ইংল্যান্ডে ‘পোর্ট ভেল’ নামে কোনও জায়গার অস্তিত্ব নেই! তাহলে ফুটবল ক্লাবটির নাম এমন হল কেন? এফএ কাপে চেলসির মুখোমুখি হওয়ার আগে পোর্ট ভেল নামকরণের রোমাঞ্চকর ইতিহাস জেনে নিন।

পোর্ট ভেল
শেষ আপডেট: 3 April 2026 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড ফুটবলে প্রায় সমস্ত ক্লাবের নামের সঙ্গে কোনও না কোনও জায়গার অনুষঙ্গ জড়িয়ে। ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, চেলসি—নামগুলো বলে দেয় দল কোথাকার। যদিও এর ব্যতিক্রমও রয়েছে, হাতেগোনা। যেমন: আর্সেনাল (Arsenal), ক্রিস্টাল প্যালেস (Crystal Palace)। এদের নামের পেছনে অন্য গল্প। তবে এই ‘নামমিলান্তি’র ভিড়ে সবচেয়ে রহস্যজনক সদস্য বোধহয় পোর্ট ভেল (Port Vale)। তার কারণ, এই নামে কোনও জায়গা এই মুহূর্তে গোটা ইংল্যান্ডের জরিপে নেই।

এফএ কাপের (FA Cup) কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার চেলসির (Chelsea) মুখোমুখি হচ্ছে এই ক্লাব। লিগ ওয়ানে তলার দিকে থাকা একটি দল কিনা প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ টিমের মাঠে খেলছে! আগের রাউন্ডে সান্ডারল্যান্ডকে হারিয়েছে পোর্ট ভেল। এই যাত্রা রোমাঞ্চকর, সন্দেহ নেই। কিন্তু এই সূত্রে উঠে আসছে একটা জরুরি মজার প্রশ্ন—ক্লাবের সঙ্গে এই অদ্ভুত নামখানা জুড়ে গেল কবে থেকে, কীভাবে?
অতীতকাহন
স্টোক-অন-ট্রেন্টের কাছে বার্সলেম। সিরামিকের বিখ্যাত শিল্পাঞ্চল। তাই বলা হত ‘দ্য পটারিজ’। বার্সলেম, হ্যানলি, লংটন, ফেন্টন, টুনস্টল, স্টোক—এই কটা শহর মিলিয়ে এখন স্টোক-অন-ট্রেন্ট। কিন্তু একসময় এর মধ্যে সেঁধিয়ে থাকা এক এলাকার নাম ছিল ‘পোর্ট ভেল’। এখন যাকে মিডলপোর্ট বলা হয়, তারই একটা অংশ। ১৮৩২ সালে সেখানে খোলা হয় ‘পোর্ট ভেল ওয়ার্ফ’—মালবাহী জেটি। ট্রেন্ট অ্যান্ড মার্সি ক্যানাল দিয়ে পণ্য পাঠানো হত উত্তরে, রানকর্নে। সেখান থেকে সমুদ্রে। মৃৎশিল্পের সরঞ্জাম, কয়লা, সার—সব যেত এই পথ বেয়ে।

এলাকায় তখন ছিল পোর্ট ভেল ক্রিকেট ক্লাব, পোর্ট ভেল ইন, পোর্ট ভেল কর্ন মিল। এমনকি পোর্ট ভেল ব্রিকওয়ার্কসেরও হদিশ মিলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ছিল ‘পোর্ট ভেল হাউস’ নামে একটি বড় বাড়ি। আর সেই বাড়িতেই জন্ম এই ফুটবল ক্লাবের।
১৮৭৬ সালের জানুয়ারি। সভা বসল লাইমকিলন লেনের পোর্ট ভেল হাউসে। পোর্টহিল ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরা এলেন—একটি ফুটবল দল গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে। উপস্থিত ইনোক হুড, তাঁর ভাই জ্যাক, বিলি পাউলসন, স্যাম গেটার ও উইলিয়াম পাউনার। কয়েকদিন বাদে দ্বিতীয় বৈঠক। আয়োজিত হল কাছেই, অ্যামেন কর্নারে। তারপর সরবসম্মতিক্রমে জন্ম নিল ফুটবল ক্লাব। প্রথম অধিনায়ক ইনোক হুড। পয়লা গোল তাঁর ভাই জ্যাকের। ইতিহাসবিদ জেফ কেন্টের মতে, নামটা লেপ্টে গেল সেই এলাকার পরিচয় থেকে—যেখানে খালের ধারে ঘাট আর গুদামঘর মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল একটা কর্মচঞ্চল জীবন।

১৮৯২ সালে ফুটবল লিগের (Football League) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নাম নথিভুক্ত হয় ‘বার্সলেম পোর্ট ভেল’ হিসেবে। ১৯১২ সালে ‘বার্সলেম’ বাদ পড়ে। এরপর থেকে শুধু ‘পোর্ট ভেল’। অথচ এই নামে জায়গাটা তখন থেকেই মুছতে শুরু করেছে। রেল ও সড়কপথ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালের গুরুত্বও অপসৃয়মান। বন্ধ হল ঘাট। এলাকাটা মিডলপোর্ট আর লংপোর্টের মধ্যে হারিয়ে গেল।

নামটা বেঁচে শুধু ক্লাবের কারণে
আজ ‘পোর্ট ভেল স্ট্রিট’ নামে একটা রাস্তা আছে বৈকী। পোর্ট ভেল কর্ন মিলের পুরনো পাঁচতলা ভবনটা এখনও দাঁড়িয়ে, জীর্ণ হলেও। কিন্তু ‘পোর্ট ভেল’ নামে কোনও এলাকা? উঁহু, তার হদিশটুকু নেই। শনিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে (Stamford Bridge) যখন ছ’হাজার পোর্ট ভেল সমর্থক গলা ফাটাবেন, তখন শুধু ক্লাবের অতীত আর আত্মপরিচয় নয়… একটা হারিয়ে যাওয়া জায়গার নাম স্লোগানের স্পন্দনে বেঁচে উঠবে।