
শেষ আপডেট: 26 April 2023 13:52

শুধু তাই নয়, ১০৫ বছর ধরে চলা এই দোকানের পিছনে লুকিয়ে আছে এক অজানা ইতিহাস। বেশিরভাগ লোকজনই এই দোকানটিকে চেনে একটাই নামে। নেতাজির (Netaji Subhas Chandra Bose) তেলেভাজার দোকান। নেতাজি স্বয়ং নাকি তেলেভাজা খেতে আসতেন এখানে। জানা গেছে, দোকানের বর্তমান মালিকের ঠাকুরদার সঙ্গে নেতাজির আলাপ ছিল। প্রায়ই সেখানে খেতে আসতেন নেতাজি। দেশবরেণ্য নেতার স্মৃতিতেই এখনও প্রতি বছর নেতাজির জন্মদিন সবাইকে বিনামূল্যে তেলেভাজা খাওয়ানো হয় বলে জানান কর্ণধার সুধাংশু কুমার গুপ্তা।

হাতিবাগান থেকে বিধান সরণির রাস্তা ধরে এগোলেই ডানহাতে পড়বে এই বিখ্যাত দোকান যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯১৮ সালে। এখানে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন মুখরোচক তেলেভাজা খুবই স্বল্প দামে। পাবেন একদম হাতে গরম ফুলুরি, আলুর চপ, ধোকা বরফি, ভেজিটেবল চপ, পনির চপ, পেঁয়াজি, বেগুনি আরও কত কি। দেখতে পাবেন অন্য ধরনের কিছু তেলেভাজাও যেমন - চাউমিন চপ, ক্যাপসিকাম চপ, মাশরুম চপ। দোকান খোলা নিত্যদিন আর রোজই সেখানে তৈরি হচ্ছে জিভে জল আনা নানা রকম তেলেভাজা। দাম ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা।

নেতাজি কি সত্যিই আসতেন এখানে? কীভাবে দেখা হয়েছিল তাঁর দাদুর সঙ্গে? এই প্রশ্নের জবাবে দোকানের অন্যতম কর্ণধার চতুর্থ প্রজন্মের সুধাংশু জানান, তাঁর প্রপিতামহ খেঁদু সাউ দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন আজ থেকে প্রায় ১০৫ বছর আগে। ছেলের নামে অর্থাৎ সুধাংশুর দাদু লক্ষ্মীনারায়ণ সাউয়ের নামে দোকানের নামকরণ করা হয়। সেই সময়ে এই দোকানটি ব্যবহার করা হত তথ্য সংগ্রহের কেন্দ্র হিসেবে। ১০৫ বছর আগের দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এভাবেই কিছু কিছু দোকানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া নেওয়া করা হত।

নেতাজি যখন ছাত্র সুভাষ, পড়তেন স্কটিশ চার্চ কলেজে, সেই সময়েই আলাপ হয় সুধাংশুর ঠাকুরদা খেঁদু সাউয়ের সঙ্গে। তথ্য সরবরাহের অন্যতম একটি আস্তানা হওয়ায় অনেক জ্ঞানীগুণী লোক আসতেন তাঁর দোকানে। নানান আলোচনার মাঝেই চলে আসতো ঝুপড়িতে করে গরম গরম তেলেভাজা আর মুড়ি। সুধাংশুর প্রপিতামহ শ্রী খেঁদু সাউ সুভাষচন্দ্রের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় ১৯৪২ সাল থেকে নেতাজির জন্মদিনে সবাইকে বিনামূল্যে তেলেভাজা খাওয়াতে শুরু করেন। সেই চল আজও রয়ে গেছে।
দেখুন ভিডিও-
পান্তাভাতের সঙ্গে ইলিশভাজা! গ্রামবাংলার এই পদের জাদুতে মাতল আমেরিকাও