
Holi Utsav 2024
শেষ আপডেট: 20 March 2024 14:04
'রঙ্গ বরসে ভিগে চুনারওয়ালি রঙ্গ বরসে...।' হরিবংশ সিং বচ্চনের লেখা এবং শিবকুমার শর্মা ও হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার সুরারোপিত অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে এই গান দেশের হোলি উৎসবের থিম সং হয়ে গিয়েছে ১৯৮১ সাল থেকে। তার আগে পর্যন্ত ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শোলে সিনেমার 'হোলি কে দিন' গানটিই ছিল দেশের তামাম যুবকদের কাছে দোলের নাচগানের রঙিন ফোয়ারা। সেই আমলে কলকাতায় বাংলা সিনেমায় 'মঞ্জরী অপেরা'য় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে 'আজ হোলি খেলব শ্যাম তোমার সনে' কিংবা 'বসন্ত বিলাপ' ছবিতে ও 'শ্যাম যখন তখন...' বাঙালির প্রাণে দোলা লাগানো দোলের গান। শুধু বাংলা নয়, দোলযাত্রা হল গোটা দেশের এবং জন্মভূমির বাইরে থাকা ভারতীয়দের কাছেও প্রাণমনে আনন্দরসের রঙের মেলা। দেওয়ালি যদি মনের অন্ধকার দূর করে আলোর জ্যোতি জাগানোর উৎসব হয়, তাহলে দোল বা হোলি হল অন্তরের যাবতীয় কালিমা ধুয়ে নতুন করে প্রেমের রঙ ঢেলে হৃদয়ের অন্তঃপুরকে পরিপূর্ণ করে তোলার উৎসব।
দোল বা হোলি হল রঙের উৎসব। বসন্তের রঙ যখন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে আপন মাধুরীতে, তখন হৃদয়ে দোলা লেগে ওঠে। অন্তর থেকে দুষ্ট আত্মাকে বিতাড়িত করে শত্রুবিজয়ের দিন। এদিন শক্তিতে নয়, রঙের সাজে শত্রুকে জয় করতে হয়। এই উৎসবকে কেউ বলেন হোলি, বাঙালিরা বলেন দোলযাত্রা, কেউ বলেন বসন্তোৎসব। এ বছর হোলি পড়েছে ২৫ মার্চ, সোমবার।
হোলিকা দহন
হোলির আগের রাতে উত্তর ভারত, নেপাল এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু স্থানে হোলিকা দহন বা ন্যাড়াপোড়া হয়। বাচ্চারা সেদিন বিভিন্ন ধরনের জিনিস চুরি করে এবং হোলিকার আগুনে সেগুলোকে পোড়ায়। এর দ্বারা রাজা হিরণ্যকশিপুর অশুভ শক্তির চেয়ে ভক্ত প্রহ্লাদের শক্তি বেশি, এই বিশ্বাসেই অসুর পোড়ানো হয়।
রাক্ষস রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন পরম বিষ্ণুভক্ত। সেই কারণে প্রহ্লাদকে হত্যা করার জন্য হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে আগুনে নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করেন। বিষ্ণুর কৃপায় আগুন প্রহ্লাদকে স্পর্শ করতে না পারলেও সেই আগুনে পুড়ে মারা যায় হোলিকা। তার হোলি হল অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। তাই হোলির আগের দিন হোলিকা দহন পালন করা হয়। একে ছোটি হোলিও বলা হয়। লোকমুখে প্রচলিত পাক পঞ্জাবের মুলতানে এই রীতির সূচনা হয়েছিল। যদিও এর কোনও ঐতিহাসিক-বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
দক্ষিণ ভারতে এই অনুষ্ঠানকে কাম দহনম বলা হয়। যার অর্থ হল শিব তাঁর তৃতীয় নয়নের তেজে কামদেবকে ভস্ম করেন। তামিলনাড়ুর গ্রামাঞ্চলে এখন কামদেবের প্রতিকৃতি তৈরি করে কুশপুতুল পোড়ানো হয়।