উপবাসের সময় শরীরকে হালকা ও শক্তিশালী রাখতে খাবারের নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ (Healthy snacks)। মোরধন ধোকলা এই দিক থেকে বেশ উপযোগী।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 December 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি উপবাসে সময়ের স্বাস্থ্যকর খাবারের (Fasting Food) তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মোরধন ধোকলা (Mordhan Dhokla)। প্রচলিত ব্রত বা উপবাসের খাবারের ধারাকে বদলে এই ধোকলা এখন দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ঐতিহ্যবাহী ধাঁচ বজায় রেখে মডার্ন স্বাদ ও পুষ্টিকে একসঙ্গে তুলে ধরায় এটি কেবল উপবাসের জন্য নয়, স্বাস্থ্য সচেতন সাধারণ মানুষকেও আকৃষ্ট করছে। উৎসবের মরসুমে বা দিনের হালকা খাবার হিসেবে- মোরধন ধোকলা এক অনন্য বিকল্প হয়ে উঠেছে। সহজপাচ্য ও পুষ্টিগুণ এই পদটিকে সাধারণ খাবার থেকে জীবনশৈলীর অংশ করে তুলেছে; এ কারণেই এর চাহিদা বাড়ছে প্রতিদিনই।
মোরধন ধোকলা কী — পরিচিতি ও উপকরণ
মোরধন ধোকলা (Mordhan Dhokla) মূলত সামা চাল (শ্যামা চাল বা Barnyard millet) দিয়ে তৈরি একটি বাষ্পে সেদ্ধ করা স্পঞ্জি খাবার। সামা চাল — যা মিলেট (Millet recipes) পরিবারের এক প্রজাতি — অনেক জায়গায় ‘ব্রত-এর চাল’ বা ‘রোজার চাল’ নামে পরিচিত। এই চাল সাধারণত অনুর্বর জমিতে জন্মায় এবং ভাতের মতো রান্না করা হতে পারে বা দুধে পাকা করে পায়েসও তৈরি করা যায়। ঢোকলার এই সংস্করণটি ঐতিহ্যগত ঢোকলার মতোই নরম ও ফাঁপা, কিন্তু সামা চাল ব্যবহার হওয়ায় এটিকে বিশেষভাবে উপবাসের উপযোগী বলা যায়।
উপবাসের দিনগুলিতে মোরধন ঢোকলার গুরুত্ব
উপবাসের সময় শরীরকে হালকা ও শক্তিশালী রাখতে খাবারের নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ (Healthy snacks)। মোরধন ধোকলা এই দিক থেকে বেশ উপযোগী:
বিভিন্ন ধর্মীয় ব্রত—নবরাত্রি, শিবরাত্রি, একাদশী ইত্যাদিতে বহু মানুষ ফল, দুধ বা নির্দিষ্ট শস্য খেতে পছন্দ করেন। এই সময় মোরধন ধোকলা একটি সুস্বাদু, পুষ্টিকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
মোরধন (সামা চাল) থেকে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা
সামা চাল বা মোরধন (barnyard millet) পুষ্টিগুণে ভরপুর। মোরধন ঢোকলার জনপ্রিয়তার পিছনে এসব স্বাস্থ্যগত সুবিধার বড় হাত আছে:
এই সব গুণ মিলে মোরধন ধোকলাকে শুধু উপবাসের খাবার নয়, প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর নাস্তারও একটি আকর্ষণীয় বিকল্পে পরিণত করেছে। বাষ্পে সেদ্ধ হওয়ায় এটি ভাজাভুজা খাবারের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
মোরধন ধোকলা কীভাবে বানাবেন
প্রধান উপকরণ: মোরধন (সামা চাল) আটা।
ঐতিহ্যগত ঢোকলার মতোই মিশ্রণে দই, আদা-লঙ্কা বাটা ও কিছু মশলা মেশান।
মিশ্রণটি গাঁজিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।
পরে মিশ্রণটিকে বাষ্পে সেদ্ধ করুন— ফলে ধোকলা হবে নরম ও স্পঞ্জি।
উপরে দিন সরষের বীজ, কড়াই পাতা ও হিং-এর ফোড়ন— এতে সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়ে।
ধোকলা তৈরির মূল কৌশল: মিশ্রণটিকে সঠিকভাবে গাঁজন করা এবং বাষ্পে সঠিকভাবে সেদ্ধ করা, যাতে টেক্সচার নরম ও তুলতুলে হয়।
বাজার চাহিদা ও খাদ্যশিল্পে প্রভাব
গত কয়েক বছরে ভারতীয় খাদ্যবাজারে স্বাস্থ্যকর ও ঐতিহ্যভিত্তিক খাবারের দিকে চাহিদা বেড়েছে। এই প্রবণতার ফলে মোরধন ঢোকলার চাহিদাও বাড়ছে। বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখন রেডি টু ইট মিক্স এবং রেডি-টু-ইট মোরধন ধোকলা বাজারে আনছে; অনলাইনেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে, যা জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে। শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এর চাহিদা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে ও ঐতিহ্যভিত্তিক খাবারের আধুনিক সংস্করণ খুঁজছে।
নিচে বাজারের চাহিদা বৃদ্ধির আনুমানিক তথ্য দেওয়া হল:
খাবারের ধরন ২০২২ সালের চাহিদা বৃদ্ধি ২০২৪ সালের চাহিদা বৃদ্ধি
স্বাস্থ্যকর মিলেট পণ্য ১৫% ২৫%
উপবাসের রেডি-টু-ইট খাবার ১০% ২০%
মোরধন ধোকলা মিক্স ৮% ১৮%
বিশেষজ্ঞদের মতামত
পুষ্টিবিদরা উপবাসে সঠিক খাদ্য নির্বাচন করার গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করেন। ডাঃ দিব্যা শর্মা, দিল্লির পুষ্টিবিদ, বলেন: উপবাসকালে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি—ফল, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য ও শুকনো ফল ভালো বিকল্প; আলু মতো ক্যালোরিতে ভরা খাবার সীমিত পরিমাণেই খাওয়া উচিত। পুষ্টিবিদের পরামর্শ হল, উপবাসের সময় এমন খাবার খাওয়া উচিত যা ভিটামিন- ও মিনারেল-চাহিদা পূরণ করে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখে।