এই ম্যাচে কোনও দলই এগিয়ে থেকে নামে না। লড়াইটা ম্যাচের দিন মাঠে হয়।

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 17 October 2025 20:13
শনিবার সন্ধায় বাঙাল ও ঘটিতে ফের ভাগ হতে চলেছে বাংলা। আইএফএ শিল্ড ফাইনালে (IFA Shield Final) মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান (East Bengal vs Mohunbagan)। তাই নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে দিয়েছে। দুই দলই নিজেদের গ্রুপের সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে। কাল যুবভারতী স্টেডিয়ামে চলতি মরশুমে তৃতীয় বারের মতো মুখোমুখি হতে চলেছে দুই পড়শি ক্লাব।
গত কয়েক মরশুমে মেরিনার্স সমর্থকদের একটি স্লোগান খুব বিখ্যাত হয়েছিল, ‘যতবারই ডার্বি, ততবারই হারবি।’ কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্য। চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গল দুবার হারিয়েছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। প্রথমবার কলকাতা লিগে, সেখানে অবশ্য কোনও ক্লাবই প্রথম দল খেলায়নি। তবে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পূর্ণ শক্তির মোহনবাগানকে হারিয়ে সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা।
ময়দানে একটি প্রবাদ আছে, ডার্বিতে কোনও দলকেই এগিয়ে রাখা যায় না। মাঠে যারা নিজেদের নার্ভ ধরে রেখে পারফরম্যান্স করতে পারবে তারাই জিতবে। সেই কথাই এদিন মনে করিয়ে দিলেন দুই প্রধানের জার্সিতেই দাপিয়ে খেলা দুই ফুটবলার মেহতাব হোসেন ও অসীম বিশ্বাস (Mehatab Hossain, Sule Musah, Ashim Biswas)। দুজনেই দুই প্রধানের জার্সিতে প্রচুর ডার্বি ম্যাচ খেলেছেন। প্রাক্তন মিডফিল্ডার জেনারেল মেহতাব বললেন, “এই ম্যাচে কোনও দলই এগিয়ে থেকে নামে না। লড়াইটা ম্যাচের দিন মাঠে হয়। মোহনবাগান একই দল ধরে রেখেছে গত কয়েক বছর ধরে। ওদের বিদেশিরাও পরীক্ষীত। তবে ইস্টবেঙ্গলকে এবার অনেকটাই গোছানো লাগছে। কাল কী হবে বলতে পারছি না। যে দল নার্ভ ধরে রেখে ভাল খেলবে, তারাই জিতবে।”
লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুন দুই দলের জার্সিতেই ডার্বিতে গোল রয়েছে অসীম বিশ্বাসের। প্রাক্তন এই স্ট্রাইকার বললেন, “ডার্বি মানেই ফিফটি-ফিফটি। তবে এবার ইস্টবেঙ্গলের কন্ডিশন আগের থেকে ভাল। চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গল দুবার মোহনবাগানকে হারালেও শনিবার যে তারা এগিয়ে থেকে নামবে, এটা বলা উচিত নয়। যদিও এবার ইস্টবেঙ্গল ভাল খেলছে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, তারা ডায়মন্ড হারবারের কাছে হেরে গিয়েছে। এদিকে মোহনবাগানের বিদেশিদের দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরা এখনও ম্যাচ ফিট নন। কাল কোন দল জিতবে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত।”
এদিকে মেহতাব-অসীম ডার্বি ফিফটি বললেও ইস্টবেঙ্গলকেই এগিয়ে রাখছেন লাল-হলুদের ঘরের ছেলে অ্যালভিটো ডি কুনহা (Alvito D’ Cunha)। একটা কথাতেই যা বলার বুঝিয়ে দিয়ে বললেন “জয় ইস্টবেঙ্গল।” ঘানার সুলে মুসা (Sule Musah) বহুবছর ধরে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের মূল স্তম্ভ ছিলেন। মনে-প্রাণে তিনি চাইছেন ইস্টবেঙ্গল জিতুক। তবে তিনি একটি কথাই বারবার বলেছেন, “মাঠে নেমে কিন্তু খেলোয়াড়দেরই প্রমাণ করতে হবে।”