
শেষ আপডেট: 25 October 2021 14:10
গত দেড় বছরের কোভিডের অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে আলোর রোশনাই আর বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী আলপনার মাধ্যমে দেওয়ালির উৎসবের সূচনা হয়ে গেল খোদ লন্ডনের বুকে। দেওয়ালিকে কেন্দ্র করে আলোর উৎসব তথা শক্তির আরাধনায় মাতলেন লন্ডনের মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান 'হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল'। ২৩ অক্টোবর 'দিওয়ালি অন ট্রাফালগার স্কোয়ার'-এ লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের অফিস এবং হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল উপলক্ষ্যে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একযোগে অংশ নিলেন প্রবাসী বাঙালিরা। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন কালী পুজোরও আয়োজন করা হয়েছিল উদ্যোক্তাদের তরফে।
হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে মা-কালী যেমন শক্তির আরাধ্যা দেবী হিসেবে পূজিত হন, তেমনি অন্ধকার থেকে আলোর পথের দিশারীও তিনিই। শক্তিপূজার অঙ্গ হিসাবেই এদিন গ্রেটার লন্ডন অথরিটির উদ্যোগে আলপনার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সবার সেরা আলপনা স্থান পায় মূল অনুষ্ঠানে।
এদিন হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহুয়া বেইজ-এর তত্ত্বাবধানে লাল রঙের বেস-এর ওপর সাদা রঙের আলপনা ছিল যথেষ্ট দৃষ্টিনন্দন। সন্ধ্যায় সেঁজুতি দাস এবং অনশ্মিতা সাহার নৃত্য পরিবেশনা ছিল মনোমুগ্ধকর। উদ্যোক্তারা একটি ভিডিও স্ক্রিনিং-এর ব্যবস্থা করেছিলেন, যেখানে বাংলা তথা কলকাতা কীভাবে অতিমারির ভয়াবহতা কাটিয়ে পোস্ট-লকডাউনে কোভিড বিধি মেনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তা দেখানো হয়েছিল। ভিডিওটি প্রদর্শনের যাবতীয় কৃতিত্ব হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবালের অরিজিৎ সরকার, তিথি সেন, দেবদীপ সেন, কৌশিক লাহিড়ি, মৌসুমী লাহিড়ি, শুভদীপ বোস, রাহুল দাশগুপ্ত এবং ইয়াচনার।
হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল-এর ডিরেক্টর প্রদীপ চোপড়া এবং অপর ডিরেক্টর মিঃ অনির্বান মুখোপাধ্যায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন সর্বাঙ্গসুন্দর হয়ে ওঠে। লন্ডনের মেয়রের তরফের এই উৎসবে দীপাবলীর মূল নির্যাস ধরা পড়েছে বাঙালিদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে। মেয়র অফ লন্ডনের সঙ্গে একযোগে হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল এমন আরও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন।
এই উদ্যোগকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর সেক্রেটারি সুবীর দাস। উল্লেখ্য, সুবীরবাবু ২০১৮ সালে প্রথম বেঙ্গল-ব্রিটেন কালচারাল কোলাবরেশনের মাধ্যমে লন্ডনের ওয়াটার অফ টেমস-এর প্রতিমা এবং কলকাতার ওয়াটার অফ গঙ্গাস-এর প্রতিমা তৈরি করে দুই শহরের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। এই উপলক্ষ্যে তিনি লন্ডনের অধিবাসীদের কলকাতায় আসার জন্য আমন্ত্রণও জানান।