.webp)
পারো এফসি-র বিরুদ্ধে লড়াকু ড্র ইস্টবেঙ্গলের
শেষ আপডেট: 26 October 2024 18:32
আইএসএল টুর্নামেন্টে ইস্টবেঙ্গল এফসি-র যে শনির দশা লেগেছে, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তা কিছুটা হলেও কাটল। শনিবার (২৬ অক্টোবর) টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্যায়ে খেলতে নেমেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রতিপক্ষ ভূটানেরই ফুটবল ক্লাব পারো এফসি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা অনেকটাই বেশি হওয়ার কারণে ইস্টবেঙ্গলকে যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, তা আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। অবশেষে সেই অজানা আশঙ্কাকে তারা জয় করল। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত কামব্যাক করল মাদিহ তালাল, দিয়ামান্তাকোসরা। থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্য়াচে শেষপর্যন্ত মশালবাহিনী ২-২ গোলে ড্র করল।
এই ম্য়াচের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলকে একেবারে আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখতে পাওয়া যায়। বাঁদিক থেকে আক্রমণ তুলে আনলে সাউল ক্রেসপো। তিনি একটি লো ক্রস বাড়ান। বল যায় মাদিহ তালালের পায়ে। এই ফরাসি ফুটবলার সুবর্ণ সুযোগ ব্যবহার করলেন। বটম লেফট-কর্নার দিয়ে চমৎকার একটি ফিনিশ করলেন তিনি। আর সেইসঙ্গে ৫ মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গল ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।
তবে লাল-হলুদের কপালে এই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বক্সের মধ্যে আসান্তেকে কড়া ট্যাকল করলেন প্রভাত লাকরা। সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ রেফারি পারো এফসি-র পক্ষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক নিতে আসেন উইলিয়াম ওপোকু। তিনি বটম রাইট কর্নার দিয়ে বলটা লাল-হলুদের জালে জড়িয়ে দিলেন। ৮ মিনিটে সমতা ফেরাল পারো এফসি।
হাফটাইমের ঠিক আগে আবারও ইস্টবেঙ্গল দূর্গে আঘাত হানল পারো এফসি। কাউন্টার অ্যাটাকে তারা লাল-হলুদের রক্ষণকে চুরমার করে দেয়। অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় দৌড় লাগালেন আসান্তে। ইস্টবেঙ্গল প্রহরী প্রভসুখন গিল তাঁকে আটকানোর জন্য় কিছুটা সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পারো এফসি-র এই ফরোয়ার্ড খানিকটা চিপ করে বলটা তুলে দেন। ৪৫+২ মিনিটে লিড নেয় ভূটানের এই ফুটবল ক্লাব।
প্রথমার্ধে ১-২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর কিছুটা হলেও লাল-হলুদের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লাগে। ৪৭ মিনিটে নাওরেম মহেশ এবং আনোয়ার আলি একটা আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা করলেও, জিকসন সিং শেষপর্যন্ত ফিনিশ করতে পারলেন না। ৫৪ মিনিটের মাথায় মহেশকে তুলে নিয়ে ক্লেইটন সিলভাকে মাঠে নামানো হয়েছিল। যদি গোলের দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু, তাতেও কোনও লাভ হল না। ৬০ মিনিটের মাথায় বাজেবাবে ট্যাকল করার জন্য হলুদ কার্ড দেখলেন আনোয়ার।
তবে ৭২ মিনিটের মাথায় হল ম্যাজিক। ডানদিক থেকে উপরের দিকে উঠে আসেন নন্দকুমার। বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন তিনি। দিয়ামান্তাকোসকে লক্ষ্য করে তিনি একটি লো ক্রস বাড়ান। লাল-হলুদের এই গ্রিক ফরোয়ার্ড কোনও ভুল করলেন না। গোলপোস্টের প্রায় ছাদ স্পর্শ করে বলটা গোলার মতো ঢুকে গেল। ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোতে থাকে, ততই পারো এফসি-র আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়তে থাকে। এই ম্যাচেও লাল-হলুদ ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে একটা বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। রেগুলেশন টাইমের পর আরও ৬ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। কিন্তু, কোনও দলই গোল ব্যবধানে পার্থক্য গড়তে পারেনি। আগামী ২৯ নভেম্বর বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ইস্টবেঙ্গল।