এতটা আত্মবিশ্বাসী শুরু আগে দেখা যায়নি। আইএসএলের মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই জয়ের হাসি ফুটল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) শিবিরে। নতুন স্ট্রাইকার ইউসুফ ইজেজারির জোড়া গোল, সঙ্গে মিগুয়েলের একটি। ফলাফলই বলে দিচ্ছে লাল-হলুদের আগ্রাসী মানসিকতার কথা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 February 2026 21:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) এমন কাণ্ড ঘটাল যা আইএসএল-এ (ISL) ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই প্রথমবার জিতে অভিযান শুরু করল তাঁরা। আর শুধু জিতে নয়, এ যেন একটা 'স্টেটমেন্ট উইন'। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডকে (NorthEast United FC) লাল-হলুদ বাহিনী হারাল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক 'নবাগত' ইউসুফ ইজেজারি (Yusuf Izzejjari)।
এতটা আত্মবিশ্বাসী শুরু আগে দেখা যায়নি। আইএসএলের মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই জয়ের হাসি ফুটল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) শিবিরে। নতুন স্ট্রাইকার ইউসুফ ইজেজারির জোড়া গোল, সঙ্গে মিগুয়েলের একটি। ফলাফলই বলে দিচ্ছে লাল-হলুদের আগ্রাসী মানসিকতার কথা।
প্রতিপক্ষ নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড (NorthEast United FC) ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মরসুম শুরু করেছিল। তবে লিগ শুরুর আগে অনিশ্চয়তা, দলগঠন ও ছন্দের অভাব - সব মিলিয়ে পাহাড়ের দল পুরো শক্তিতে নামতে পারেনি। উপরন্তু তাদের নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার আলাদিন আজেরাইয়ের অনুপস্থিতি স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে আক্রমণে।
অস্কার ব্রুজো ৪-৩-৩ ছকে দল সাজান। মাঝমাঠে তিন বিদেশি রেখে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। মহম্মদ রশিদ রক্ষণভাগের সামনে প্রাচীর গড়ে দেন, আর সল ক্রেসপো ও মিগুয়েল ফেরেরা ক্রমাগত প্রতিপক্ষের বক্সে চাপ বাড়াতে থাকেন। মাঝমাঠ দখলে থাকায় আনোয়ার আলি ও জিকসনের উপর তেমন চাপ পড়েনি। ডান দিক থেকে বিপিন সিং যথেষ্ট সক্রিয় থাকলেও বাম প্রান্তে নন্দকুমার সেই ছন্দ খুঁজে পাননি।
সবচেয়ে বড় নজর ছিল নতুন মুখ ইউসুফের (Yusuf Izzejjari) দিকে। গত কয়েক মরসুম ধরে স্ট্রাইকার সমস্যায় ভুগেছে ইস্টবেঙ্গল। এ বার সেই শূন্যস্থান পূরণের আশাতেই তাঁকে আনা। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ এলেও গোলের দেখা মিলছিল না। ৩৬ মিনিটে রশিদের দূরপাল্লার শট বার কাঁপিয়ে ফিরে আসে। তার কিছু পরেই বিপিনের নিখুঁত ক্রস থেকে প্রায় ফাঁকা গোলে হেড করতে ব্যর্থ হন নন্দকুমার। বিরতির আগে গোলশূন্য ফলেই মাঠ ছাড়ে দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ঝলক দেখা যায় সেই পুরনো ইস্টবেঙ্গলের। ৬২ মিনিটে নন্দকুমারকে তুলে এডমুন্ড লালরিন্ডিকাকে নামান ব্রুজো। সেই বদলই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৬৭ মিনিটে বিপিনের ক্রস অবশেষে সঠিক ঠিকানায় পৌঁছয় - ইউসুফের মাথায়। গোলকিপার গুরমীত দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। বহু প্রতীক্ষিত প্রথম গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাসে চাঙ্গা হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল।
তিন মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ে। বাঁ দিক দিয়ে এডমুন্ড বক্সে ঢুকে নিখুঁত পাস বাড়ান, আর ইউসুফ ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে জোড়া গোল সম্পূর্ণ করেন। আবির্ভাব ম্যাচেই নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন তিনি। ম্যাচের অন্তিম লগ্নে বাঁ পায়ের জোরালো শটে তৃতীয় গোলটি করেন মিগুয়েল, সিলমোহর পড়ে জয়ে।