Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

৭০ শতাংশের উপর জয়ের পুঁজি, তবু কেন এক মরশুমও রিয়ালের কুর্সিতে টিকলেন না আলনসো?

শেষ পর্যন্ত রিয়াল আবার প্রমাণ করল—এটা এমন এক ক্লাব, যাকে সবাই পরিচালনা করতে চায়, কিন্তু সে নিজে খুব কম ক্ষেত্রেই ‘পরিচালিত’ হতে ইচ্ছুক। ট্রফি এলে সিদ্ধান্ত সঠিক বলে ধরা হবে। না এলে? দায় কোচের।

৭০ শতাংশের উপর জয়ের পুঁজি, তবু কেন এক মরশুমও রিয়ালের কুর্সিতে টিকলেন না আলনসো?

জাবি আলনসো

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 13 January 2026 10:48

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৪ ম্যাচ। ২৪টিতে জয়। ৬ ম্যাচে হার। রিয়াল মাদ্রিদের মতো মহাকায় ক্লাবের নিরিখেও এই রেকর্ড যে কোনও কোচের পক্ষে শ্লাঘনীয়৷ তবু এক সিজন ফুরতে না ফুরতেই চেয়ার হারালেন জাবি আলনসো৷ ২০২৪ সালে যখন বায়ার লেভারকুসেন বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন হল, বায়ার্ন মিউনিখের একচেটিয়া জমিদারিরাজ উৎখাত করে, জাবি রাতারাতি হয়ে ওঠেন ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান ম্যানেজার। যাঁকে গদিতে বসানোর জন্য রিয়াল মাদ্রিদ পূর্বতন ম্যানেজার কার্লো অ্যান্সেলোত্তিকে কোনও মতে এক মরশুম টেনে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। জাবিও পরের সিজন বায়ারে কাটিয়ে নিজেকে আরও খানিক প্রস্তুত করে মাদ্রিদের সিংহাসনে বসেন।

অথচ কী এমন হল, বেশিরভাগটাই পর্দার আড়ালে, যার জেরে এক সিজনও জমানা টিকল না? আস্থা হারালেন খেলোয়াড়দের? নাকি বোর্ডের? কীসে বিরাগভাজন হলেন? খেলার স্টাইল? তারকাদের ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারা? নাকি আরও জটিল কোনও অনুঘটক এই অপসারণ ত্বরান্বিত করল?

কর্তৃত্বের সংকট: ডাগআউট বনাম ড্রেসিংরুম

জাবি আলনসোর (Xabi Alonso) বিদায় হঠাৎ মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে জমছিল ফাটল। রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) মতো ক্লাবে কোচের সবচেয়ে বড় পুঁজি তাঁর কর্তৃত্ব। সেই জায়গাতেই প্রথম ধাক্কা লাগে। স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের পর বার্সেলোনাকে (FC Barcelona) ‘গার্ড অব অনার’দেওয়ার প্রশ্নে যা ঘটেছিল, তা শুধু সৌজন্য জানানো-না জানানোর বিতর্ক নয়—ছিল ক্ষমতার প্রকাশ্য লড়াই। কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé) প্রকাশ্যে কোচের ইচ্ছা অগ্রাহ্য করলেন। জাবি বাধা দিলেন। শেষমেশ নিজেই সরে গেলেন। ওই মুহূর্তে ড্রেসিংরুম বুঝিয়ে দিল—চাবিকাঠি আর কোচের হাতে নেই।

এই ঘটনা একমাত্র নয়। ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinícius Júnior) বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় যে অসন্তোষ দেখালেন, পরে ক্ষমা চাইলেও কোচের নাম উচ্চারণ না করা—এটাও বার্তা। ফেদেরিকো ভালভার্দে (Federico Valverde) নিজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট, ঘন ঘন রোটেশনে সিনিয়রদের বিরক্তি আর মাঠে নির্দেশ মানতে অনীহা—সব মিলিয়ে জাবি কখনওই গোটা ড্রেসিংরুমকে পুরোপুরি নিজের করে নিতে পারেননি। বায়ার লেভারকুসেনে (Bayer Leverkusen) যেটা হয়েছিল ফলের জোরে, মাদ্রিদে সেটা হল না। এখানে রেজাল্টের চেয়েও বড় প্রশ্ন—কে নিয়ন্ত্রণে?

