ম্যাচ শেষে হেসে ফান ডে ভেন বলেন, ‘সামনে একটু জায়গা দেখলাম, ভাবলাম ড্রিবল শুরু করি। তারপর দেখলাম আরও জায়গা পাচ্ছি, তখন মনে হল থামার দরকার নেই। শেষ পর্যন্ত এগিয়েই গেলাম।’

মিকি ফান ডে ভেন
শেষ আপডেট: 5 November 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন গোল সিজনে একটাই দেখা যায়, হয়তো তাও না!
ডিফেন্স থেকে বল নিয়ে একদম প্রতিপক্ষের বক্স পর্যন্ত দৌড়ে গেলেন, মাঝপথে তিনজনকে কাটালেন, তারপর বাঁ–পায়ের শটে গোল! মরশুম শেষ হতে এখনও বিস্তর দেরি। অথচ তার আগেই টটেনহ্যামের (Tottenham Hotspur) ডিফেন্ডার মিকি ফান ডে ভেন (Micky van de Ven) মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (Champions League) যেন নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন ‘গোল অব দ্য সিজনে’র তালিকায়!
Micky van de Ven’s stunning solo goal vs Copenhagen🤯 #UCL pic.twitter.com/58iheBkVbb
— Out Of Context Tottenham (@spursnocontext) November 4, 2025
ম্যাচের ৬৪ মিনিট। নিজের বক্সের সামনে বল পেয়েছিলেন মিকি। সামনে সামান্য ফাঁকা জায়গা। দেখে গোড়ায় ভাবলেন একটু এগনো যাক! তারপর ত্বরণের সূত্র মেনেই যেন বাড়তে থাকল দ্রুতি! শুরু মরণপণ দৌড়—দুই কোপেনহেগেন (FC Copenhagen) ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মাঝমাঠ পেরিয়ে গেলেন। এবার সামনে আরও এক মিডফিল্ডার। তাকেও পাশ কাটিয়ে ঢুকে পড়লেন বক্সে। শেষে আর কাটানোর নয়, কাজ ছিল বল জালে জড়ানোর। ফিনিশিং টাচটাও হল নিখুঁত—বাঁ-পায়ের শটে গোলরক্ষকের ডানদিকে নিচ দিয়ে বল চকিতে জালে। মিকি যেন মুহূর্তে মেসি!
লড়াই এমনিতেও জিতছিল স্পার্স। কিন্তু ওই গোলের পর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩–০। ম্যাচ শেষে হেসে ফান ডে ভেন বলেন, ‘সামনে একটু জায়গা দেখলাম, ভাবলাম ড্রিবল শুরু করি। তারপর দেখলাম আরও জায়গা পাচ্ছি, তখন মনে হল থামার দরকার নেই। শেষ পর্যন্ত এগিয়েই গেলাম।’
মজার ব্যাপার, ফান ডে ভেন আসলে একজন সেন্টার–ব্যাক। অথচ নির্বিষ স্ট্রাইকারদের যেন দুয়ো দিয়েই এ নিয়ে সিজনে তাঁর ছ’নম্বর গোল করে ফেললেন ডাচ ডিফেন্ডার। কোচ টমাস ফ্র্যাঙ্ক (Thomas Frank) যথারীতি আপ্লুত। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘এটা সিজনের সেরা গোল হতে পারে! যেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi) এক মুহূর্তের জন্য ডিফেন্ডারে চেহারা নিল।’
শেষ পর্যন্ত ১০ জন নিয়েই ৪–০ ব্যবধানে লড়াই জিতে নেয় টটেনহ্যাম। প্রথমার্ধে ব্রেনান জনসন (Brennan Johnson) ও উইলসন ওডোবের (Wilson Odobert) গোল করে এগিয়ে ছিল দল। দ্বিতীয়ার্ধে জনসন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও ছন্দে ঘা পড়েনি। বাকি দুটি গোল করেন ফান ডে ভেন ও জোয়াও পালিনহা (Joao Palhinha)।