
শেষ আপডেট: 5 October 2023 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির নাকি পায়ের তলায় সর্ষে। ঘরে মন টেকে না মোটেই। ব্যাগ তাদের গোছানোই থাকে, দরকার শুধু টুকরো ছুটি আর সেই ছুটি কাটানোর একখানা ঠিকানা। ব্যস, ট্রেন-প্লেনের টিকিট কেটে কিংবা গাড়ি বুক করে শহরের একঘেয়ে জীবনকে টাটা-বাই বাই করে বেরিয়ে পড়লেই হল। নিরিবিলি জায়গায় দু-তিন দিন কাটিয়ে এলেই আবার চাঙ্গা হয়ে যাবে শরীর-মন। সেই বেড়িয়ে আসাই যেন আবার স্কুল-কলেজ কিংবা অফিসে ফেরার অক্সিজেন যোগাবে।
সামনেই পুজো, এক মাসও হাতে নেই আর। ইতিমধ্যেই অনেকে পুজোয় ঘোরার প্ল্যান বানিয়ে ফেলেছেন। তবে যাঁরা এখনও কিছু স্থির করে উঠতে পারেননি, তাঁদের জন্য আজ রইল উত্তরবঙ্গের এক অফবিট ডেস্টিনেশনের ঠিকানা। পুজোর ভিড়ে হারিয়ে যেতে যদি ভাল না লাগে, তাহলে কালিম্পংয়ের এই গ্রামের নির্জনতায় কয়েকটা দিন কাটিয়ে আস্তে পারেন।
এই গ্রামটির নাম হল বিদ্যাং। কালিম্পংয়ের মূল শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামের গা ঘেঁষে তিরতির করে বয়ে চলেছে রেলি নদী। গোটা গ্রাম জুড়েই ধাপ চাষের মাধ্যমে ফলানো হয় নানা শাক সবজি। রয়েছে বিভিন্ন ওষধি গাছও। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের কোলে অবস্থিত বিদ্যাংয়ে রয়েছে ফ্লোরা এবং ফনার সমাহার। মনোরম আবহাওয়ায় পাকদণ্ডী বেয়ে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি যে কী অপূর্ব, তা নিজে না গেলে বোঝানো মুশকিল।
পাহাড়ি পথেই ফুটে থাকে রঙ-বেরঙেয়ের ফুল। তার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই পৌঁছে যেতে পারবেন রেলি নদীর পারে। নুড়ি-পাথরের উপর দিয়েই বয়ে গেছে স্বচ্ছ জলধারা, পা ডুবিয়ে বসতেই পারেন দু'দণ্ড। রয়েছে হরেক রকমের পাখি, নির্জন গ্রামে তাদের কিচিরমিচির শুনতে শুনতে মন ভরে যাবে। এখান থেকে উদ্দাম তিস্তারও দেখা মেলে। নদীর ধারেই রয়েছে ওক আর পাইনের জঙ্গল। জনমানবহীন জঙ্গলে হাঁটার সময় ফটো সেশনও করতে পারেন নিশ্চিন্তে।
রেলি নদীর উপরেই রয়েছে ঝুলন্ত কাঠের সাঁকো। রয়েছে বিদ্যাং ভিউ পয়েন্ট, যেখান থেকে পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ের দৃশ্য ধরা দেবে। সাঁকো থেকে রেলি এবং তিস্তার ভিউও অসামান্য। এই ব্রিজ যেন বিদ্যাংয়ের অঘোষিত সেলফি পয়েন্ট। হিমালয়কে সঙ্গী করে নিজের নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে রাখার সুযোগ যেন হাতছাড়া করবেন না।
কীভাবে যাবেন: ট্রেনে করে গেলে নামতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। বিমানে গেলে বাগডোগরা। দুটি জায়গা থেকেই গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারবেন বিদ্যাংয়ে।
কোথায় থাকবেন: অফবিট ডেস্টিনেশন হওয়ায় বিদ্যাংয়ে হোটেল নেই সেভাবে। তবে হোমস্টে রয়েছে কয়েকটি। পাহাড়ি মানুষজনের আতিথেয়তায় অভিযোগের সুযোগই পাবেন না। হোমস্টেগুলির খাবারের স্বাদও মুখে লেগে থাকার মতো। সম্প্রতি পর্যটকদের কথা ভেবে কয়েকটি রিসর্টও গড়ে উঠেছে এই গ্রামে।