
শেষ আপডেট: 5 January 2023 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতকাল (Winter) এলেই যেন হইহুল্লোড়ের পারদ বাড়তে থাকে। আজ পার্টি, কাল খাওয়াদাওয়া, পরশু গেটটুগেদার লেগেই আছে। আর সেই সঙ্গেই ভ্রমণপ্রেমীদের আছে পায়ের তলায় সর্ষে। খুব লম্বা ছুটি না পেলেও, বেড়াতে যাওয়ার বাসনা প্রবল হয়ে ওঠে।
হইহুল্লোড়ও হল আবার বেড়ানোও হল, এমনই এক ডেস্টিনেশনের সন্ধান রইল আপনাদের জন্য। কম বাজেটে তিন-চারদিন (Small and Pocketfriendly) কাটিয়ে আসুন গোয়ায় (Goa Trip)। আরব সাগরের কোলে অবস্থিত ছোট্ট এই রাজ্যে নানা বাজেটের হোটেল, হোমস্টে রয়েছে। খাবার এবং পানীয়ও বেশ সস্তা।

ভাড়া পাওয়া য়ায় গাড়ি, স্কুটার কিংবা জিপ। সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকে মাতুন নানা ওয়াটার স্পোর্টসে। রাতের জন্য ডিস্কো, পাবের সংখ্যা অসংখ্য। এসবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রয়েছে জিভে জল আনা সি ফুড।
তবে কম সময়ে ও কম খরচে গোয়া ঘুরে আসতে হলে একটু পরিকল্পনা করে নিতে হবে। সেইমতোই আমরা সাজিয়ে দিলাম একটা ছক।

প্রথম দিন: পানজিম
সকালের ফ্লাইটে রওনা দিয়ে সেদিনই পৌঁছে যান পানজিম। ভিড়ভাট্টায় ভর্তি ব্যস্ত শহর হলেও, এর প্রাণচাঞ্চল্য আপনাকে আকৃষ্ট করবে। এখানেই দেখে ফেলতে হবে ১৬১৯ সালে নির্মিত অপূর্ব সুন্দর ওয়ার লেডি অফ ইম্যাকুলেট কনসেপশন চার্চ।

এরকম আরও অনেক দুর্দান্ত চার্চ রয়েছে পানজিম শহরে, ঘুরে দেখুন সে সব। পানজিমে আছে অনেক সস্তার হোমস্টে, থাকতে পারেন সেখানেই।

পানজিম থেকেই মাণ্ডবী নদীর তীরে বারদেজের রেইস ম্যাগোস ফোর্টে পৌঁছে যাওয়া যায় মাত্র ২৫ মিনিট পায়ে হেঁটে। ১৫৫১ সালে নির্মিত এই দুর্গ এক সময় পর্তুগিজদের দুর্গ ছিল। কিছুকাল এই দুর্গটি কারাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। পুরানো ঔপনিবেশিক আমলের কামান রয়েছে এখানে। এখানকার দোকান থেকে কাছের লোকদের জন্য ছোট ছোট উপহারও কিনে নিতে পারবেন।

দ্বিতীয় দিন: অঞ্জনা বিচ
নীল জলরাশির উচ্ছ্বাস এবং রঙিন পোশাক পরা মানুষের ভিড়ে যেন ঝলমল করছে এই বিচ।

চেষ্টা করতে পারেন, বুধবার এই বিচে আসার। কারণ এখানে সাপ্তাহিক বাজার বসে সপ্তাহের এই দিন করে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকে। দারুণ সব রঙিন, আকর্ষণীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায় এই বাজারে। গোটা বিচজুড়ে অনেক ঐতিহ্যবাহী স্টল বসে। কস্টিউম জুয়েলারি, ব্যাগ, জামাকাপড়, শো পিস ইত্যাদি নানা জিনিস পাওয়া যায়।

অঞ্জনা বিচের খানিকটা দূরেই রয়েছে চাপোরা ফোর্ট। সমুদ্র সৈকতে কেনাকাটা শেষ করে একটি গাড়ি নিয়ে মিনিট দশেকেই পৌঁছে যেতে পারেন এই কেল্লা। এখানেই 'দিল চাহতা হ্যায়' সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল। নস্ট্যালজিয়া উপভোগ করার পাশাপাশি প্রাণভরে ছবি তুলতেও ভুলবেন না।

তৃতীয় দিন: ওল্ড গোয়া
এখানেও রয়েছে বেশ কিছু পুরনো, ঐতিহ্যবাহী গির্জা। যেমন বিখ্যাত ব্যাসিলিকা অফ বোম জেসাস। ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই গির্জা দেখলে তাক লেগে যায়।

সেখানে কাচের ঢাকাওয়ালা কাঠের বাক্সে শায়িত সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারের দেহ। প্রতি বারো বছর অন্তর তাঁর দেহ কফিন থেকে বার করে জনসাধারণের কাছে প্রদর্শিত করা হয়। আপামর গোয়াবাসীর সে এক উৎসব বলা যায়।

এছাড়াও আছে ক্যাথিড্রাল, ক্যাথলিক চার্চ অব সেন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসি।
চতুর্থ দিন: দক্ষিণ গোয়া
হুল্লোড় শেষ হলে সাউথ গোয়া বা দক্ষিণ গোয়ায় গিয়ে খুঁজে নিন শান্তি এবং বিশ্রাম। এখানে পর্যটকরা মূলত এই জন্যই যান। জমজমাট উত্তর গোয়ার ঠিক বিপরীত চিত্র এই শান্ত দক্ষিণ গোয়ায়।

মোবর বিচ, পালোলেম বিচ, ভার্কা বিচ, ক্যাভেলোসিম বিচ এবং আগোন্ডা বিচ দক্ষিণ গোয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত। ঘুরে দেখতে পারেন নানা বিচ, বা যে কোনও একটি বিচে শান্তিতে কাটাতে পারেন কয়েক ঘণ্টা সময়।
