বুন্দেসলিগায় ইতিহাস গড়ল ইউনিয়ন বার্লিন! পুরুষ দলের হেড কোচের দায়িত্বে প্রথমবার একজন মহিলা। কে এই মারি-লুইস এতা? কঠিন সময়ে রেলিগেশন বাঁচাতে কেন তাঁর ওপর ভরসা করল ক্লাব? জার্মান ফুটবলের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

মারি-লুইস এতা
শেষ আপডেট: 12 April 2026 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় খুব কম। হাতে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ। সামনে টিকে থাকার লড়াই। ঠিক এই মুহূর্তটাই দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বেছে নিল ইউনিয়ন বার্লিন (Union Berlin)। বুন্দেসলিগার (Bundesliga) ইতিহাসে প্রথমবার—ছেলেদের টিমে হেডকোচের কুর্সিতে একজন মেয়ে! দায়িত্ব পেলেন মারি-লুইস এতা (Marie-Louise Eta)। শুধু প্রতীকী ঘোষণা নয়। বিশেষজ্ঞদের নজরে, এটা আগামীতে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ, ‘ইতিহাস’ নয়—এখন বার্লিনের কাছে সবচেয়ে বড় শব্দ ‘ভেসে থাকা’!
৩-১ গোলে হাইডেনহাইমের (Heidenheim) কাছে পরাজয়ের পরই বিদায় পূর্বতন কোচ স্টেফেন বাউমগার্টের (Steffen Baumgart)। সিদ্ধান্ত আচমকা মনে হলেও ভেতরে ভেতরে জমছিল ক্ষোভ। শীতকালীন বিরতির পর ১৪ ম্যাচে মাত্র ২ জয়। পারফরম্যান্সে ধার নেই। ফলাফলে উধাও স্থিরতা। স্পোর্টিং ডিরেক্টর হর্স্ট হেল্টের (Horst Heldt) পরিষ্কার মন্তব্য—‘ফলাফল আর পারফরম্যান্স আমাদের ভরসা দেয়নি। তাই নতুন শুরু দরকার!’ অর্থাৎ, সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। তাৎক্ষণিক বদল—এটাই ছিল একমাত্র পথ।
মারি-লুইস এতা হঠাৎ উঠে আসা মুখ নন। বরং, এই গুরুদায়িত্ব তাঁর দীর্ঘ পথচলার পরের ধাপ। ২০২৩ সালে হন বুন্দেসলিগা ও ইউরোপের টপ-৫ লিগের প্রথম মহিলা সহকারী কোচ। পরের বছর যখন নেনাদ বিয়েলিৎসা (Nenad Bjelica) সাসপেন্ডেড, তখন তুলে নেন মিডিয়া ব্রিফিংয়ের দায়িত্ব। কাজ করেছেন ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে। সব মিলিয়ে সিস্টেম চেনা। খেলোয়াড়দের বোঝেন। অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় দখল পোক্ত। তাই বাইরে থেকে কাউকে না এনে, ‘ঘরের’ মানুষকেকেই বার্লিন ভরসা করল।
লিগ টেবিলে ইউনিয়ন এখন ১১ নম্বরে। শুনতে স্বস্তির। কিন্তু বাস্তব ছবিটা অন্য। রেলিগেশন জোন থেকে দূরত্ব মাত্র ৭ পয়েন্ট। নিচে সেন্ট পাউলি (St. Pauli)। হেল্ট নিজেই স্বীকার করেছেন, ‘টেবিল দেখে ভুল বোঝার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি বিপজ্জনক। আমাদের পয়েন্ট দরকার, এখনই।’ অর্থাৎ, কঠিন মুহূর্তে কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়—প্রতিটি ম্যাচই এখন ফাইনাল।
আগামী সিজনে মহিলা দলের কোচ হওয়ার কথা ছিল এতার। কিন্তু সময় এগিয়ে এল। এবার সরাসরি পুরুষ টিমের দায়িত্ব। সামনে পাঁচ ম্যাচ। এই পাঁচ ম্যাচই ঠিক করবে—এটা শুধু প্রতীকী নিয়োগ, নাকি সত্যিই নতুন দিশার ইঙ্গিত? ইউনিয়নের জন্য এটা জুয়া। এতার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ।