Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নইলে এতক্ষণে অবনমনের প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল

World Cup 2026: তিন দেশে ছড়িয়ে ‘ফুটবলের মহাযজ্ঞ’, জেনে নিন স্টেডিয়ামের নাম-ঠিকানা!

তিন দেশ, ১৬ শহর, ১৬ মহাকায় অঙ্গন—এই আয়োজন শুধু বিশ্বকাপ নয়। স্থাপত্য, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এক মিলিত কীর্তিও বটে। 

World Cup 2026: তিন দেশে ছড়িয়ে ‘ফুটবলের মহাযজ্ঞ’, জেনে নিন স্টেডিয়ামের নাম-ঠিকানা!

নিউ জার্সি স্টেডিয়াম

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 8 December 2025 16:00

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ বিশ্বকাপ আসন্ন। কিন্তু কোনও সাধারণ সংস্করণ নয়, এই প্রথমবার তিন দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—একসঙ্গে আয়োজন করছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া-উৎসব। ৪৮ দল প্রথমবার অংশ নেবে, ১০৪টি ম্যাচ, আর এত বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড জুড়ে ছড়িয়ে থাকবে ১৬টি স্টেডিয়াম। যারা ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও প্রযুক্তিগত মহিমায় অনন্য।

বিশ্বকাপ শুধু খেলা নয়। মঞ্চ, স্মৃতি, স্থাপত্য, সমর্থকদের উন্মাদনার প্রকাশও বটে। ২০২৬-এর আয়োজকরা সেই মঞ্চ সাজিয়েছেন আধুনিক প্রযুক্তি, বিশাল পরিকাঠামো ও বহুদেশীয় নান্দনিকতায়। তিন দেশের মোট ১৬টি আঙিনা ফুটবল-দর্শকদের জন্য তৈরি করতে চলেছে এক অভূতপূর্ব ভিস্যুয়াল অভিজ্ঞতা।

চলুন, স্টেডিয়াম ধরে ধরে দেখে নেওয়া যাক—কোথায় কত ইতিহাস লেখা, কোথায় কত স্বপ্ন জন্ম নিতে চলেছে আগামী গ্রীষ্মে!

কানাডা:

১) টরন্টো স্টেডিয়াম (Toronto Stadium), টরন্টো, আসনসংখ্যা: ৪৫,০০০

২০০৭ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নির্মিত এই মাঠ ফুটবল-সমৃদ্ধির প্রতীক। এখানেই জামাইকার বিরুদ্ধে জিতে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট পায় কানাডা। ইংলিশ স্টাইলে ঢাকনা-ছাদ, খাড়া স্ট্যান্ড, দুর্দান্ত অ্যাকুস্টিক্স—যেখানে আয়োজিত হবে পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ এবং একটি শেষ ৩২-এর লড়াই।

২) বিসি প্লেস (BC Place), ভ্যাঙ্কুভার, আসনসংখ্যা: ৫৪,০০০

ভ্যাঙ্কুভারের ফলস ক্রিকের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল সাদা গম্বুজ—কানাডার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থাপত্য। ২০১৫ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপের ফাইনাল বসে। এবার আয়োজিত হবে পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২ এবং একটি শেষ ১৬ ম্যাচ।

মেক্সিকো:

৩) মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম (Mexico City Stadium), মেক্সিকো সিটি, আসনসংখ্যা: ৮৩,০০০

১৯৭০-এর ব্রাজিল, ১৯৮৬-র মারাদোনা—ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর জন্ম এখানেই। পৃথিবীর প্রথম স্টেডিয়াম, যা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। অনুষ্ঠিত হবে তিনটি গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২, একটি শেষ ১৬।

৪) গুয়াদালাহারা স্টেডিয়াম (Estadio Guadalajara), জালিস্কো, আসনসংখ্যা: ৪৮,০০০

উঁচু টিলার ওপর গোলাকার নকশার এই মাঠ দর্শনীয় গন্তব্য। লিগে চিভাসের ঘরের মাঠ। বিশ্বকাপে আয়োজন করবে চারটি গ্রুপ ম্যাচ।

৫) মন্টেরে স্টেডিয়াম (Estadio Monterrey), নুয়েভো লিয়ন, আসনসংখ্যা: ৫৩,৫০০

পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যে লিড (LEED) সার্টিফায়েড আমেরিকার প্রথম স্টেডিয়াম। আধুনিক, বহুবিধ প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ। আয়োজন করবে তিনটি গ্রুপ ম্যাচ এবং একটি শেষ ৩২ ম্যাচ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:

৬) আটলান্টা স্টেডিয়াম (Atlanta Stadium), জর্জিয়া, আসনসংখ্যা: ৭৫,০০০

বিশ্বের প্রথম ৩৬০ ডিগ্রি ‘হালো’ ভিডিও বোর্ড, দরকারে ভাঁজ করা যায়—এমন ছাদ—এককথায় স্টেডিয়াম নকশার ভবিষ্যৎ! এনএফএল, এমএলএস, সুপার বোল—সবকিছুর আসর বসেছে। এবার বিশ্বকাপে পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২, একটি শেষ ১৬ এবং একটি সেমিফাইনালের আয়োজন।

