
হোলি - প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 20 March 2024 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনি, রবি, সোম তিনদিনের অখণ্ড ছুটি। যাঁদের পায়ের তলায় সর্ষে আছে, তাঁদের মন কি ঘরে টিকবে? সাবধানী অনেকে আগে থেকেই ব্যবস্থা করে রেখেছেন। যাঁরা এখনও করেননি, তাঁরা শেষ মুহূর্তে নেমে পড়তে পারেন 'গুপি চলল বহুদূর'এর সুরে মাথায় টুপি পরে বেরিয়ে পড়ার তোড়জোড়ে। কারণ, দোল যে দরজায় কড়া নাড়ছে। চলুন একঝলকে দেখে নেওয়া যাক সাত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করে কোথায় কোথায় দোল বা হোলি দেখতে যেতে পারেন তার সুলুক সন্ধান।
মথুরা-বৃন্দাবন
দেশের বিখ্যাততম হোলি উৎসব হয় উত্তরপ্রদেশের এই দুই শহরে। দিল্লি থেকে অত্যন্ত সহজে পৌঁছানো যায় সেকথা বলা বাহুল্য। কৃষ্ণের জন্মস্থান এবং বাল্যকাল কাটানো এই দুই শহরে রঙের ছড়াছড়ি চলছে এখন থেকেই। এখানকার লাঠমার হোলি এবং ফুলোওয়ালি হোলি বিখ্যাত।

লাঠমার হোলি হল পুরুষ সঙ্গীকে লাঠি দিয়ে প্রেমিকারা পেটায়। রং দিয়ে বিকিকিনি করতে যাওয়া রাধা ও গোপিনীদের উত্ত্যক্ত করার শাস্তি হিসেবে কৃষ্ণ ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের লাঠি দিয়ে মেরেছিলেন শ্রীরাধিকা ও তাঁর সখিদল। সেই থেকেই চালু আছে এই উৎসবের। অন্যদিকে, ফুলোওয়ালি হোলি হল বাতাসে নানা রঙের সুগন্ধী আবির ছড়িয়ে দেওয়া।
শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব
রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে শুরু হয় শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমের আশ্রমিকদের নিয়ে বসন্ত আবাহনের মহা সমারোহ। শুরুতে এই উৎসব আশ্রমকেন্দ্রিক থাকলেও এখন তা রাজ্যের একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। এখানে রবীন্দ্র নৃত্যগীতে ভরে ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ। বৈতালিক দিয়ে শুরু হয়ে সান্ধ্য সঙ্গীত-নৃত্যনাট্য অনুষ্ঠিত হয়। বসন্তোৎসব উপলক্ষে গোটা শান্তিনিকেতনে যেন মেলা বসে যায়। নানান ধরনের হস্তশিল্প, শাড়ি, ছবি, কানের দুল, গলার মালা পাওয়া যায়। পলাশে পলাশে ছেয়ে থাকে এই সময় বোলপুর শহর।

উদয়পুর ও জয়পুর
রাজপুত নগরী উদয়পুর ও জয়পুরে হোলির মেজাজও রাজকীয়। লোকনৃত্য, ডান্ডিয়া নাচ-গানে ভরপুর থাকেন দুই শহরের মানুষজন। আগেরদিন প্রথামতো হয় হোলিকা দহন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল উদয়পুরের জগদীশ মন্দিরের হোলিকা দহন। জয়পুরে রাজপ্রাসাদের হাতিগুলিকে পরানো হয় রাজকীয় পোশাক। তাদের গায়েও নানান লোকচিত্র আঁকা হয়। রাস্তায় বেরয় হস্তিবাহিনীর শোভাযাত্রা। যা দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ পথের দুধারে অপেক্ষায় থাকেন।

বারাণসী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর প্রতি ঘাটে হোলি পালন করা হয় ধর্মীয় রীতি মেনে। এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রথা হল শিবের প্রসাদ হিসেবে ভাং বা সিদ্ধিপান।
![]()
পাঞ্জাবের আনন্দপুর সাহিব
এখানে হোলি মহল্লা নামে একটি এলাকাই আছে। বিশুদ্ধ ক্ষত্রিয় শিখরা এখানে হোলি পালন করেন মার্শাল আর্ট প্রদর্শন করে। সেখানে মহড়া লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। কৃপাণ, তলোয়ার, বর্শা নিয়ে খেলা চলে। এখানে তিনদিন ধরে হোলি উৎসব চলে।

সাংলা, হিমাচল প্রদেশ
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত সাংলাও হোলির জন্য বিখ্যাত। রং, আবির, কিন্নরের নাচগানে মজে থাকেন এলাকার মানুষ। বহু বিদেশি পর্যটকের মেলা বসে যায় সাংলার হোলি দেখতে। তবে এখানে রং-আবির তৈরি হয় ফুল ও ভেষজ থেকে। কোনও কৃত্রিম রাসায়নিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ উপত্যকায়।

এছাড়াও রাজস্থানের পুষ্কর, দিল্লি, মুম্বইয়ের সিনেপাড়ার হোলি উৎসব তো বহুদিন ধরেই বিখ্যাত। রাজ কাপুরের জীবদ্দশায় আর কে স্টুডিওর হোলি উৎসবে যোগ দিতে আসতেন গোটা বলিউডের তারকারা।