হাতে বাকি মাত্র দু’মাস, অথচ ভারতে এখনও বিক্রি হয়নি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব! মেসি-রোনাল্ডোদের লড়াই কি টিভি বা মোবাইলে দেখা যাবে না? কেন আগ্রহ দেখাচ্ছে না জিওস্টার বা সোনি? ফিফার অস্বস্তি ও ভারতীয় দর্শকদের দুশ্চিন্তা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি
শেষ আপডেট: 10 April 2026 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১ জুন থেকে শুরু ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। হাতে মাত্র দু’মাস বাকি। কিন্তু ভারতে এখনও কোনও চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব কেনেনি। পরিস্থিতি যা, তাতে খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা বিহিত না হলে ভারতের দর্শক লাইভ বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন না।
দাম কমালেও আগ্রহ নেই
ফিফা (FIFA) গত বছরের জুন মাস থেকে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০২৬ ও ২০৩০—দুই বিশ্বকাপের জন্য একসঙ্গে। শুরুতে দাম ছিল ১০ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা। কিন্তু কেউ রাজি হয়নি। তারপর দাম কমিয়ে আনা হয় ৩.৫ কোটি ডলারে (প্রায় ২৯০ কোটি টাকা)। তবুও এগিয়ে এল না কোনও সংস্থা।
তুলনার জন্য বলা যাক—২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্বত্ব ভায়াকম১৮ কিনেছিল ৬.২ কোটি ডলারে অর্থাৎ, প্রায় ৪৫০ কোটি টাকায়। এবার সেই আগ্রহ দপ করে নিভে গেল। কিন্তু কেন?
কারণগুলো জানতে হলে ভারতের স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং বাজারটা বোঝা জরুরি। প্রথমত, মার্কেটে এখন মাত্র একটিই বড় খেলোয়াড়। আগে ভারতে বড় স্পোর্টস চ্যানেলের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। স্টার ইন্ডিয়া আর ভায়াকম১৮—অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। আলাদা শিবির। প্রতিযোগিতায় দাম বাড়ত, স্বত্ব কেনার আগ্রহ চড়ত। এখন এই দুই সংস্থা মিলে গিয়ে জিওস্টার (JioStar) হয়েছে। বড় প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। বাকি যারা, যেমন: সোনি স্পোর্টস (Sony Sports), ইউরোস্পোর্ট (Eurosport), ফ্যানকোড (FanCode)—কেউ এত বড় বিনিয়োগে রাজি নয়।
তার উপর ক্রিকেটে ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে সব চ্যানেল। আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের (BCCI) স্বত্বের জন্য মোটা অঙ্ক খরচ হয়ে গিয়েছে। তাই ফুটবলের জন্য নতুন করে বিনিয়োগের জায়গা সংকুচিত।
ক্রিকেটের আধিপত্য আর রাতের ম্যাচের বাধা
ভারতে ফুটবল জনপ্রিয়। কিন্তু ক্রিকেটের মতো নয়। বিজ্ঞাপন বাজারে রোহিতের চেয়ে রোনাল্ডোর দর অনেক কম। আরেকটা বড় সমস্যা—সময়। বিশ্বকাপ হচ্ছে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে। সেখানকার রাত মানে ভারতে ভোর বা মধ্যরাত্রি। বেশিরভাগ ম্যাচ রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে। দর্শক কমবে, বিজ্ঞাপন আসবে কম—এতে লাভের হিসেব মেলে না। এই সব কারণ মিলিয়ে কোনও ব্রডকাস্টার ঝুঁকি নিতে নারাজ।
সময় ফুরোচ্ছে, সমাধান নেই
পরিস্থিতি এখনও অমীমাংসিত। দু’মাসের মধ্যে কেউ স্বত্ব না কিনলে ভারতের দর্শকদের জন্য অফিশিয়াল লাইভ কভারেজও নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্তিনা, রোনাল্ডোর পর্তুগাল, এমবাপের ফ্রান্স—সব থাকবে। দেখা যাবে কিনা, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।