সব সময় তো ফেভারিট দল জেতে না। নর্থ-ইস্ট গতবারের চ্যাম্পিয়ন, তবে আমরা জিতব।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিক্রমজিৎ সিং ও কিবু ভিকুনা
শেষ আপডেট: 22 August 2025 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে সব কৃতিত্ব অর্জন করতে কোনও ক্লাবের বছরের পর বছর লেগে যায়, জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যেই তার অনেক কিছু অর্জন করে ফেলেছে ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC)। চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব দেখিয়ে হয়েছে দল ও কোচ নির্বাচন। কলকাতা লিগের প্রথম ডিভিশনে সুযোগ পাওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাব দলের দায়িত্ব তুলে দেয় মোহনবাগানকে আই লিগ এনে দেওয়া কোচ কিবু ভিকুনার (Kibu Vicuna) হাতে। আর এর পর থেকে সাফল্যই সাফল্য।
প্রথম বছরই সিএফএলের ফার্স্ট ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হয়ে পা রাখে প্রিমিয়ার ডিভিশনে। প্রিমিয়ারে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ছিল খেতাব জয়ের দৌড়ে। পাশাপাশি আই-লিগের তৃতীয় ডিভিশনেও অভিষেক মরশুমেই চ্যাম্পিয়ন হয় ডায়মন্ড হারবার। পরের বার দ্বিতীয় ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবারের মরশুমে তারা খেলবে আই-লিগের মূল পর্বে। আর এবারও চ্যাম্পিয়ন হলে সুযোগ এসে যাবে আইএসএলের মঞ্চে নামার।
এখানেই ডায়মন্ড হারবারের সাফল্যের শেষ নয়। ডুরান্ডে (Durand Cup) এবারই তারা প্রথম খেলছে। আর প্রথমবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দোরগোড়ায়। শনিবার তারা যুবভারতীতে নামবে ফাইনাল খেলতে। প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড (North-East United)। আর একটা ম্যাচ জিতলেই প্রথম সারির সর্বভারতীয় ট্রফি ঢুকে পড়বে ডায়মন্ড হারবারের ক্যাবিনেটে। সেই সঙ্গে ইতিহাসও গড়বে এই ক্লাব। এর আগে কোনও দলই ডুরান্ড অভিষেকেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।
সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল কিবু ভিকুনার ছেলেরা। সেদিনের ম্যাচ শেষে কিবু বলেছিলেন, কাজ এখনও শেষ হয়নি। ফাইনালের প্রতিপক্ষ নর্থ-ইস্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হবে না। তবে তাঁর ছাত্ররা যে লড়াই দেবেন, সেটাও শোনা গিয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের চাণক্যর মুখ থেকে।
ম্যাচের আগের দিনও সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সেই কথাই শোনালেন কিবু ভিকুনা। বললেন, “ফুটবলে সব কিছু সম্ভব। আমরা ফাইনালেও লড়াই করব। ছেলেরা ১০০ শতাংশই দেবে।”
ডুরান্ডে ফাইনালে ওঠার পথে চারটি আইএসএল দলের বিরুদ্ধে খেলেছে ডায়মন্ড হারবার। গ্রুপ পর্বে মহামেডনাকে হারানোর পর হেরে যায় মোহনবাগানের কাছে। এরপর শেষ আটে হারায় জামশেদপুর এফসিকে। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে তারা সবাইকে চমকে দেয়। এবার ফাইনালের প্রতিপক্ষ আরও একটি আইএসএল দল, নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড।
ফাইনালের আগের দিন কিবু বললেন, ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পিছনে রয়েছে ফুটবলারদের শৃঙ্খলা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইস্টবেঙ্গল শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। ওদের হারানো সহজ ছিল না। আমরা জিতেছি শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছি বলে। আমার ছেলেদের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা জেতার খিদে প্রবল ভাবে রয়েছে। অনেক সময় ফুটবলারদের শৃঙ্খলা ও একতা পরিকল্পনার থেকেও বেশি কাজ দেয়। আমাদের ক্ষেত্রেও সেটাই হচ্ছে।”
ডায়মন্ড হারবারে এবার বেশ কিছু নতুন ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। তাঁদের সম্পর্কে কিবু বলেন, “নতুন ফুটবলার মানেই খারাপ নয়। ভাল খেলতে হলে আত্মবিশ্বাস খুবই জরুরী। ওরা প্রতিদিনই উন্নতি করছে। দেশের সর্বোচ্চ স্তরে ওরা নিজেদের প্রমাণ করে চলেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের মেলবন্ধনই সাফল্য এনে দিচ্ছে।”
গতবার ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নর্থ-ইস্ট। এবারের ফাইনালেও তাদের এগিয়ে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সেই নিয়ে ভাবছেন না ডায়মন্ডের হেডস্যার। তিনি বলেছেন, “যদি আপনার মধ্যে লড়াকু মানসিকতা থাকে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেন, তবে সবই সম্ভব। সব সময় তো ফেভারিট দল জেতে না। নর্থ-ইস্ট গতবারের চ্যাম্পিয়ন, তবে আমরা জিতব।”
এদিকে নর্থ-ইস্ট কোচ জুয়ান পেদ্রো বেনালির মুখ থেকে শোনা গিয়েছে ডায়মন্ড হারবারকে সমীহ করার কথা। ফাইনালে তিনি কোনও দলকেই এগিয়ে রাখতে চাননি। তিনি ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, “ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিদার ছিল। তাদের হারিয়েছে ডায়মন্ড হারবার। আমরা এগিয়ে আছি, এটা কখনওই বলব না। মাঠে মস্তিষ্কের লড়াই হবে। যারা মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকবে, তারাই জিতবে।”