বোর্ডের দ্বিধা ও নড়বড়ে সমর্থন: বিশ্বাসের অভাবই সবচেয়ে বড় হার

রিয়ালের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ (Florentino Pérez) জাবিকে এনেছিলেন ঠিকই, কিন্তু বিশ্বাসটা ছিল শর্তসাপেক্ষ। শুরু থেকেই। জাবি চেয়েছিলেন ক্লাব বিশ্বকাপের (Club World Cup) পর দায়িত্ব নিতে—পাননি। ট্রান্সফার উইন্ডোয় মিডফিল্ডারের ঘাটতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন—মার্টিন জুবিমেন্দি (Martin Zubimendi) তাঁর পয়লা নম্বর পছন্দ। জুবিমেন্দি এলেন না, কিনে নিল আর্সেনাল! যোগ দিলেন কে? না ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো (Franco Mastantuono), ‘অ্যান্টি–লামিনে ইয়ামাল’ বানানোর প্রজেক্ট হিসেবে। কিন্তু গোড়াতেই মুখ থুবড়ে পড়ল কর্মকর্তাদের সাধের প্রজেক্ট! মাঠে কোনও ছাপই রাখতে পারলেন না ফ্রাঙ্কো।

ডিফেন্সে চোটের মিছিল, মাঝমাঠে ভারসাম্যের অভাব—এই বাস্তবতায় জাবির হাই প্রেস, পজিশনাল ফুটবল, গতি—সব কাগজেই আটকে রইল। বোর্ডের তরফে সমর্থন না এলে কোচের দর্শন মাঠে কাজ করবে কী করে? উপরন্তু, চুক্তি আলোচনা থামিয়ে রাখা, মিডিয়ায় ক্রমাগত ‘অসন্তোষে’র খবর—সব মিলিয়ে বিষিয়ে ওঠে পরিবেশ। পরাজয়ের তালিকা তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু জয়ের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কেউ করছিল না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (UEFA Champions League) টপ এইটে থাকা, কোপা দেল রেতে (Copa del Rey) আগুয়ান হওয়া—এসব ‘যথেষ্ট’মনে হয়নি।

স্টাইল বনাম ডিএনএ: রিয়াল কি আদৌ বদলাতে চায়?

জাবির ফুটবল মানে দলগত সঙ্ঘতি—সবাই প্রেস করবে, সবাই ডিফেন্ড করবে। রিয়ালের ঐতিহ্য মানে ব্যক্তিত্ব-নির্ভরতা! তারকা নিজস্ব ছন্দে খেলবে। এই দুই দর্শনের সংঘর্ষই আসল অনুঘটক। এমবাপে রেকর্ডের পিছনে ছুটছেন, চোট সারাতে যতটা দরকার তার চেয়েও বেশি খেলছেন—কারণ লক্ষ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) ক্যালেন্ডার–রেকর্ড ছোঁয়া। এই বাস্তবতায় কোচের ‘টেম্পো কন্ট্রোল’কি কাজ করতে পারে?

জাবি বুঝতে পেরেছিলেন—খেলোয়াড়রা তাঁর পন্থা বিশ্বাস করছে না। বিশ্বাস ছাড়া কোনও সিস্টেম চলে না। ফলে মাঠে তাঁর লেভারকুসেন–ছায়া দেখা গেল না। পরাজয় হলেই প্রশ্ন উঠল, জয় এলেও সন্দেহ রইল। বোর্ডের চোখে তিনি কখনওই ‘অপরিহার্য’ থাকলেন না! তাই সুপার কাপের হারটা ট্রিগার, কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। আপাতত দায়িত্বে আসছেন আলভারো আরবেলোয়া (Álvaro Arbeloa)—কাস্তিয়ার (Castilla) কোচ, ‘ক্লাব ম্যান’। সংস্কৃতি সামলানোই তাঁর প্রধান কাজ। কিন্তু আসল প্রশ্ন থেকেই যাবে—যদি জাবির মতো ক্লাব–লেজেন্ডও এই কাঠামো বদলাতে না পারেন, তাহলে বদলাবে কে?

শেষ পর্যন্ত রিয়াল আবার প্রমাণ করল—এটা এমন এক ক্লাব, যাকে সবাই পরিচালনা করতে চায়, কিন্তু সে নিজে খুব কম ক্ষেত্রেই ‘পরিচালিত’ হতে ইচ্ছুক। ট্রফি এলে সিদ্ধান্ত সঠিক বলে ধরা হবে। না এলে? দায় কোচের। এই চক্রেই হাবুডুবু খেলেন জাবি আলনসো, হারালেন কুর্সি।


```