
শেষ আপডেট: 24 January 2024 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির নাকি পায়ের তলায় সর্ষে। ব্যাকপ্যাক গোছানোই থাকে প্রায়, শুধু সময়-সুযোগ হওয়ার অপেক্ষা। সামনেই বড়দিন, তারপর নতুন বছর। বছরের শেষটুকু মধুময় হয়ে উঠুক, এটুকু তো সকলেরই চাওয়া। আর তার উপায় হিসেবে ঘুরতে যাওয়ার থেকে ভাল কীই বা হতে পারে! পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ঘোরা তো আছেই, আজকাল নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একা ঘুরতে যাওয়ার চলও বাড়ছে। ব্যস্ত জীবনে নিজের সঙ্গে 'কোয়ালিটি টাইম' কাটানোর সচরাচর মেলে না কিনা। তাই ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সোলো ট্রাভেল। তবে একা ঘোরার জন্য জায়গা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি। আবার এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেগুলির মাধুর্য এবং সৌন্দর্য আহরণে বাধা হতে পারে ভিড়ভাট্টা। তাই সবদিক খতিয়ে দেখে আজ ভারতের এমন ৭টি জায়গার খোঁজ রইল যেগুলি সোলো ট্রাভেলারদের জন্য ছুটি কাটানোর আদর্শ ঠিকানা।
১. হাম্পি: প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসে ডুব দেওয়ার জন্য কর্নাটকের এই শহরের থেকে ভাল জায়গা খুব কমই পাওয়া যাবে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটটিতে গেলে দেখা মিলবে ১৪ থেকে ১৬ শতকের বিজয়নগর সাম্ৰাজ্যের ধ্বংসাবশেষ। দ্ৰাবিড় স্থাপত্যের প্রতিভূ হয়ে সেখানে এখনও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে ১০০০-এরও বেশি হিন্দু মন্দির এবং প্ৰাসাদের ধ্বংসাবশেষে। গ্রানাইট পাথর কুঁদে তৈরি সেসব স্থাপত্য দেখলে চোখ ফেরাতে পারবেন না। ইতিহাসপ্রেমীদের পাশাপাশি যাঁরা শিল্পকলার চর্চা করেন, তাঁদের জন্যেও হাম্পি বেড়ানোর স্বর্গরাজ্য।

২. জয়সলমীর: রাজস্থানের থর মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত এই 'সোনালি শহর' পর্যটকদের অত্যন্ত পছন্দের। হলুদ বেলেপাথরে তৈরি সুপ্রাচীন জলসলমীর দুর্গ এই শহরের মূল আকর্ষণ। মধ্যযুগের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল এই মরুশহর। এখনও সেখানে সর্গবে দণ্ডায়মান সেই সময়ের 'হাভেলি'। সেই সঙ্গে রাজস্থানী খাবার চেখে দেখতে চাইলে এবং প্রাণভরে কেনাকাটা করার ইচ্ছে থাকলে এই একবার যেতেই হবে জয়সলমীর।
৩. ভারকালা: শান্ত এবং সুন্দর এই জনপদটি কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের উপকণ্ঠে অবস্থিত। আরব সাগরের সুনীল জলরাশি আর নারকেল গাছে ঘেরা সৈকত দেখলে ফিরে আসতে ইচ্ছা করবে না আর। এখানে রয়েছে একটি ২ হাজার বছরের পুরনো বিষ্ণু মন্দির এবং শিবগিরি মঠ। তবে ভারকালার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল সমুদ্রে সার্ফিং। এখানে একাধিক সার্ফিং ক্লাব এবং স্কুল রয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ সার্ফারদের থেকে শিখে নিয়ে যে কেউ এই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে অংশ নিতে পারেন। নতুন থেকে অভিজ্ঞ, সমস্ত রকমের সার্ফারদের জন্য ভারকালায় রয়েছে ৪টি সৈকত-পাপানাসাম বিচ বা টেম্পল বিচ, ব্ল্যাক বিচ, কাপিল বিচ, এবং এদাভা বিচ। একা ঘুরতে গেলে সার্ফিংয়ের মজা নিতে ভুলবেন না কিন্তু!

৪. ম্যাকলিওডগঞ্জ: "আমার মনে বসে না শহরে..."
এমনটা হলে পাহাড়ে তো আসতেই হবে। হিমাচল প্রদেশের এই শৈলশহর সোলো ট্রাভেলাদের জন্য খুবই ভাল গন্তব্য। তবে এখানে ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময় হল গ্ৰীষ্মকাল। সুবিশাল পর্বতশ্রেণির কোলে পাইন, ওক, দেওদার আর রডোডেন্ড্রনের জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে ভুলে যাবেন নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, হারিয়ে যাবে কর্মজীবনের স্ট্রেস। এই জনপদটিতে তিব্বতি সংস্কৃতি এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব খুব বেশি। মাঝে মাঝেই দলাই লামা নিজেও চলে আসেন ম্যাকলিওডগঞ্জে। তাছাড়া রয়েছে তিব্বতি খাবার চেখে দেখার সুযোগ।

৫. ঋষিকেশ: আধ্যাত্মিকতার দিক দিয়ে দেখলে ঋষিকেশ অনেকটা বারাণসীর মতো। চার ধাম তীর্থযাত্রার ভ্রমণের সূচনা বিন্দু হল এই শহর। এটি যোগব্যায়াম এবং ধ্যান প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবেও সুপরিচিত। গঙ্গা নদীর ডানদিকে অবস্থিত এই শহরে সুপ্রাচীন কাল থেকেই জ্ঞান আহরণের সন্ধানে এখানে ঋষি ও সাধুরা ধ্যান করতেন। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মন্দির ও আশ্রম। ১৯৬৮ সালে বিখ্যাত গানের ব্যান্ড 'দ্য বিটলস" এখানে মহর্ষি মহেশ যোগীর আশ্রমে একটি আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছিল। তারপর থেকেই ঋষিকেশের নাম জগৎজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বার্ষিক "আন্তর্জাতিক যোগ উৎসব" অনুষ্ঠিত হয় এখানে। ঋষিকেশে মূলত নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়, মদ্যপানেরও নিয়ম নেই। আপনি যদি কোলাহলমুখর জীবন থেকে বেরিয়ে মানপসিক শান্তির খোঁজ করেন তাহলে উত্তরাখণ্ডের এই শহরে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যেতেই পারেন।
