
শেষ আপডেট: 7 December 2023 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এখন চারিদিকে ঘুরতে যাওয়ার ছবি, যার মধ্যে বেশিরভাগই পাহাড়ের। ঢেউয়ের মতো সবুজ-নীল পাহাড়ের পিছনে সাদা কাঞ্চনজঙ্ঘা। কখনও কিছুটা মেঘের আড়ালে, কখনও স্পষ্ট নীল আকাশের সুবিশাল ক্যানভাসে। কম বেশি ঘুরতে যাওয়ার শখ যাদের আছে তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরতে যাওয়ার নানান গ্রুপে যুক্ত থাকেন। দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে সেদিকে চোখ পড়লে মন একটু খারাপ হয় ঠিকই তবে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছেটাও সজীব থাকে বছরভর।
এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে এইসমস্ত গ্রুপে একটা বিশেষ জায়গার ছবি খুব ঘোরাফেরা করছে। জায়গার নাম 'ধোত্রে'। হঠাৎ করে ধোত্রে যাওয়ার জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে কারণ একটাই। ধোত্রে থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সামনেই বড়দিন ফলে কালিম্পং, দার্জিলিং-এ প্রত্যেকটা হোটেল হোমস্টে এখন হাউসফুল। তাই বাঙালি খুঁজছে অফবিট ডেস্টিনেশন।
সান্দাকফু ট্রেক রুটের অন্যতম জনপ্রিয় ডেস্টিনেশন ধোত্রে। অনেকে মানেভঞ্জন থেকে ট্রেক শুরু করে ট্রেক শেষ করে নেমে আসেন ধোত্রেতে। সেখানে ২ দিন শান্তিতে সময় কাটিয়ে, বিশ্রাম নিয়ে ফিরে আসেন নিজস্ব ব্যস্ততায়। আবার অনেকে মানেভঞ্জন হয়ে ধোত্রে, চিত্রে, মেঘমা, টংলু, টুমলিং, কালাপোখরি পেরিয়ে পৌঁছে যান সান্দাকফু। যদি আপনি ট্রেকিং করতে স্বছন্দ্যবোধ না করেন তাহলে ধোত্রেতে গিয়ে দু'তিনদিন কাটিয়ে আসুন।
পাহাড়ের বুকে এমন সুন্দর ছোট্ট একটা গ্রাম খুব কমই আছে। শীতের সময়ে বিশেষ করে ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি নাগাদ দারুণ তুষারপাতও হয় এখানে। ৮৫৩০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়ি গ্রামের পর্ক মোমো না খেলেই জীবনে একটুখানি অপ্রাপ্তি থেকে যাওয়ারই কথা। আঁকাবাঁকা পথ, বেশ কয়েকটা গজিয়ে ওঠা হোটেল হোমস্টে, কিছু সাজানো গোছানো দোকান আর স্লিপিং বুদ্ধার অপরূপ দৃশ্য যতবারই দেখুন না কেন একই বিস্ময়বোধ আর মুগ্ধতা আপনাকে ঘিরে থাকবেই।
রাতে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরে পৌঁছে যান নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে একটা গাড়ি বুক করে চলে যান ধোত্রে। ছোট গাড়ি হলে ৩০০০, ৩৫০০ হাজার টাকা ভাড়া পড়বে আর বড় গাড়ি নিলে ৪৫০০, ৫০০০ টাকা। একটু দরাদরি করে গাড়ি ঠিক করে, বাক্স প্যাটরা নিয়ে উঠে পড়ুন গাড়িতে। পাহাড়ি রাস্তা, ঝাউবন, কুয়াশার আসা-যাওয়া, রোদের লুকোচুরি আর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেখতে কখন যে গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন বুঝতেও পারবেন না।

হোটেলে ঢুকতে ঢুকতে সন্ধ্যা না হয়ে গেলে গ্রামটার এদিকওদিক ঘুরে দেখুন। এখানে প্রচুর ট্রেন্ডি শীতের পোশাক কম দামে পাওয়া যায়। রয়েছে অনেক ছোট ক্যাফে, রেস্তোরাঁও। রেস্তোরাঁতে ঢুকে যেটা খেতেই হবে সেটা হল ফ্রেশ জুসি পর্ক মোমো। এমনই তার স্বর্গীয় স্বাদ যে এক প্লেটে মন ভরবে না সঙ্গে শরীর গরম করতে থাকুক ওখানকার স্থানীয় পানীয়।

তারপর হোটেলে ফিরে গিয়ে ঘরের বানানো খাবার দিয়ে সেরে ফেলুন ডিনার। পরের দিন সকালে উঠে যান সাইটসিং-এ। হাতে একটু সময় নিয়ে এলে সবসময় গাড়ি করে না ঘুরে দুএকটা জায়গায় ট্রেক করেও যেতে পারেন। ধোত্রে থেকে যেতে পারেন চিত্রে, মেঘমা, টংলু, টুমলিং। আরও উপরে যেতে চাইলে যেতে পারেন কালাপোখরি হয়ে সান্দাকফু। ফিরে আসার আগের দিন সকাল থেকে ধোত্রেতেই থাকুন। ধোত্রে ভিউ পয়েন্ট, সুখিয়াপোখরি মার্কেট এসব ঘুরে দেখে নিন যাতে ফিরে এসেও স্মৃতিতে বেশ কিছুদিন জড়িয়ে রাখতে পারেন অপরূপ পাহাড়ি গ্রামটিকে।

ধোত্রেতে জনসংখ্যা বেশ ভালই কম। ভাল হোমস্টে বা হোটেল পেতে হলে আগে থেকে বুক করে যাওয়াই ভাল। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে হোমস্টের জানলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে কার না ভাল লাগবে। সঙ্গে পাবেন অরগ্যানিক ভাবে বাড়িতে চাষ হওয়া সবজি, ফল। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় ধোত্রের চারিদিকে রয়েছে সারি সারি পাইনের বন। ডেইজি, রং বেরঙের অর্কিড, চকচকে তারায় ভরা আকাশ আর ভাগ্য ভাল থাকলে তুষারপাত, এই পাহাড়ি গ্রামের পুরোটাই যেন ছবি।
