সৌভিক বলেন, ডার্বি জিতলে রশিদের বাবাকে উৎসর্গ করবেন। ব্রুজোঁ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোহনবাগানের দুর্বলতাকে নিশানা করেই ডার্বি জিততে চান তিনি।

অস্কার ব্রুজো ও সৌভিক চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 16 August 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইস্টেবেঙ্গল ও মোহনবাগান (East Bengal vs Mohunbagan)। আর সেই নিয়ে উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন দুই দলের সমর্থকরা। ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের দু’দিন পরে ডার্বি নিয়ে দ্বিখণ্ডিত হতে চলেছে বাংলা।
ডার্বির দিন ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে টিকিট নিয়ে হাহাকার। গতকাল রাতেই দেখা গিয়েছে টিকিট সংগ্রহের জন্য ক্লাবের বাইরে অপেক্ষা করেছেন দুই ক্লাবের সমর্থকরা। অনেকেরই রাতজাগা সার্থক হয়নি। সকালেও ছিল লম্বা লাইন। টহল দিতে দেখা যায় ঘোড়সওয়ার পুলিশকেও।
ডার্বির আগে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সৌভিক চক্রবর্তী এবং হেডস্যার অস্কার ব্রুজোঁ (Oscar Bruzon, Souvik Chakraborty)। সৌভিক বলেন, ডার্বি জিতলে রশিদের বাবাকে উৎসর্গ করবেন। ব্রুজোঁ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোহনবাগানের দুর্বলতাকে নিশানা করেই ডার্বি জিততে চান তিনি। লাল-হলুদের চাণক্য বলেন, “মোহনবাগান দেশের অন্যান্য ক্লাবগুলোর কাছে একটা বেঞ্চমার্ক। তাই রবিবার একটা কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। কিন্তু মোহনবাগানেরও দুর্বলতা আছে। আমরা সেটা কাজে লাগিয়ে ওদের হারাতে চাই।”
এদিকে, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মুখে হাসি ফেরাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সৌভিক। তিনি বলেন, “বড় ম্যাচ মানেই সমর্থকদের আবেগ। এই ম্যাচ সব সময় ফিফটি-ফিফটি। যে টিমই সামনে আসুক, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। লিগ পর্যায়ে আমরা ভাল খেলেছি। সেই ধারা বজায় রাখতে চাই। ডার্বি নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না, সব সময় নির্ভর করে দিনের উপর। সমর্থকদের কথা ভেবে ডার্বি জিততে চাই।”
এদিকে রবিবারের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল পাবে না প্যালেস্তাইনের মহম্মদ রশিদকে (Mohammed Rashid)। এই নতুন বিদেশি লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবে যোগ দিয়েই নজর কেড়ে নিয়েছেন। ডার্বিতে তাঁর না থাকাবড় ধাক্কাইস্টবেঙ্গলের কাছে শিবির। রশিদের বাবা শুক্রবার মারা গিয়েছন। তিনি প্যালেস্তাইনে ফিরে গিয়েছেন। শুক্রবার অনুশীলন শেষে সেই খবর পেয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয় লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট।
রশিদ প্রসঙ্গে সৌভিক বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক। খুবই খারাপ লাগছে। রশিদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। ও নেই ঠিকই। তবে চাই, বিষয়টা নিয়ে গোপনীয়তা বজায় থাকুক। রশিদও সেটাই চেয়েছে। ডার্বি জিতলে রশিদকে উৎসর্গ করব। ওর জন্য আমাদের জেতা আরও প্রয়োজন।”
জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ব্রুজোঁ। তিনি বলেন, “আমাদের রশিদ নেই। কিন্তু মোহনবাগানেরও দুর্বলতা আছে। আমরা সেটা কাজে লাগিয়ে ওদের হারাতে চাই। তবে ওদের ট্রানজিশন ফেজ আর কাউন্টার প্রেস খুবই শক্তিশালী। ওরা সুযোগ পেলেই গোল করতে পারে। সুতরাং, আমাদের আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই সতর্ক থাকতে হবে।”
এখন দেখার, রবিবার যুবভারতীর রঙ লাল-হলুদ হয়, নাকি সবুজ-মেরুন।