
বেঙ্গালুরুতে বিশেষ জনপ্রিয় এই রামেশ্বরম ক্যাফেটি - দ্য ওয়াল ফাইল।
শেষ আপডেট: 12 April 2024 21:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সস্তায় পুষ্টিকর অথচ খাঁটি দক্ষিণ ভারতীয় খাবার! বিশেষ করে, সুস্বাদু দোসা-ইডলির ওপরে ঘি ও মাখনের প্রলেপ। স্রেফ এইজন্যই সকাল থেকে সন্ধ্যা ভিড় উপচে পড়ত বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড এলাকার রামেশ্বরম ক্যাফের কাউন্টারে। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে গেলে লম্বা লাইন নিত্যদিনের ঘটনা। বিস্ফোরণের পরে নতুন করে ক্যাফে খুলতেও দেখা গেল, রসনাবিলাসীদের আগ্রহে এতটুকুও খামতি পড়েনি।
বয়স বেশি নয়। ২০২১ সালে রাঘবেন্দ্র রাও ও তাঁর স্ত্রী দিব্যা মিলে এই ক্যাফে বিপণি তৈরি করেন। রাঘবেন্দ্র পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। প্রায় ২০ বছর ছিলেন রেস্তোরাঁ ও খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ ইন্ডাস্ট্রিতে। দিব্যা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টান্ট। রীতিমত আমেদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের স্নাতক, বর্তমানে বেঙ্গালুরু-কেন্দ্রিক দক্ষিণ ভারত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টান্ট আঞ্চলিক পরিষদের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। তাঁরও ১২ বছরের ওপর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা। তুখোড় বাণিজ্যিক বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা-সম্পন্ন এই দম্পতির ইচ্ছে ছিল এমন একটা ক্যাফে তৈরি করা, যাতে মোটামুটি পকেটে বাড়তি চাপ না ফেলে সুস্বাদু নিরামিষ খাবার পাওয়া যাবে।
একইসঙ্গে বেঙ্গালুরুর দুই জায়গায় যাত্রা শুরু করেছিল 'রামেশ্বরম ক্যাফে'। নাম কেন 'রামেশ্বরম' রাখা হয়, এর পিছনেও রয়েছে মজার গল্প। রাঘবেন্দ্র ও দিব্যা, দুজনেরই পছন্দের রোল মডেল ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম। তাঁর জন্মস্থান তামিলনাড়ুর বিখ্যাত সৈকত-শহর রামেশ্বরম। তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েই ক্যাফের নাম রাখা হয় রামেশ্বরম ক্যাফে।
ক্যাফের জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশি ভাবতে হয়নি রাঘবেন্দ্রকে। শুরু থেকেই লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে ভিড়। সমালোচনাও এসেছিল। কিন্তু দমাতে পারেননি কেউ। সবক'টি ক্যাফেতে একইরকম পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ নিরামিষ খাবার রান্না হয়। দেওয়া হয় মোলায়েম ঘি বা মাখনের প্রলেপ। বিপণির হিসেব বলছে, বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিক্রিবাটা হয় এখানে। ব্র্যান্ডের মোট ভ্যালুয়েশন ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
Delighted to have breakfast at the reopened @RameshwaramCafe. We stand with our friends in India ????????! -HC Wong #RameshwaramCafe #RameshwaramCafeBlast pic.twitter.com/T6Tox9hNR8
— Singapore in India (@SGinIndia) March 15, 2024
সপ্তাহদুয়েক বন্ধ থাকার পর ফের খুলে যায় রামেশ্বরম ক্যাফে। দেখা যায়, ভিড়ে ভাঁটা পড়েনি একটুও। পাশে থাকার বার্তা আসতে শুরু করে দেশ-বিদেশ থেকে। এমনকি নতুন করে খোলার দিনে ক্যাফেতে প্রাতরাশ সারতে আসেন ভারতে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূত সাইমন ওং। এক্স হ্যান্ডলে ঘটনার সূত্র ধরে তিনি লেখেন, 'ভারতের বন্ধুদের সঙ্গে আমরা সবসময় আছি।'