
প্রতীকী ছবি: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 18 October 2024 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল হাতে হাতে স্মার্টওয়াচ! হবেই না বা কেন? ফোনে কল আসলে টুক করে হাতঘড়িতেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কে ফোন করেছে। তবে শুরু কল কেন, মেসেজ থেকে শুরু করে ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা যায় স্মার্টওয়াচেই। একাধিক সব দুর্দান্ত ফিচার দিয়ে বাজারে আনা হচ্ছে একের পর এক স্মার্টওয়াচ। তাতে প্রতি মুহূর্তে হার্ট রেট থেকে শুরু করে কত ক্যালোরি খরচ করা হয়েছে দিনে, তারও তথ্য পাওয়া যায়। তবে এত সুবিধার মাঝে অসুবিধা যে একেবারেই থাকবে না, তা তো হতে পারে না।
যেভাবে হ্যাকাররা সমস্ত জিনিস হ্যাক করা শুরু করেছে, তাতে শুধু স্মার্টফোন আর ল্যাপটপই নেই। বরং সেই সঙ্গে হাতের স্মার্টওয়াচটাও একই বিপদের মুখে রয়েছে। শুনে অবাক লাগলেও এমনটাই হচ্ছে। আর তা নিশ্চিত করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এবার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, ব্লুটুথ স্মার্টওয়াচ কি হ্যাক হওয়া সম্ভব? এর উত্তর হল হ্যাঁ।
তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সস্তার স্মার্টওয়াচ হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই বলে কি বড় বড় ব্যান্ডের স্মার্টওয়াচগুলো হ্যাকের কবলে পড়ছে না? বিশেষজ্ঞদের মতে, দামি অ্যাপল ওয়াচ স্মার্টওয়াচেও হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। যে সব স্মার্টওয়াচে ফিটনেস, ফোন কল এবং মেসেজের মতো তথ্যের অ্যাক্সেস রয়েছে, তাদের থেকে খুব সহজেই ফোনের সব তথ্য চুরি করে নেওয়া যাচ্ছে।
কীভাবে বোঝা যাবে স্মার্টওয়াচ হ্যাক হয়েছে?
এবার প্রশ্ন হল ফোন হ্যাক হলেও যেমন সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। ঠিক তেমনটাই স্মার্টওয়াচের ক্ষেত্রেও। ব্লুটুথ স্মার্টওয়াচ 'ব্লুটুথ লো এনার্জি' নামে একটি প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্টফোনের সঙ্গে কানেক্ট করে। এই প্রযুক্তিটি ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করে। ব্লুটুথ এবং 'ব্লুটুথ লো এনার্জি'-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল, এটি ব্লুটুথের মতো অতটা সিকিওর নয়। ফলে সহজেই হ্যাক করতে পারে হ্যাকাররা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটা দিকে নজর রাখলেই বুঝতে পারা সম্ভব যে, স্মার্টওয়াচটি হ্যাক হয়েছে কি না। যেমন দেখতে হবে স্মার্টওয়াচের চার্জ আগের তুলনায় দ্রুত খরচ হয়ে যাচ্ছে কি না। তাহলে সতর্ক হয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে হ্যাক করা হয়?
স্মার্টওয়াচগুলি অ্যাপ কেন্দ্রিক হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন কন্ট্রোলার অ্যাপ দ্বারা কাজ করে। হ্যাকাররা প্রথমে অ্যাপগুলিকে হ্যাক করে। ফলে তখন স্মার্টওয়াচের সমস্ত কন্ট্রোল তাদের হাতে চলে যায়। সেই থেকে ফোনের সমস্ত ডেটাও চুরি করে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে ফোনের ইউপিআই-এর সমস্ত তথ্য তাঁদের কাছে চলে যেতে পারে। এমন কিছু লক্ষ্য করলে সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ব্লুটুথ বন্ধ করে দিতে হবে। নাহলে সর্বস্বান্ত হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায়ই থাকবে না।