দ্য ওয়াল এখন হোয়াটসঅ্যাপেও। ফলো করতে ক্লিক করুন।

শেষ আপডেট: 1 October 2023 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাপাই সেনের ভাবনায়, সনাতন পালের প্রতিমা তৈরিতে সাজবে এবারের যোধপুর পার্ক মণ্ডপ। দেবতনু দত্ত ও শুভজিৎ সাঁতরার সুর ও গীত রচনায় থিম সংগীতের শিল্পী হলেন মৌসুমী দাস ও শ্রেয়া ব্যানার্জী।
আজকাল বা পরশুর গল্প নয়, থাকব চিরকাল, মানুষ হয়ে মানুষেরই মাঝে। না, চিরকাল মানে আমৃত্যু নয়; মৃত্যুর পরেও। পুনর্জন্ম বা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঊর্ধ্বেও মানুষের আরেকটি জীবন আছে। বিবেকানন্দের কথায় পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে আমাদের সেরা কীর্তিগুলো যেন একটা দাগ রেখে যায়। পরবর্তী প্রজন্মকে চিনিয়ে দিয়ে বলবে, আমরা কে ছিলাম। কী করে গিয়েছি আমরা? মনীষীদের শ্রেষ্ঠ কীর্তি লেখা থেকে যাবে যুগে যুগে। কিন্তু আমরা? আমাদের বিশ্বাস, আমাদের অলীক কল্পনা – এ জন্মে যা পাইনি, তা নিশ্চই পাব পরজন্মে। যদিও আমরা জানি "জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে, চিরস্থির কবে নীর, হায়রে জীবন নদে?”
সৃষ্টিকর্তা এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন সবুজ শ্যামলে। সুন্দর করে সাজিয়েছেন পৃথিবী, যেখানে সেরা সৃষ্টি হলাম আমরা, অর্থাৎ মানব জাতি। একটা লম্বা জীবন পেয়েছি, কিন্তু সেটা বড়ই ক্ষণস্থায়ী। এ জীবনের আয়ু অনন্তকালের নয়। আমাদের জীবন নশ্বর। জীবনের শুরু হয় জন্ম দিয়ে আর পরিসমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। মানুষের পচনশীল শরীর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে মিশে যায় পৃথিবীর মাটিতে।
মানুষ বেঁচে থাকে অন্যের স্মৃতিতে। সৃষ্টিকর্তা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে মানুষকে পাঠিয়েছেন পৃথিবীতে। মানুষ চিরদিনের মত পৃথিবী ছেড়ে যায় চলে। শুধু অমর থেকে যায় তার সৃষ্টিকর্ম।
"ধরায় যখন দাওনা ধরা, হৃদয় তখন তোমায় ভরা, এখন তোমার আপন আলোয়, তোমায় চাহি রে।” পৃথিবীর আলো, রঙ, রূপ, পৃথিবীর রূপ দৃশ্যায়িত করার জন্য যে অঙ্গটি সবচেয়ে জরুরি, সেটি হল 'চোখ'। দৃষ্টিহীনদের অন্ধকারের কথা, দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের অনুভবের বাইরে। আর সেটাই স্বাভাবিক। তবু কি একবারও ভেবে দেখা যায় না তাঁদের কথা?
দ্য ওয়াল এখন হোয়াটসঅ্যাপেও। ফলো করতে ক্লিক করুন।
দৃষ্টিহীনরা অন্ধত্বকে ঈশ্বরের অভিশাপ বা ভাগ্যের লিখন বলেই এতকাল মেনে নিয়েছেন। সেই ভ্রান্ত ধারণা আজ বদলেছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির মাধ্যমে বহু ধরনের অন্ধত্ব রোধ করা আজ সম্ভব। এখন তো মৃত্যুর পরও নিজের চোখ অন্যকে দান করা যায়, চাইলেই বেঁচে থাকা যায় তাঁর চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো রঙ দেখে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৪ কোটি মানুষ একেবারে অন্ধ বা আংশিক অন্ধ। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, এই ৪ কোটি মানুষের মধ্যে, প্রায় ১৬ লক্ষ শিশুও রয়েছে। মৃত্যুর পর যাতে চোখ দুটি অন্য কোনও মানুষের কাজে লাগতে পারে, সেই ভেবেই মরণোত্তর চক্ষুদান করে যান বহু মানুষ।
কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ধত্ব মোচন এখন অনেকটাই সহজ। এভাবেই এক চক্ষুদাতা অমর হয়ে থাকেন অন্যের চোখে। মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে তার দৃষ্টি। “আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।” জাগতিক নিয়মে আমরা ক্ষণস্থায়ী হলেও, অন্তর থেকে সবাই বারবার ফিরে আসতে চাই এই ধরিত্রীর বুকে। “আবার আসিব ফিরে, ধানসিড়িটির তীরে এই বাংলায়। আসুন আমরা মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকারবদ্ধ হই। পুনর্জন্ম হোক দু'চোখের আলোয়।