লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট! রিয়াল মাদ্রিদ মায়োর্কার কাছে হেরে বসায় এবং নাটকীয়ভাবে আতলেতিকোকে হারানোয় বার্সেলোনা ৭ পয়েন্টে এগিয়ে গেল। খেতাব কি এবার লামিনে ইয়ামালদের হাতেই? বিস্তারিত পড়ুন।

নায়ক লেওয়ানডস্কি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লা লিগার (La Liga) শিরোপা দখলের লড়াই কার্যত একতরফা হয়ে গেল। গতকাল, একই দিনে রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) দুর্বল মায়োরকার (Mallorca) বিরুদ্ধে হারল ২-১ গোলে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের (Atletico Madrid) মাঠে গিয়ে ৮৭ মিনিটে জয়সূচক গোল করে দলকে (Barcelona) ৭ পয়েন্টে এগিয়ে দিলেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি। যাকে টাইটেল-রক্ষার পথে বড় ধাপ হিসেবেই দেখছে ফুটবল মহল।
৯০ মিনিটের বেশিরভাগ সময় দশ জনে খেলেও রুখে দাঁড়ায় আতলেতিকো। ৮৭ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ১-১। তারপর জোয়াও কান্সেলো (Joao Cancelo) বক্সে ঢুকে শট নেন। গোলরক্ষক হুয়ান মুসো (Juan Musso) বল ধরতে ব্যর্থ। রিবাউন্ড পান রবার্ট লেওয়ানডস্কি (Robert Lewandowski)। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কাঁধ দিয়ে ঠেলে দেন জালে। এতেই বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য দাপট দেখেচ্ছিল আতলেতিকোই। ৩৯ মিনিটে কোচ দিয়েগো সিমিওনের ছেলে জিউলিয়ানো সিমিওনে (Giuliano Simeone) দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে সমতা ফিরান মার্কাস র্যাশফোর্ড (Marcus Rashford)। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে লোনে আসা ইংরেজ উইঙ্গার মাঝমাঠে দানি ওলমোর সঙ্গে পাস বিনিময় করে জোরালো শটে গোল করেন।
ম্যাচের আসল মুহূর্ত আসে মাঝপথে। ইয়ামালকে অবৈধ ট্যাকল করায় লাল কার্ড দেখেন আতলেতিকোর নিকো গোনজালেজ। দশ জনে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ খেলেও আতলেতিকো জানপ্রাণ লাগিয়ে লড়াই চালায়। কিন্তু তাতে লাভের লাভ হল না। জয় ছিনিয়ে নিল হান্সি ফ্লিকের টিম।
উল্লেখ্য, গতকালের ম্যাচ দুই দলের মধ্যে চলতি ‘ট্রিলজি’র প্রথম লড়াই। সামনের দু’সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আবার মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা-আতলেতিকো।
একই দিনে মায়োরকার মাঠে বিপর্যয়ের মুখে রিয়াল মাদ্রিদ। অবনমনের বৃত্তে থাকা মায়োরকার হাতে নাস্তানাবুদ ভিনিসিয়াসরা। হারতে হল ২-১ স্কোরলাইনে। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যায় মায়োরকা। গোলদাতা মানু মোরলানেস। রিয়াল এরপর অনেক চেষ্টা চালায়। কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) বারবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছলেও দরজা খুলছিল না—গোলরক্ষক লেও রোমান সাক্ষাৎ প্রাচীর হয়ে ওঠেন। শেষ মুহূর্তে জোরালো হেডে সমতা ফেরান এডের মিলিতাও (Eder Militao)। তখনও মনে হচ্ছিল, ৩ না হলেও অন্তত ১ পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফিলবে রিয়াল।
কিন্তু আসল ট্যুইস্ট ঘনিয়ে ওঠে অতিরিক্ত সময়ে। ভেদাত মুরিচি (Vedat Muriqi) ৯১ মিনিটে গোল করে মায়োরকার নায়ক! দলকে উপহার দিলেন বিরলতম জয়। লড়াই শেষে আবেগে ভেসে গেলেন মুরিচি—আগের ম্যাচে পেনাল্টি মিসের পর এই গোল যেন অভিশাপমুক্তি!
রিয়ালের কোচ আলভারো আরবেলোয়া (Alvaro Arbeloa) চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের (প্রতিদ্বন্দ্বী বায়ার্ন মিউনিখ) কথা ভেবে ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Junior), জুড বেলিংহ্যামকে প্রথম একাদশে রাখেননি। দুজনেই পরিবর্ত হিসেবে নামেন। দিনের শেষে সেটাই কাল হয়ে উঠল।
লিগের হিসেব এখন পরিষ্কার। রিয়ালের চাইতে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা। হাতেগোনা ম্যাচ বাকি। তাতে ব্যবধান মুছে শিরোপা জেতা রিয়ালের পক্ষে কঠিন। চরম নাটকীয় কিছু না হলে লিগ খেতাব আরও একবার কাতালান ক্লাবের ক্যাবিনেটেই ঢুকতে চলেছে।