
পেলে-মারাদোনা-ডি স্টেফানো
শেষ আপডেট: 19 January 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবলার। আর্জেন্টিনায় জন্ম। এটুকু পড়ে চিন্তায় ঘাই মারে দুটো নাম: দিয়েগো মারাদোনা এবং লিওনেল মেসি।
কিন্তু যদি এরপর জুড়ে দেওয়া হয়: তিনি রিয়াল মাদ্রিদের অবিসংবাদী নায়ক; আর্জেন্টিনায় জন্মালেও খেলেছেন স্পেন ও কলম্বিয়ার হয়ে—তখন মাথা চুলকোনো ছাড়া গত্যন্তর থাকে না।
অথচ তিন দেশের হয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে খেলা আলফ্রেডো ডি স্টেফানোকেই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার বেছেছিলেন খোদ দিয়েগো মারাদোনা। ঠিকই পড়েছেন… ‘অন্যতম শ্রেষ্ঠ’ নয়, ‘সেরার সেরা’ তকমা দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার নায়ক। শুধু তাই নয়। ডি স্টেফানোর ক্যারিশমা, দক্ষতা ও প্রতিভা এতটাই প্রবল ছিল যে, পেলে পর্যন্ত তাঁকে ‘কদর’ দিতে চাননি… পাছে তিনি আড়ালে চলে যান, হয়ে পড়েন নিষ্প্রভ! এমনটাই মনে করতেন দিয়েগো।
২০১৯ সালে একটি সাক্ষাৎকার দেন মারাদোনা। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কাকে তিনি বিশ্ব ফুটবলের ‘সেরা’ বলে বেছে নেবেন? উত্তরে নিজের নাম কিংবা পেলের নাম করাটা দস্তুর হলেও আর্জেন্টিনার তারকা সাফ জানান, ‘সেরার সেরা’ একজনই। তাঁর নাম আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। সঙ্গে যোগ করেন, ‘স্টেফানো সবার উপরে—এমনকি আমার চেয়েও প্রতিভাবান। পেলে ওর প্রতিভাকে স্বীকার করতে চায়নি। পেলের বন্ধুরা তো আলাদা একটা ট্রফিও বানিয়েছিল ওকে জীবন্ত কিংবদন্তি আখ্যা দিয়ে।‘
উল্লেখ্য, ডি-স্টেফানোর জৌলুস দেশের চাইতেও ক্লাব ফুটবলের মঞ্চে বেশি ঝলমলে। পাঁচ ও ছয়ের দশক জুড়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ঘরোয়া লিগ ও ইউরোপীয় ফুটবলের রঙ্গভূমি শাসন করেছিলেন এই ফুটবলার। স্ট্রাইকার হিসেবে বিপক্ষের ত্রাস হয়ে উঠতে সময় নেননি। রিয়ালের হয়ে ২৮২ ম্যাচে ২১৬ গোল। ইউরোপিয়ান কাপে ৫৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ৪৯। টানা পাঁচবার কাপ ফাইনালে বল জালে জড়ানোর অনন্য নজির, পাঁচবারই খেতাব জয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। কাতালান ক্লাবের স্বপ্ন চুরমার করে আটবার ঘরোয়া লিগ জেতা… এতকিছুর পরেও ডি স্টেফানোর কীর্তিকে নিছক রেকর্ড বুকে ধরা যায় না। স্ট্রাইকারের খেলার ধরনও যে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠতে পারে, ‘তারকা’ খেতাবকে দূরে সরিয়ে দলের প্রয়োজনে রক্ষণের কাজ করাটাও যে অমর্যাদার নয়—এই সারসত্য নিজের ‘স্টাইল অফ প্লে’ দিয়ে বরাবর বোঝাতে চেয়েছেন স্টেফানো।
সে কারণেই পর্তুগালের তারকা ইউসেবিও তাঁকে ‘সবচেয়ে কমপ্লিট ফুটবলারে’র আখ্যা দিয়েছিলেন। আর ক্ষুরধার স্কিলের ছটা এবং গোল করার স্বভাবদক্ষতায় রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা তাঁর নাম দেন ‘সায়তা রুবিয়া’—যার বাংলা করলে দাঁড়ায়: ‘সোনালি তির’। মারাদোনার প্রশংসাও তাই অতিরঞ্জন ছিল না। স্টেফানোর রাজকীয় মুকুটে তা নয়া পালক জুড়েছিল মাত্র।