ইরান কি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাচ্ছে? ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে উঠে আসছে ইতালির নাম! ইরান না খেললে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা আজুরিদের? বিস্তারিত পড়ুন।

ইতালি
শেষ আপডেট: 13 April 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসনিয়ার কাছে প্লে-অফে হেরে ফের বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া হওয়ার পর কোচ জেনারো গাত্তুসো (Gennaro Gattuso) পদত্যাগ করলেন। ইতালির (Italy) তৃতীয়বার এই গ্র্যান্ড টুর্নামেন্ট মিসের যন্ত্রণা তখন তাজা। কিন্তু একরাশ হতাশার মধ্যেও জোরালো আলোচনায় অপ্রত্যাশিত খবর—ইরানের (Iran) অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে ফিফা (FIFA) নাকি বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে! আর সেই ভাবনায় উঠে আসছে ইতালির নাম।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বকাপকে জটিল করে তুলেছে। টুর্নামেন্ট আয়োজিত হবে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে। ইরানের সব ম্যাচ আমেরিকার মাটিতে—লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে। সে দেশের প্রশাসন আগেই ‘বৈরী দেশে’ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে, যে তালিকায় রয়েছে আমেরিকাও। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমস্যা ঘোরালো করেছেন।
এখনও পর্যন্ত ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) সরকারিভাবে বলছেন, ‘কোনও প্ল্যান বি নেই। ইরান খেলবে!’ কিন্তু পর্দার আড়ালে যে বিকল্প আলোচনা চলছে, সেটা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় উঠে আসছে। ইরান গ্রুপ জি-তে। বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে বদলাতে পারে।
সরাসরি বলা যাক—আজুরিদের পথ সম্পূর্ণত ইরানের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। তারা সরে দাঁড়ালে ফিফাকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় দল বাছাই করতে হবে। যে সব সম্ভাবনার কথা আলোচনা হচ্ছে: একটি মিনি ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফ, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার বাদ পড়া দল থেকে দুটি দল নেওয়া হবে। ইউরোপ থেকে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ইতালি (Italy National Football Team) প্রথম সারিতেই থাকবে। এশিয়া থেকে আরব আমিশাহি বা ইরাক আসতে পারে। যদিও এত কিছু নিয়ে ভাবিত নন ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি (Andrea Abodi)। বললেন, ‘আমি এমনটা আশাও করি না। এটা ইউরোপের বিষয় নয়!’
খুব কম। কিন্তু শূন্য নয়। ইরান যদি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেখানে ইতালির নাম আসা খুব স্বাভাবিক। তবে আজুরিদের জন্য এটা পরিকল্পনার নয়, বরং অপেক্ষার সময়। ভিনদেশের রাজনৈতিক সংকটে নিজের ভাগ্য নির্ভর করছে—এটা হয়তো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সঙ্গে ঠিক সাজে না। ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শুরু হচ্ছে ১১ জুন। ইরান প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে আসে—এখন সেটাই দেখার।