই ট্রেক করার আলাদা এনার্জিও পাওয়া যায়। তাই দেখে নেওয়া যাক দার্জিলিংয়ের সেরা ৫ ট্রেকিং স্পট, যেখানে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যাওয়া যেতে পারে।
টাইগার হিল ট্রেক
দার্জিলিংয়ের সবথেকে আইকনিক ট্রেক স্পট বলা যায় টাইগার হিলকে। দার্জিলিং থেকে সাতসকালেই এই ট্রেকের যাত্রাপথ শুরু করা যায়।

জঙ্গলে ঘেরা পাহাড় এবং ছোট ছোট গ্রাম পার করে ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যেতে পারে টাইগার হিল সামিটে। সেখান থেকে পাহাড়ের যে ভিউ দেখা যায় তা সারাজীবন মনে গেঁথে থাকবে।

ঘুম মনাস্ট্রি ট্রেক
আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের পরিচয় দেয় এই ঘুম মনাস্ট্রি। এটিই দার্জিলিংয়ের অন্যতম পুরনো তিব্বতি-বৌদ্ধ মনাস্ট্রি।

যাত্রা শুরুর ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় সেখানে। বিভিন্ন রঙবেরঙের পতাকা ঘেরা রাস্তা পার করে মনাস্ট্রি পৌঁছতে হবে। তারপর সেখানের শান্ত এবং মনোরম পরিবেশ আপনাকে আপন করে নেবে।

তিনচুলে ট্রেক
দার্জিলিংয়ের গ্রাম্য পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে তিনচুলে ট্রেক হতে পারে আপনার জন্য অন্যতম সেরা। চা-বাগানে ঘেরা এবং অত্যন্ত মনোরম পরিবেশের এই গ্রামে পৌঁছতে দার্জিলিং থেকে ৫ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

হিমালয়ার অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং পাহাড়ি রাস্তার পাশ দিয়ে চা-বাগানের ভিউ, এই ট্রেককে আরও বেশি উপভোগ্য করে তোলে।

সেঞ্চাল লেক ট্রেক
জোড়াবাংলো এলাকা থেকে ৩-৪ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করেই পৌঁছে যাওয়া যায় সেঞ্চাল লেক। এটি সেঞ্চাল অভয়ারণ্যে মধ্যে অবস্থিত। ঘন জঙ্গলের মধ্যের রাস্তা দিয়ে রকমারি ফুল এবং গাছ দেখতে দেখতে করা এই ট্রেক অনেকদিন মনে থাকবে।

কেউ যদি খুব ভোরবেলা উঠে এই ট্রেক করতে পারেন তাহলে সেঞ্চাল লেক থেকে যে সানরাইজ ভিউ পাওয়া যাবে তা দেখার মতো। একই সঙ্গে বিভিন্ন পাখি এবং তাদের ডাকের আওয়াজে মন ভাল হয়ে যাবে।
মানেভঞ্জন ট্রেক
অন্য একাধিক ট্রেক করার পথ খুলে দেয় এই মানেভঞ্জন ট্রেক। দার্জিলিং থেকে ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যেই এই ট্রেক কমপ্লিট করা যায়। আবার এখান থেকেই একাধিক ট্রেকে বেরিয়ে পড়া যায়।

ট্রেক করার সময়ে জঙ্গলের মধ্যে বেশ কিছু জন্তু দেখাও যেতে পারে। তাছাড়া রয়েছে রাস্তা থেকে পাহাড়ের অপরূপ সুন্দর দৃশ্য।

দার্জিলিং এমন একটি জায়গা যা আপনাকে নানা ধরনের স্মৃতি দেবে। এমন কিছু দৃশ্যের সাক্ষী থাকবেন আপনি যা সারা জীবনেও ভুলতে পারবেন না। সবকটি ট্রেকই ৩-৪ দিনের মধ্যে এবং জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা বা তার কমে হয়ে যাবে। তাই বর্ষশেষ হোক বা বর্ষবরণ, বছরের শুরুতে হোক কিংবা বছরের মাঝে, সুযোগ পেলেই ট্রেক করতে চলে যান। আপনাকে যে দার্জিলিং ডাকছে...