চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির দাপটে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল লিভারপুল! ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনালের আশা এখন সুতোয় ঝুলছে। সালাহকে বেঞ্চে রাখা নিয়ে কেন বিতর্ক? অ্যানফিল্ডের ফিরতি লড়াইয়ের আগে বিস্তারিত পড়ুন।

দেজিরে দুয়ে
শেষ আপডেট: 9 April 2026 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠ জুড়ে একতরফা দাপট। বল পায়ে রাখা, আক্রমণ গড়া, চাপ তৈরি করা—রাতভর সবটাই করল প্যারিস সাঁ জারমাঁ (PSG)। লিভারপুল (Liverpool) আগাগোড়া ছোটাছুটিতে ব্যস্ত। চ্যাম্পিয়নস লিগের (UEFA Champions League) কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত আর্নে স্লটের টিম। উসমান ডেম্বেলেরা একগুচ্ছ সহজ সু্যোগ হেলায় না হারালে স্কোরলাইন ৫-০ কিংবা ৬-০ হতেই পারত। দ্বিতীয় লেগ আগামী মঙ্গলবার, অ্যানফিল্ডে। ঘরের মাঠে দুই গোলের ঘাটতি ঘোচানো—কাজটা প্রায় অসম্ভব।
মাত্র ১১ মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। দেজিরে দুয়ে (Desire Doue) বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। বল রায়ান গ্রাভেনবার্খের পায়ে লেগে লুপ করে জালে। গোলরক্ষক মামার্দাশভিলি (Giorgi Mamardashvili) কিছুই করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা একচুল বদলাল না। জোয়াও নেভেসের (Joao Neves) দুর্দান্ত পাসে খাভিচা কাভারেৎস্কেলিয়া (Khvicha Kvaratskhelia) গ্রাভেনবার্খকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পেরিয়ে নিখুঁত দক্ষতায়, ঠান্ডা মাথায় বল ঠেলে দিলেন জালে। ২-০! পিএসজি আরও গোল করতে পারত। একটা পেনাল্টি দেওয়া হয়—ভিএআর দেখে সেটা বাতিল করে। ডেম্বেলে পোস্টে মারেন। লিভারপুল স্রেফ ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায়।
কাভারেৎস্কেলিয়া নিজেই বললেন, ‘আরও গোল করা উচিত ছিল আমাদের। ২-০ ভাল স্কোরলাইন। তবে অ্যানফিল্ডে পরিবেশ ভয়ঙ্কর। সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু!’
মহম্মদ সালাহ (Mohamed Salah) মাঠে নামেননি। বেঞ্চে বসে দেখেছেন। কোচ আর্নে স্লট (Arne Slot) অফ ফর্মে থাকা তারকাকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক (Alexander Isak) ডিসেম্বরে পায়ে চোট পাওয়ার পর ফিরে এসেছেন, তাঁকেও শুরুতে রাখা হয়নি। স্লট ম্যাচের পর বললেন, ‘আমরা বেশিরভাগ সময় শুধু টিকে থাকার চেষ্টা করেছি। এই মুহূর্তে পুরো সিজনটাই আমাদের জন্য সারভাইভাল মোড। পিএসজি ভাল দল, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। তাই দ্বিতীয় লেগে এখনও সুযোগ রয়েছে!’
শেষ ছয় ম্যাচে মাত্র একটি জয়। পাঁচ দিন আগে ম্যান সিটির কাছে এফএ কাপে ৪-০-তে হারতে হয়েছে। লিভারপুলের কাছে সময়টা সত্যিই কঠিন। এর আগে গালাতাসারের মাঠে ১-০ হেরে ঘরের মাঠে ৪-০ জিতে নেন সালাহরা। এবার দুই গোলের ঘাটতি। সামনে শক্তিশালী পিএসজি। চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন।
এমনিতে অ্যানফিল্ডের পরিবেশ যে কোনো দলকে চাপে রাখে—এটা লুই এনরিকের ছেলেরাও বিলক্ষণ জানে। গত সিজনে একই মাঠে তারা ১-০ জিতেছিল। কিন্তু সেই ম্যাচে গোলপোস্টের নীচে ছিলেন গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার (Alisson Becker), দুর্দান্ত খেলেছিলেন! এবার তিনি নেই। তার উপর পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। ২০২৫ সাল থেকে ইংরেজ দলগুলোর বিরুদ্ধে এটি তাদের নবম জয়। পরিসংখ্যান, ফর্ম, ফলাফল—সবকিছু ডেম্বেলেদের পক্ষে। লিভারপুলের জন্য মঙ্গলবারের রাত হতে চলেছে সিজনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।