সদ্য বাবাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হলেও, অরুণ ডার্বি মিস করার কথা ভাবেননি এক মুহূর্তও।

অরুণ হালদার
শেষ আপডেট: 26 July 2025 18:59
মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল (Mohunbagan vs East Bengal) ম্যাচ মানেই সমর্থকদের (Fans) আবেগ। প্রিয় দলকে সমর্থন করতে মাঠে ছুটে যাওয়া, বাঁধ ভাঙা উল্লাস। সেখানে কোনও প্রতিবন্ধকতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
শনিবার কল্যাণীতে ছিল বহু প্রতীক্ষিত ডার্বি। সিএফএল-এর (CFL) এই ম্যাচ ঘিরে ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। সবুজ-মেরুন আর লাল-হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামলেন দুই দলের ফুটবলাররা, আর মাঠের বাইরে তাঁদের জন্য প্রার্থনা, উত্তেজনা আর আনন্দ-বিষাদের স্রোতে ভেসে গেল গোটা স্টেডিয়াম। সাধারণ ফুটবল পাগল মানুষের কাছে ডার্বি মানেই যেন একটা উৎসব। সেই আবেগকে আরও গভীর করে তুললেন নদিয়ার ফুলিয়ার বাসিন্দা, অন্ধ ইস্টবেঙ্গল ভক্ত অরুণ হালদার।
সদ্য বাবাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হলেও, অরুণ ডার্বি মিস করার কথা ভাবেননি এক মুহূর্তও। সাদা থান পরা, মুখে কাঁচা-পাকা গোঁফ-দাড়ি, কপালে লাল-হলুদ ফেট্টি বাঁধা অরুণ জানালেন, “এবার কল্যাণীতে প্রথম ডার্বি, আমি বহুবার ডার্বি দেখেছি। কিন্তু এই প্রথম আমাদের জেলায়। আমি গর্বিত। তাই চেয়েছিলাম ইতিহাসের সাক্ষী হতে।”
তাঁর বাবাও ছিলেন ফুটবলপ্রেমী, নিয়মিত খেলা দেখতেন। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ইস্টবেঙ্গলের প্রতি ভালবাসা একসঙ্গে মিশে গিয়েছে তাঁর জীবনে। তিনি বলেন, “মাকে যতটা শ্রদ্ধা করি, ইস্টবেঙ্গলকেও ততটাই করি।” অরুণ হালদারের মতো মানুষের ভালবাসাই প্রমাণ করে, “সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল।”