Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

৪-৩-১-২ ডায়মন্ড গেল কোথায়? আধুনিক ফুটবলের গতি-ই কি শেষ করে দিল এক যুগের রোমান্স?

দেওয়াললিখন স্পষ্ট—যে সিস্টেম তাল রাখতে পারে না, তাকে জায়গা দেওয়া অসম্ভব। ডায়মন্ড তাই স্মৃতির বিষয়। মাঠে নেই, নস্টালজিয়ায় আছে।

৪-৩-১-২ ডায়মন্ড গেল কোথায়? আধুনিক ফুটবলের গতি-ই কি শেষ করে দিল এক যুগের রোমান্স?

ডায়মন্ডে উজ্জ্বল মিলান

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 27 November 2025 17:56

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবল যত দ্রুততর হয়েছে, একসময় দাপুটে ফর্মেশন প্রায় আবছা হতে হতে আজ গিয়েছে মিলিয়ে—মিডফিল্ড ডায়মন্ড, মানে ৪-৩-১-২। আর্জেন্টিনা–ইতালির মতো দেশে এই ছক ছিল ধর্মের মতো। নম্বর ১০-কে কেন্দ্র করে খেলা গড়তে চাইলে ডায়মন্ডই সহজ সমাধান। মাঝমাঠে জনবল, নিয়ন্ত্রণ, পাসিং—সব সুবিধে এক জায়গায়।

কিন্তু সেই সোনালি যুগ এখন ইতিহাস। কেন? আধুনিক ফুটবলের গতি আর চাপ-ই আসল দুই ফ্যাক্টর, যা এই সিস্টেমকে তামাদি করে তুলল?

আসলে ডায়মন্ডের আসল শক্তি মাঝমাঠ দখল। অ্যান্সেলোত্তির মিলান—পিরলো, কাকা, সিডর্ফ, গাত্তুসো—দেখলেই বোঝা যায় ইতালির ক্লাব কতটা বল-আধিপত্য বজায় রাখত। মোরিনহোর পোর্তোও ডায়মন্ড দিয়ে জিতেছিল ইউরোপ!

কিন্তু একই সঙ্গে এই ছকের একটা বড় দুর্বলতা—ফাঁকা উইং। যা আজকের ফুটবলে আক্রমণের হাইওয়ে। ফুল-ব্যাক একসঙ্গে উপরে–নিচে দৌড়বে—এটা আজ বাস্তবসম্মত নয়। ট্রানজিশন এত দ্রুত হয়, যে ফুল-ব্যাকরা সামনে উঠলে পিছনে অবারিত অঞ্চল! যে উন্মুক্ততার ফায়দা লুটে প্রতিপক্ষ তিন পাসে বক্সে।

ইদানীং সময়ের ফুটবল তিনটে জিনিসে দাঁড়িয়ে—গতি, প্রেসিং আর উইডথ। ডায়মন্ডের সঙ্গে এই তিনেরই মহা-বিরোধ। কারণ, মাঝমাঠে গাদাগাদি খেলোয়াড় মানেই প্রেসিং দল এক মুহূর্তে পথ বন্ধ করে দেয়। দ্বিতীয়ত, পাসিং লেন খুবই ছোট, ফলে ভুল করলেই বিপদ। তার উপর উইং ফাঁকা। অর্থ: প্রতিপক্ষকে আগ বাড়িয়ে অভ্যর্থনা, ‘বিনামূল্য’ জায়গা উপহার দেওয়া।

এই কারণেই ডায়মন্ড কাগজে ভালো, মাঠে নয়। ইতালিতে পরিবর্তনটা সবচেয়ে স্পষ্ট। নাপোলির মাৎজারি ৩-৪-৩, উদিনেসের গুইডোলিন ৩-৫-২—উইং-ব্যাকদের দৌড়ে ডায়মন্ড টিমগুলি দম নিতে পারত না। বল একদিকে বদলালেই ডায়মন্ডের স্ট্রাইকার ভেঙে চুরমার!

ইংল্যান্ডে গল্পটা আরও অদ্ভুত। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ডায়মন্ড সিস্টেম দিয়েই জিতেছিল ইংরেজরা। কিন্তু পরের অর্ধশতাব্দী তারা একরকম ভুলেই গেল এই ফর্মেশন। ২০০৪ ইউরোর আগে এরিকসন চেষ্টা করেছিলেন—স্কোলস ১০ নম্বর, বেকহ্যাম–জেরার্ড পাশে, ল্যাম্পার্ড হোল্ডিং। কিন্তু মাঠে নেমেই খেলোয়াড়রা রণে ভঙ্গ দিল। সুরে সুর মিলিয়ে সক্কলে বলে উঠলেন—‘এটা চলবে না, বস!’

বস্তুগত ডায়মন্ড উজ্জ্বল। কিন্তু ট্যাকটিক্সের মডেল হিসেবে এই ছক মাঝেসাঝে জমকালো, মিলিয়েও যায় দ্রুত। প্রমাণ আনচেলত্তির চেলসি। দুরন্ত শুরু। কিন্তু কয়েক সপ্তাহেই জেল্লা ফিকে! ইউনাইটেডে ফার্গুসনের ক্ষণিকের পরীক্ষা কাজে দিল, আবার পড়ল মুখ থুবড়ে। কিংবা ব্রেন্ডন রজার্সের লিভারপুল। ১১ জয়ের দাপট। তারপরই প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা শিখে গেল বেঁধে রাখার কৌশল। আসলে ডায়মন্ড সবসময়ই একটু রোমান্টিক, ঠিক কাঠখোট্টা বাস্তব নয়—এই সিস্টেম নজরকাড়া, টিকে থাকার নয়।

হয়তো সে কারণেই এখনকার ফুটবলে পুরোপুরি এই সিস্টেম দেখা যায় না। পরিবর্তে নজরে আসে ইন-পজেশন স্ট্রাকচার—৩-৩-১-৩। ফুল-ব্যাক ভেতরে এনে তৈরি হওয়া ‘ভুয়া’ ডায়মন্ড। ক্লপের লিভারপুলেও ফিরমিনো–সালাহ–মানে মাঝেমধ্যে ডায়মন্ড-জাত লেআউট মেলে ধরেছেন। কিন্তু সত্যিকারের ৪-৩-১-২ আর কার্যকর নয়। ফুটবল বদলে গিয়েছে। দেওয়াললিখন স্পষ্ট—যে সিস্টেম তাল রাখতে পারে না, তাকে জায়গা দেওয়া অসম্ভব। ডায়মন্ড তাই স্মৃতির বিষয়। মাঠে নেই, নস্টালজিয়ায় আছে।


```