
শেষ আপডেট: 3 December 2023 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে মানে অনেক বড় পরিকল্পনা। কী পরবেন, ভেনু ঠিক করা, খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা, নিমন্ত্রণ মিলিয়ে হাজারো কাজ। বিয়েবাড়ি ভাড়া করে হোক বা নিজের বাড়ির ছাদে প্যান্ডেল তৈরি করেই হোক, অনেকেই চান ছোট কোনও পরিসরে তাঁদের বিয়েতে থাকুক কেবল কাছের কিছু মানুষ।
কিন্তু অনেকেরই ছোট থেকে স্বপ্ন থাকে নিজের বিয়ের জায়গাটা হবে পুরোপুরি রাজকীয়। রাজকীয় ভাবে বিয়ের জন্য দরকার একটা রাজকীয় জায়গা। রইল ভারতের সেরা ৫ রাজকীয় ওয়েডিং ভেনুর খোঁজ।
১) উমেদ ভবন প্যালেস, যোধপুর
প্রাসাদ হয়ত একেই বলে। বিশাল জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই প্যালেসের সামনের বাগান এতই সুন্দর করে গোছানো যে চাইলে আপনার বিয়েটা এখানে ভালভাবেই সেরে ফেলতে পারেন। মেহরানগড়ের দুর্গ সঙ্গে পুরো শহরের ভিউ খুব ভাল পাওয়া যায় এখান থেকে। তৎকালীন ফ্যাশানেবল আর্ট ডেকো স্টাইলে জনপ্রিয় এডওয়ার্ডিয়ান আর্কিটেক্ট হেনরি ল্যানচেস্টার এই প্যালেসটি তৈরি করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে এটি লাক্সারি হোটেলে পরিণত হয় এবং এখন এই প্যালেস আইএইচসিএল (IHCL) দ্বারা পরিচালিত হয়।
এখানে প্রত্যেকটি অতিথিকে নাগারা (একধরনের ড্রাম) বাজিয়ে এবং গোলাপের পাঁপড়ি ছড়িয়ে স্বাগত জানানো হয়। তারপর অতিথিদের জন্য আয়োজন করা হয় ঘুমর নাচ এবং শ্যাম্পেনের। মাকরানা মার্বেল, নানা ধরনের মিউরাল করা সূক্ষ্ম কাজ ক্লাসি লুক তৈরি করেছে প্যালেসে। রয়েছে ৩৪৭টি ঘর, নিও ক্লাসিকাল বলরুম, লাউঞ্জ, ভিন্টেজ কার মিউজিয়াম, রয়্যাল ব্যাঙ্কোয়েট -- সব মিলিয়ে সত্যিই রাজকীয় ব্যবস্থা। সর্বমোট ৭০০ জন অতিথি থাকতে পারবে এই প্যালেসে।
২) চুন্দা প্যালেস, উদয়পুর
বইয়ের পাতায় যে ধরনের রাজপ্রাসাদগুলোতে রাজা রানিরা থাকতেন অনেকটা তেমনই দেখতে উদয়পুরের চুন্দা প্যালেস। সুক্ষ্ম শিল্পকর্ম, গ্লাস ওয়ার্ক আর ছোট ছোট আর্ট পিস দিয়ে সাজানো এই প্যালেস যেন মনে করিয়ে দেয় রূপকথার গল্পকে। আধুনিক অথচ ঐতিহ্যপূর্ণ শিল্পের মেলবন্ধন যে এমন হতে পারে চুন্দা প্যালেসকে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল।
সর্বমোট ৫০টা রুম রয়েছে এই প্যালেসে। সুন্দর উঠোন, ছাদ, পুল, ব্যাঙ্কোয়েট কী নেই এখানে! নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনও একটা জায়গা বেছে নিন গায়ে হলুদ, সঙ্গীত বা বিয়ের জন্য। এছাড়া রয়েছে রাইফেল শুটিং, হর্স রাইডিং এবং পোলো খেলার মতো বিভিন্ন রোমাঞ্চকর অ্যাক্টিভিটি। ২৫০ থেকে ৩০০ জন মতো অতিথি থাকতে পারবে এই প্যালেসে।
৩) ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল, কলকাতা
রাজকীয় বিয়েটা যদি ভালবাসা ও আনন্দের শহর কলকাতায় করার পরিকল্পনা থাকে তাহলে বেছে নিতে পারেন ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল। ১৮৪০ সালে ডেভিড উইলসন দ্বারা নির্মিত এই হোটেল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন রানি এলিজাবেথ থেকে মার্ক টোয়েন। মার্বেল পাথরের করিডোর, অ্যান্টিক প্রসাধনী, রেট্রো লুক, জেবিএল স্পিকার সিস্টেম, বড় বড় টেলিভিশন সিস্টেম, ফ্লোর টু সিলিং মিরর ওয়ার্ক। ১৮৮৩ সালে এই হোটেলে বিদ্যুৎ আসার পর ললিত গ্রেট ইস্টার্ন কলকাতার প্রথম বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ হোটেল বলে পরিচিতি পায়।
সাধারণ ঘর আর লাক্সারি সুইট মিলিয়ে মোট ২১৫টি রুম আছে এখানে। পিকচার পারফেক্ট ছাদ বা বিরাট গ্র্যান্ড বলরুম হতে পারে আপনার ভালবাসার সাক্ষী। ৫০০ থেকে ৫৫০ অতিথি থাকতে পারবে এই হোটেলে।
৪) ব্রিজরামা প্যালেস, বারানসী
২১০ বছর পুরনো এই হাভেলি থেকে দেখা যায় গঙ্গার অপরূপ দৃশ্য। গঙ্গার এপার থেকে নৌকাযাত্রা করে ওপারে গিয়ে উঠুন একেবারে হোটেলের লবিতে। চলমান সিঁড়ি আপনাকে পৌঁছে দেবে সেখানে। সর্বমোট ৩২ টা রুমের প্রত্যেকটা থেকেই পাবেন রিভার ভিউ। রয়েছে চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো শিল্পের ছোঁয়া, হাই সিলিং, হাতে আঁকা শৌখিন ছবি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিক জিনিসপত্র।
প্যালেসের ছাদ 'উদয়ন'-এ সেরে নিতে পারেন আপনার সঙ্গীতের অনুষ্ঠান, অন্যদিকে 'কমলা' নামের ছোট ছাদটা কিন্তু একদম পারফেক্ট আপনার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের জন্য। মালাবদলটা হোক রাজকীয়ভাবে প্যালেসের নীচের তলার বড় আঙ্গিনায়। সর্বমোট ৮০ জন অতিথি থাকতে পারবে বেনারসের এই অভূতপূর্ব ব্রিজরামা প্যালেসে।
৫) জাহান্নুমা প্যালেস, ভোপাল
উনিশের শতকে বানানো এই প্যালেস দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যেতে বাধ্য। বিশাল এই প্যালেসে প্রতিটা দেওয়ালের সুক্ষ্ম কাজ দেখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আটকে রাখবে। অপূর্ব সাজসজ্জা, আসবাব এবং ১০০টির বেশি রুম সমেত এই প্যালেস হয়ে উঠতেই পারে আপনার জীবনের নতুন যাত্রাপথের সূচনাবিন্দু।
মোট পাঁচটা ব্যাঙ্কোয়েটের মধ্যে যেকোনও একটি বেছে নিন অথবা সুন্দর হাঁটার জায়গাটাই হয়ে উঠতে পারে আপনার বিয়ের মঞ্চ। মোট ৫০০ জন অতিথি থাকতে পারবে এই প্যালেসে।