
শেষ আপডেট: 23 November 2023 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্ল্যাক ফ্রাইডে মানেই হল সেল। কেনাকাটির হিড়িক পড়ে যায় আমেরিকায়। কালো শুক্রবার মানে এখানে কোনও দুঃখের দিন নয়। বরং উল্টোটাই। আমেরিকায় খুব হইহই করে পালন করা হয় এই দিনটা। নভেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার, অর্থাৎ থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের ঠিক পরের দিন হল ব্ল্যাক ফ্রাইডে। আমেরিকাজুড়ে এই দিনটাকে ছুটির দিন হিসেবে সেলিব্রেট করা হয়। প্রচুর শপিং করা হয়, কেনাকাটিতে ছাড়ও থাকে বিস্তর। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য নানারকম ডিসকাউন্ট দেয় বিভিন্ন সংস্থা। আমেরিকার দেখাদেখি ভারতেও এখন এই ব্ল্যাক ফ্রাইডে ঢুকে পড়েছে রমরমিয়ে।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে আসলে কী?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'থ্যাঙ্কসগিভিং'-এর ঠিক পরেই ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি শুরু হয়। এই দিন থেকে সেল শুরু হয়। বড়দিনের আগে এই ব্ল্য়াক ফ্রাইডে মনে করিয়ে দেয় যে উৎসব আসছে। কেনাকাটি শুরু হয়ে যায় এই দিন থেকেই। ক্রিসমাসের জন্য অনেকে কেনাকাটি করেন ওই দিন। ঘর সাজানোর জিনিস বা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র, গয়না, পোশাক, অ্যাকসেসরিজ সবেতেই থাকে ডিসকাউন্ট।
নভেম্বরের শেষ বৃহস্পতিবার থ্যাঙ্কসগিভিং ডে পালিত হয়। ব্ল্যাক ফ্রাইডে পালিত হয় তার পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার। এই বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডে ২৬ নভেম্বর পড়েছে। সাধারণত দেখা যায় থ্যাঙ্কসগিভিং ডে-র সন্ধে থেকেই দোকানপাট সাজিয়েগুছিয়ে খোলা রাখা হয়। কিছু কিছু শপিং মল সারা রাত ধরে খোলা থাকে যাতে গ্রাহকরা অনেক সময় জুড়ে কেনাকাটা করতে পারেন। ব্ল্যাক ফ্রাইডের ভোর থেকেই দোকান, মলে বিশাল ভিড় হয়। হুড়োহুড়ি করে কেনাকাটি সারেন লোকজন।
ব্ল্যাক ফ্রাইডের ইতিহাস জানেন?
ব্ল্যাক ফ্রাইডে কী জানতে হলে একটু পিছিয়ে যেতে হবে। কেন এই দিনই এত কেনাকাটির ধুম পড়ে যায় সেটা জানতে হলে এর ইতিহাস বুঝতে হবে। ১৯৫০ সালে ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ প্রথম থ্যাঙ্কসগিভিং ডে-র পরের দিনটাকে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ বলেছিল। এটা ফুটবলের মরশুম। বহু পর্যটক এই সময় খেলা দেখার জন্য শহরে ভিড় করতেন। তাঁরা প্রচুর শপিংও করতেন। তখন শহরের দোকানের বাইরে দীর্ঘ লাইন পড়ত। এতই ভিড় ও হুড়োহুড়ি হত যে তা সামলাতে নাকানিচোবানি খেতে হত পুলিশকে। চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হত। তাই ওই দিনটাকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে বলা হত। ২০১৩ সালের পর থেকে থ্যাঙ্কসডিভিং ডে-র পরদিনকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে বলেই সেলিব্রেট করা হয়। অনেক ই-কমার্স সংস্থাও ওই দিন বিপুল ছাড় দেয়। এই কেনাকাটি ও খরচের রেকর্ডও আছে। আমেরিকায় ২০১৪ সালে ব্ল্যাক ফ্রাইডের সপ্তাহে কম করেও ৪০৩ ডলার খরচ করে কেনাকাটি করেছিলেন ক্রেতারা।
দেখা গেছে, একটি ব্ল্যাক ফ্রাইডে দিনে যে পরিমাণ বেচা-কেনা হয় তাতে এই এক দিনেই আমেরিকার অর্থনীতির সূচক এক লাফে অনেক উপরে ওঠে যায়। সাধারণত হিসাবের খাতায় লোকসানকে লাল কালিতে চিহ্নিত করা হলেও, ওই দিন শুরু থেকেই হিসেবনিকেশ কালো কালিতে লেখা শুরু হয়ে যায়। কালো বলতে আমরা সাধারণত নেতিবাচক দিককে বুঝে থাকি, তবে 'ব্ল্যাক ফ্রাইডের' ব্ল্যাক শব্দটি ব্যবসায়িক দিক থেকে ইতিবাচক দিককে নির্দেশ করে।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল এখন ভারতেও
ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল আগে ভারতে হয়নি। আমেরিকাতেই চলত। তবে এবার ভারতেও শুরু হয়েছে ব্ল্যাক ফ্রাইডে স্পেশাল অফার । ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেলের কারণে অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট পণ্যে ছাড় দিচ্ছে। ওই দিন শুধু অনলাইন নয়, অফলাইন স্টোরেও থাকবে নানারকম ছাড়। ইলেকট্রনিক্স, হোম কেয়ার ডিভাইস, জামাকাপড় ও অন্যান্য পণ্যের আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট দিচ্ছে অনেক সংস্থাই।