ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল লাল-হলুদ। মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় চেন্নাই রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এডমুন্ড। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

চেন্নাইয়ের দুর্গ গুঁড়িয়ে তিনে ইস্টবেঙ্গল
শেষ আপডেট: 11 April 2026 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের সময় যখন ৮০ মিনিট, গ্যালারিতে তখন উৎকণ্ঠার চোরাস্রোত। চেন্নাইয়িন বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের (CFC vs EBFC) ফল তখনও ১-১। কেউ জানত না শেষ ১০ মিনিটে কী নাটক অপেক্ষা করছে। কিন্তু রেফারির শেষ বাঁশি যখন বাজল, তখন চেন্নাইয়ের স্কোরবোর্ড বলছে ১-৩। শেষ মুহূর্তের ঝড়ে বিপিন ও নন্দকুমারের দুই গোল কেবল ৩ পয়েন্টই এনে দিল না, লাল-হলুদকে তুলে আনল লিগ টেবিলের তিন নম্বরে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল লাল-হলুদ। মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় চেন্নাই রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এডমুন্ড। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৭ মিনিটে রেন্থলেইয়ের পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় চিপ শটে গোল করে চেন্নাইকে সমতায় ফেরান ইরফান ইয়াদওয়াদ। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে।

বিরতির পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। ৬৭ থেকে ৭১ মিনিটের মধ্যে মশাল বাহিনীর একের পর এক আক্রমণ আছড়ে পড়ছিল চেন্নাই বক্সে। কিন্তু রূপকথার মতো গোল আগলে দাঁড়িয়েছিলেন চেন্নাই কিপার নওয়াজ। মিগুয়েল ও বিষ্ণুদের নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি ম্যাচকে সমতায় আটকে রেখেছিলেন দীর্ঘক্ষণ।
ম্যাচের আসল খেলা শুরু হলো ৮৩ মিনিটে। সাইডলাইন থেকে বিষ্ণুর মাপা ক্রস, আর বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ফিনিশ। মরসুমের প্রথম গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন বিপিন। গোল শোধ করতে চেন্নাই যখন সব শক্তি দিয়ে আক্রমণে উঠল, তখনই পাল্টা আক্রমণে কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিলেন নন্দকুমার সেকার। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে মিগুয়েলের পাস থেকে ৩-১ জয় নিশ্চিত করেন নন্দ।
এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল এখন লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে সমান ম্যাচে মাত্র ৫ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে ধুঁকছে চেন্নাইয়িন। এই জয় কেবল পরিসংখ্যান নয়, লিগ জয়ের লড়াইয়ে থাকা বাকি দলগুলোর কাছেও বড় বার্তা পৌঁছে দিল অস্কার ব্রুজোনর ছেলেরা।