৭) বোস্টন স্টেডিয়াম (Boston Stadium), ম্যাসাচুসেটস, আসনসংখ্যা: ৬৫,০০০

পুনর্নির্মাণের পর একেবারে নতুন চেহারা—বিশাল এইচডি স্ক্রিন, কাচে ঢাকা ভিআইপি লাউঞ্জ। এখানে আয়োজিত হবে পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২, এবং একটি কোয়ার্টার ফাইনাল।

৮) ডালাস স্টেডিয়াম (Dallas Stadium), টেক্সাস, আসনসংখ্যা: ৯৪,০০০

আমেরিকার অন্যতম বড় স্টেডিয়াম। শিল্পকলা ও প্রযুক্তির সমাহার। সুপার বোল, বক্সিং, কলেজ ফুটবল—সবই এখানে। বিশ্বকাপে পাঁচ গ্রুপ ম্যাচ, দুই শেষ ৩২, একটি শেষ ১৬ এবং একটি সেমিফাইনাল বসতে চলেছে।

৯) হিউস্টন স্টেডিয়াম (Houston Stadium), টেক্সাস, আসনসংখ্যা: ৭২,০০০

রিট্র্যাকটেবল ছাদ ও ‘বুল পেন’ আওয়াজে বিখ্যাত। ফিফা ও কনকাকাফের বহু ম্যাচের আসরের সাক্ষী। বিশ্বকাপে পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২, একটি শেষ ১৬।

১০) কানসাস সিটি স্টেডিয়াম (Kansas City Stadium), মিজৌরি, আসনসংখ্যা: ৭৩,০০০

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড—১৪২ ডেসিবেল! পৃথিবীর সবচেয়ে ‘উচ্চকিত’ আউটডোর স্টেডিয়াম। সুপার বোল মহড়া পেরোনো এই মাঠে হবে চার গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২ এবং একটি কোয়ার্টার ফাইনাল।

১১) লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম (Los Angeles Stadium), ক্যালিফোর্নিয়া, আসনসংখ্যা: ৭০,০০০

২০২০ সালে উদ্বোধন হওয়া আধুনিকতম অঙ্গন। এনএফএল ও সঙ্গীত-দুনিয়া দুই ক্ষেত্রেই সমান জনপ্রিয়। বিশ্বকাপে পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ, দুই শেষ ৩২, একটি কোয়ার্টার ফাইনাল আয়োজন করবে।

১২) মায়ামি স্টেডিয়াম (Miami Stadium), ফ্লোরিডা, আসনসংখ্যা: ৬৫,০০০

ফর্মুলা ওয়ান, টেনিস, এনএফএল, ফুটবল—সবই একসঙ্গে। আর্দ্রতা সামলানোর আধুনিকতম ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্বকাপে চারটি গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২, একটি কোয়ার্টার ফাইনাল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে।

১৩) নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়াম (New York–New Jersey Stadium), আসনসংখ্যা: ৮২,৫০০

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ। ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনাল এখানেই হয়েছিল। এনএফএল কিংবদন্তিদের বিচার-বিবেচনার মাঠ এবার ফুটবল সাম্রাজ্য গড়বে।

১৪) ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম (Philadelphia Stadium), পেনসিলভানিয়া, আসনসংখ্যা: ৬৯,০০০

ম্যানইউ–বার্সেলোনা ম্যাচ দিয়ে পথচলা শুরু। ইউএসএ জাতীয় দলের নিয়মিত ঠিকানা। এবার পাঁচ গ্রুপ ম্যাচ এবং একটি শেষ ১৬ ম্যাচ আয়োজন করবে।

১৫) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম (San Francisco Bay Area Stadium), সান্তা ক্লারা, আসনসংখ্যা: ৭১,০০০

সুপার বোল, কোপা আমেরিকার উদ্বোধনী ম্যাচ—সবই দেখেছে। বিশ্বকাপে পাঁচ গ্রুপ ম্যাচ এবং একটি শেষ ৩২ ম্যাচ হবে।

১৬) সিয়াটল স্টেডিয়াম (Seattle Stadium), ওয়াশিংটন, আসনসংখ্যা: ৬৯,০০০

খোলা নর্থ-এন্ড, ঘোড়ার খুর-আকৃতি—দর্শক-উন্মাদনার আঙিনা। বিশ্বকাপে চারখানা গ্রুপ ম্যাচ, একটি শেষ ৩২ এবং একটি শেষ ১৬-র লড়াই আয়োজন করবে।

শেষ কথা:

তিন দেশ, ১৬ শহর, ১৬ মহাকায় অঙ্গন—এই আয়োজন শুধু বিশ্বকাপ নয়। স্থাপত্য, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এক মিলিত কীর্তিও বটে। ১৬টির প্রতিটি মাঠই একেকটি গল্প—কোথাও পেলের স্মৃতি, কোথাও মারাদোনার ‘ম্যাজিক জোন’, কোথাও দর্শকসংস্কৃতির বজ্রঘোষণা! সব প্রস্তুত। এখন অপেক্ষা শুধু পৃথিবীর সেরা খেলার সেরা মুহূর্তগুলোর—যেখানে ফুটবল এক করবে তিন মহাদেশের হৃদস্পন্দন।


```