
ছবিটি প্রতীকি
শেষ আপডেট: 20 February 2025 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়েট লিফট করতে গিয়ে 'সব শেষ'। ট্রেনারের চোখের সামনে প্রাণ গেল ভারতীয় অ্যাথলেট ইয়াস্তিকা আচার্যের। জিমে ট্রেনিং করার সময়ে তাঁর ঘাড়ে পড়ে যায় ২৭০ কেজির রড। সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয়। জিমে এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। কীভাবে জিম করলে এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে? জেনে নিন।
ওয়ার্ম-আপ জরুরি
কঠিন ব্যায়ামের আগে ৫-১০ মিনিটের ওয়ার্ম-আপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরকে প্রস্তুত করে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং আঘাতের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ওয়ার্ম-আপ করলে আঘাত লাগার পরিমাণ ও আশঙ্কা দুই কমে যায়।
সঠিক ফর্ম বজায় রাখা
ফিটনেস প্রশিক্ষক অভিষেক সিংহ বলেন, 'সঠিক ফর্ম ও কৌশল মেনে চলা জরুরি, নাহলে পেশি ও জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা আঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।'
ইগো লিফটিং থেকে বিরত থাকা
কিছু মানুষ অতিরিক্ত ওজন তোলার চেষ্টা করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন , নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে ওজন তোলা উচিত নয়।
প্রশিক্ষকের সাহায্য নেওয়া দরকার
ভারী ওজন তোলার সময় একজন দক্ষ প্রশিক্ষক থাকা আবশ্যক। প্রশিক্ষক বা অভিজ্ঞ কেউ পাশে থাকলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
যথাযথ জুতা পরা
জিমের উপযুক্ত গ্রিপ দেওয়া জুতা পরা জরুরি, যাতে ভারসাম্য বজায় রাখা যায় এবং পা পিছলে না যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কোয়াট বা ডেডলিফট করার সময় সঠিক জুতো না পরলে বিপদ হতে পারে।
সরঞ্জাম ব্যবহারে সতর্ক হওয়া
জিমের প্রতিটি সরঞ্জাম সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। স্কোয়াট করার সময় সেফটি বার ব্যবহার করা উচিত, যাতে ভারসাম্য হারিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। ব্যায়ামের আগে যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে সেট করা আছে কিনা, তা নিশ্চিত করে নিতে হবে।
বিশ্রামের গুরুত্ব
অতিরিক্ত অনুশীলন করলে পেশি যথেষ্ট বিশ্রাম পায় না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শরীরকে বিশ্রামের সময় দিতে হবে।
কোভিড পরবর্তী সময়ে কার্যত ব্যাঙের ছাতার মতো ইতিউতি গজিয়ে উঠেছে জিম। অনেকক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই জিম চলছে। নেই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ট্রেনারও। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যে থাকবে তা বলাবাহুল্য। তাই জিমে গিয়ে ওয়ার্কআউট শুরুর আগে জিমের পরিবেশ দেখে নিন। ওয়ার্কআউট করার সময় প্রশিক্ষককে জিজ্ঞাসা করে নিন কী করবেন, কত ওজন দিয়ে করবেন এবং সবসময় সতর্ক থাকুন।